সালসা সঙ্গীতের বিশিষ্ট ট্রম্বোনিস্ট ও অর্কেস্ট্রা নেতা উইলি কোলন শনিবার সকালে ৭৫ বছর বয়সে নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। পরিবার সামাজিক মাধ্যমে জানায়, তিনি প্রিয়জনের ঘনিষ্ঠ সান্নিধ্যে শান্তভাবে বিদায় নেন। মৃত্যুর কারণ এখনও প্রকাশিত হয়নি।
কোলন “এল মালো”, “ওহ, কী হবে”, “তালেন্তো দে টেলিভিশন” এবং “গিটানা”সহ বহু হিট গানের স্রষ্টা ছিলেন। ট্রম্বোনের সুরে তিনি স্যালসার স্বতন্ত্র রঙ যুক্ত করে বিশ্বব্যাপী শ্রোতাদের মুগ্ধ করেছেন। তার অর্কেস্ট্রা বহু দশক ধরে স্যালসা মঞ্চের প্রধান আকর্ষণ ছিল।
প্রায় ছয় দশকের দীর্ঘ ক্যারিয়ার জুড়ে কোলন স্প্যানিশ ভাষায় গান গেয়েছেন এবং গ্র্যামি পুরস্কারের মনোনয়নও পেয়েছেন। তার সঙ্গীতশৈলী জ্যাজ, মম্বো, জিবারা এবং চাচাচা উপাদানকে মিশিয়ে নতুন ধারা গড়ে তুলেছে। এই বৈচিত্র্যময় পদ্ধতি তাকে স্যালসার এক অগ্রদূত হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
বিলবোর্ড ম্যাগাজিন তার নামকে সর্বকালের সর্বাধিক প্রভাবশালী লাতিনো শিল্পীদের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করেছে। এই স্বীকৃতি কোলনের সঙ্গীতের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক গুরুত্বকে তুলে ধরে। তার রচনাগুলি শুধুমাত্র বিনোদন নয়, লাতিনো পরিচয়ের প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত হয়।
পরিবারের ফেসবুক পোস্ট এবং দীর্ঘদিনের ম্যানেজার পিয়েত্রো কার্লোসের সম্মানসূচক বার্তা থেকে কোলনের মৃত্যুর তথ্য প্রকাশ পায়। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন মিডিয়া এই সূত্রের ভিত্তিতে সংবাদ প্রকাশ করে। ম্যানেজার কোলনের সঙ্গীতকে “নিউ ইয়র্কের শব্দের স্থপতি” বলে উল্লেখ করেন।
বিবিসি কোলনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছে, তবে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। সংবাদ সংস্থাগুলি পরিবার ও ম্যানেজারের প্রকাশিত তথ্যের উপর ভিত্তি করে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
কোলন শুধুমাত্র গায়ক নয়, তিনি একজন অ্যানারেঞ্জার ও প্রযোজকও ছিলেন। তার সৃষ্টিতে পুয়ের্তো রিকানদের যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের দ্বন্দ্বপূর্ণ অনুভূতি প্রতিফলিত হয়েছে। তিনি সঙ্গীতের মাধ্যমে এই দ্বৈত পরিচয়ের সামাজিক প্রভাবকে অনুসন্ধান করেছেন।
লস এঞ্জেলেস ফিলারমনিকের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত জীবনীতে বলা হয়েছে, কোলনের রচনায় পুয়ের্তো রিকানদের ঘর ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের জটিলতা প্রকাশ পায়। তিনি সঙ্গীতকে একটি ভাষা হিসেবে ব্যবহার করে এই সমস্যাগুলি তুলে ধরেছেন। তার কাজগুলো সংস্কৃতিগত অবদানকে জোরালোভাবে উপস্থাপন করে।
নিউ ইয়র্কের লাতিনা সম্প্রদায়ে বড় হওয়া কোলনের শৈশবের পরিবেশ ছিল মাইগ্রেশন, রাস্তার জীবন এবং ক্যারিবিয়ান সুরে ভরা। এই পটভূমি তার সঙ্গীতের ভিত্তি গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। শহরের বহুমুখী সংস্কৃতি তার সুরে মিশে গিয়েছিল।
১৯৬০-এর দশকে যুক্তরাষ্ট্রে স্যালসা উদ্ভবের সময় কোলন জ্যাজ, মম্বো, জিবারা এবং চাচাচা উপাদানকে একত্রিত করে নতুন সুর তৈরি করেন। এই সমন্বয় স্যালসাকে একটি বৈশ্বিক ধারায় পরিণত করতে সহায়তা করে। তার অর্কেস্ট্রা এই যুগের প্রধান প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলোর একটি হয়ে ওঠে।
ম্যানেজার পিয়েত্রো কার্লোস কোলনের মৃত্যুকে “নিউ ইয়র্কের শব্দের স্থপতি” হারানোর দুঃখে প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, কোলনের সুরগুলো কেবল সঙ্গীত নয়, বরং প্রতিবেশ, সচেতনতা এবং প্রতিরোধের প্রতীক। তার রচনাগুলি প্রজন্মের পরিচয় গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
উইলি কোলনের প্রস্থান স্যালসা জগতের জন্য একটি বড় ক্ষতি, তবে তার সৃষ্টিগুলি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। সঙ্গীতের মাধ্যমে তিনি যে সামাজিক বার্তা ও সাংস্কৃতিক পরিচয় গড়ে তুলেছেন, তা আজও শোনার যোগ্য। তার উত্তরাধিকার স্যালসা প্রেমীদের হৃদয়ে চিরস্থায়ী থাকবে।



