শুক্রবার রাত ১৮:০৫ GMT-এ বিবিসি লাইভে শীতকালীন অলিম্পিকের পুরুষ কার্লিং ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে ব্রুস মাউটের ব্রিটিশ দল ইতালির কর্টিনা শহরে কানাডার দলকে চ্যালেঞ্জ করবে। লক্ষ লক্ষ দর্শক টেলিভিশন, ট্যাবলেট, ল্যাপটপ ও মোবাইলে এই ম্যাচটি অনুসরণ করবে। এই প্রতিযোগিতা শীতকালীন অলিম্পিকের শেষ সপ্তাহের অন্যতম প্রধান ইভেন্ট হিসেবে বিবেচিত।
ক্যার্লিং প্রথমবার শীতকালীন অলিম্পিকে ১৯২৪ সালে অন্তর্ভুক্ত হয়, এবং সেই বছরই ব্রিটেনের পুরুষ দল স্বর্ণপদক জিতে ইতিহাস রচনা করে। তবে ১৯২৪‑এর পর থেকে ব্রিটিশ পুরুষরা স্বর্ণপদক অর্জনে অক্ষম রয়ে গেছে; শুধুমাত্র দুইবার তারা পডিয়ামে স্থান পেয়েছে। অন্যদিকে, ব্রিটিশ নারী দল ২০০২ ও ২০২২ সালে স্বর্ণপদক জিতেছে, যা দেশের কার্লিং ঐতিহ্যের একটি উজ্জ্বল দিক।
ব্রুস মাউটের রিঙ্ক ২০২২ বেইজিং শীত অলিম্পিকে স্বর্ণের বদলে রৌপ্য পায়, যেখানে সুইডেনের দল শেষ মুহূর্তে তাদের পরাজিত করে। পূর্বে ২০১৪ সোচি শীত অলিম্পিকে ব্রিটেনের দল চূড়ান্তে কানাডার দলকে হারিয়ে স্বর্ণপদক থেকে বঞ্চিত হয়, সেই সময় কানাডার স্কিপার ছিলেন ব্র্যাড জ্যাকবস। জ্যাকবসের নেতৃত্বে কানাডা আবারও শীতকালীন অলিম্পিকে শীর্ষে ফিরে আসার লক্ষ্যে প্রস্তুত।
ব্রিটিশ দলের মধ্যে বর্তমানে কোচ হিসেবে কাজ করা মাইকেল গুডফেলো এবং গ্রেগ ড্রামন্ড উভয়ই পূর্বে আন্তর্জাতিক কার্লিংয়ে সক্রিয় খেলোয়াড় ছিলেন। ডেভিড মুরডচ, যিনি একসময় ব্রিটেনের শীর্ষ খেলোয়াড়, বর্তমানে কানাডার হাই পারফরম্যান্স ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এই তিনজনের অভিজ্ঞতা ও কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গি বর্তমান ম্যাচে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এই মাসের রাউন্ড রবিনে কানাডা ইতিমধ্যে ব্রিটিশ কোয়ার্টেটকে পরাজিত করেছে, যা দু’দলের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা বাড়িয়ে দিয়েছে। রাউন্ড রবিনের ফলাফল উভয় দলের জন্য মনোবল বাড়ানোর পাশাপাশি কৌশলগত সমন্বয় করার সুযোগ দিয়েছে। এখন ফাইনালে উভয় দলই পূর্বের ফলাফলকে পেছনে ফেলে নতুন রেকর্ড গড়ার জন্য প্রস্তুত।
ম্যাচের আগে সুইডেনের দল কানাডার উপর ডাবল‑ট্যাপিং (দুটি পাথর একসাথে ছোঁয়া) নিয়ে অভিযোগ তুলেছে, যা ক্রীড়া নৈতিকতার লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত। এই অভিযোগের ফলে কোর্টিনার আইস রিঙ্কে তীব্র তর্ক ও তীব্র শব্দের আদানপ্রদান হয়েছে, এবং কানাডা পক্ষ থেকে প্রতিক্রিয়ায় স্টিং অপারেশন চালানোর দাবি করা হয়েছে। এই বিতর্ক কেবল ক্রীড়া পরিবেশকে নয়, দর্শকদের প্রত্যাশাকেও প্রভাবিত করেছে।
ক্যার্লিং ম্যাচের মূল আকর্ষণ হল প্রতিটি শটের সুনির্দিষ্টতা, পাথরের গতি ও ঘূর্ণন নিয়ন্ত্রণ, এবং স্ক্রিপারদের তীব্র ঝাড়ু চালানোর কৌশল। দর্শকরা ‘হার্ড’ ও ‘কার্ল’ শব্দের মাধ্যমে খেলোয়াড়দের নির্দেশনা শোনে, যা গেমের গতিবিদ্যা নির্ধারণ করে। এই সূক্ষ্ম কৌশলগত উপাদানগুলোই কার্লিংকে ‘শীতের শো’ হিসেবে জনপ্রিয় করে তুলেছে।
ফাইনালের ফলাফল শীতকালীন অলিম্পিকের সামগ্রিক র্যাঙ্কিংয়ে প্রভাব ফেলবে, বিশেষ করে ব্রিটেনের পুরুষ দল ১০২ বছর পর স্বর্ণপদক জিততে পারলে দেশের ক্রীড়া ইতিহাসে নতুন অধ্যায় যোগ হবে। অন্যদিকে, কানাডা যদি জয়লাভ করে, তবে তাদের দীর্ঘস্থায়ী কার্লিং শাসন বজায় থাকবে। উভয় দলের জন্যই এই ম্যাচটি পুনরুদ্ধার, গর্ব ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত।
পরবর্তী কার্লিং ইভেন্টগুলো ২৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে, যেখানে নারী ও মিশ্র দলগুলোও নিজেদের শীর্ষস্থান অর্জনের জন্য লড়াই করবে। অলিম্পিকের শেষ দিনগুলোতে ক্রীড়া উত্সাহীরা এই শীতের ক্রীড়া উৎসবের সমাপ্তি পর্যন্ত উত্তেজনা বজায় রাখবে।



