মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইসরায়েল দূত মাইক হাকাবি শুক্রবারের একটি টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে ইসরায়েল যদি মধ্যপ্রাচ্যের বিশাল অংশ দখল করে, তা কোনো আপত্তি নেই বলে মন্তব্য করেন। এই বক্তব্য আল-জাজিরার রিপোর্ট অনুসারে প্রকাশিত হয়েছে। হাকাবি ইসরায়েলের সীমানা বাইবেলের ভিত্তিতে নির্ধারিত বলে দাবি করেন, যা ইরাকের ইউফ্রেটিস নদী থেকে মিশরের নীল নদ পর্যন্ত বিস্তৃত।
সাক্ষাৎকারটি প্রাক্তন ফক্স নিউজের হোস্ট টাকার কার্লসনের সঙ্গে অনুষ্ঠিত হয়। কার্লসন হাকাবির এই ধর্মীয় ভিত্তিক সীমানা সম্পর্কে প্রশ্ন তোলার পর, দূত ইসরায়েলকে “সবকিছু নেওয়া” ঠিক হবে বলে প্রকাশ্যে বলেন। হাকাবি বলেন, “যদি তারা সবকিছু নেয়, তা ঠিক হবে।”
টাকার কার্লসন হাকাবির এই মন্তব্যে অবাক হয়ে জিজ্ঞাসা করেন, তিনি কি সত্যিই পুরো অঞ্চলে ইসরায়েলের সম্প্রসারণকে সমর্থন করছেন। হাকাবি উত্তর দেন, ইসরায়েল কোনো সময়ে দখল করার ইচ্ছা প্রকাশ করেনি এবং তারা তা চায় না। তবে তিনি পরবর্তীতে নিজের মন্তব্যকে “কিছুটা অতিরঞ্জিত” বলে উল্লেখ করেন এবং এটিকে রূপক হিসেবে ব্যাখ্যা করেন।
হাকাবি আরও যোগ করেন, যদি ইসরায়েল বিভিন্ন দেশের আক্রমণের মুখে পড়ে এবং সেই যুদ্ধ জিতে ভূমি দখল করে, তবে তা আলাদা আলোচনার বিষয় হবে। তিনি এই সম্ভাব্য পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যান, যদিও স্পষ্ট করে বলেন যে তার পূর্বের মন্তব্য কোনো নীতি পরিবর্তন নির্দেশ করে না।
মাইক হাকাবি গত বছর ডোনাল্ড ট্রাম্পের নিযুক্তি পেয়ে ইসরায়েল দূত হিসেবে দায়িত্বে আছেন। তার এই মন্তব্যের আগে, জুন ২০২৫-এ তিনি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের নীতি আর লক্ষ্য নয় বলে মন্তব্য করে তীব্র বিতর্কের মুখে পড়েছিলেন। সেই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট স্পষ্ট করে জানায়, হাকাবির বক্তব্য তার ব্যক্তিগত মতামত এবং সরকারী নীতি নয়।
স্টেট ডিপার্টমেন্টের এই ব্যাখ্যা পুনরায় জোর দিয়ে বলা হয়েছে যে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্য নীতি ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং হোয়াইট হাউসের সিদ্ধান্তের অধীনে চলে। দূতের মন্তব্যের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের অফিসিয়াল অবস্থান পুনর্বিবেচনা করা হচ্ছে না, এবং কোনো নীতি পরিবর্তনের ইঙ্গিত নেই।
বিশেষজ্ঞরা ইসরায়েলি সম্প্রসারণের সম্ভাবনা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনের মধ্যে সম্পর্কের ওপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করছেন। হাকাবির ধর্মীয় ভিত্তিক সীমানা দাবি ইসরায়েলি সরকারকে কীভাবে প্রভাবিত করবে, তা এখনও অনিশ্চিত। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিবেশী দেশগুলো এই মন্তব্যকে ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
মার্কিন সরকার এই বিষয়টি নিয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য প্রকাশ করেনি, তবে স্টেট ডিপার্টমেন্টের প্রকাশনা স্পষ্ট করে যে নীতি নির্ধারণের চূড়ান্ত দায়িত্ব ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং হোয়াইট হাউসের হাতে। ভবিষ্যতে কোনো কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়া হলে তা সরাসরি প্রেসিডেন্টের নির্দেশনা অনুসারে হবে।
এই ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সম্পর্কের নতুন দিক উন্মোচন করতে পারে, বিশেষ করে যখন মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি জটিল। হাকাবির মন্তব্যের ফলে ইসরায়েলি সম্প্রসারণের সম্ভাবনা এবং আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া নিয়ে আলোচনা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
এই বিষয়টি চলমান কভারেজের অংশ, এবং পরবর্তী বিশ্লেষণ ও সরকারি বিবৃতি প্রকাশিত হলে তা অনুসরণ করা হবে।



