ভারতে অনুষ্ঠিত এআই শীর্ষ সম্মেলনে, ওপেনএআই সিইও সাম অল্টম্যান এআই প্রযুক্তির পরিবেশগত প্রভাব নিয়ে বাড়তে থাকা উদ্বেগের প্রতি সরাসরি মন্তব্য করেন। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই ইভেন্টে, তিনি এআই সিস্টেমের জলের ব্যবহার ও শক্তি খরচ সংক্রান্ত গুজবকে ‘মিথ্যা’ বলে খণ্ডন করেন এবং ভবিষ্যতে টেকসই শক্তি উৎসের দিকে দ্রুত অগ্রসর হওয়ার আহ্বান জানান।
সাম অল্টম্যান উল্লেখ করেন, পূর্বে ডেটা সেন্টারগুলোতে বাষ্পীভবন শীতলীকরণ পদ্ধতি ব্যবহার করা হতো, যা জলের ব্যবহার বাড়াতো। তবে বর্তমানে ঐ পদ্ধতি ত্যাগ করা হয়েছে, ফলে জলের ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। তিনি বলেন, ইন্টারনেটে ছড়িয়ে থাকা “প্রতি প্রশ্নে ১৭ গ্যালন জল ব্যবহার” বা অনুরূপ দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
এই ধরনের গুজবের প্রতি তার তীব্র সমালোচনা, এআই সেবার প্রতি জনসাধারণের ভুল ধারণা দূর করার উদ্দেশ্য প্রকাশ করে। সাম অল্টম্যান জোর দিয়ে বলেন, এআই সিস্টেমের জলের ব্যবহার নিয়ে করা তুলনা বাস্তবতার সঙ্গে কোনো সংযোগ রাখে না এবং তা অযৌক্তিক। তিনি আরও উল্লেখ করেন, এআই প্রযুক্তি এখন বিশ্বব্যাপী ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হওয়ায় মোট শক্তি খরচের ওপর দৃষ্টি দেওয়া যুক্তিযুক্ত।
মোট শক্তি ব্যবহারের উদ্বেগের ক্ষেত্রে, সাম অল্টম্যানের মতে, দ্রুত নুক্লিয়ার, বায়ু ও সৌর শক্তির দিকে রূপান্তর ঘটানো প্রয়োজন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এআই শিল্পের জন্য কোনো আইনগত বাধ্যবাধকতা নেই যে তারা কতটুকু শক্তি ও জল ব্যবহার করে তা প্রকাশ করবে। ফলে, স্বাধীন গবেষক ও বিজ্ঞানীরা স্বতন্ত্রভাবে এই তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করছেন।
ডেটা সেন্টারগুলোর ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ চাহিদা বিদ্যুৎ মূল্যের বৃদ্ধি ঘটাচ্ছে, যা ব্যবহারকারীদের উপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে। সাম অল্টম্যান এই বিষয়টিকে স্বীকার করে বলেন, এআই সেবার বিস্তৃতি এবং বিদ্যুৎ খরচের মধ্যে সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে, তবে তা সমাধানের জন্য শক্তি দক্ষতা বাড়ানো এবং নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার বাড়ানো জরুরি।
ইন্টারভিউতে, সাম অল্টম্যানকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে একটি চ্যাটজিপিটি প্রশ্নের শক্তি খরচ আইফোনের ১.৫ ব্যাটারি চার্জের সমান কিনা, যা বিল গেটসের সঙ্গে পূর্বে আলোচিত হয়েছিল। তিনি দৃঢ়ভাবে উত্তর দেন যে এমন কোনো তুলনা বাস্তবের কাছাকাছি নয় এবং চ্যাটজিপিটি একক প্রশ্নে এত বেশি শক্তি ব্যবহার করে না।
এআই সিস্টেমের শক্তি ব্যবহার নিয়ে তুলনা করার সময়, সাম অল্টম্যান মানব মস্তিষ্কের প্রশিক্ষণ প্রক্রিয়ারও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, একজন মানুষকে বুদ্ধিমান করতে প্রায় বিশ বছরের জীবন, খাবার ও শারীরিক শক্তি প্রয়োজন, এবং এই প্রক্রিয়ায় মানবজাতির শত কোটি বছরের বিবর্তনও ভূমিকা রাখে। তাই এআই মডেল প্রশিক্ষণের শক্তি খরচকে মানব প্রশিক্ষণের সঙ্গে তুলনা করা হলে, উভয় ক্ষেত্রেই বিশাল শক্তি ব্যয় হয়।
সাম অল্টম্যানের এই মন্তব্যগুলো এআই প্রযুক্তির পরিবেশগত প্রভাব নিয়ে চলমান বিতর্কে নতুন দৃষ্টিকোণ যোগ করেছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এআই সেবার ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শক্তি ব্যবহারের সামগ্রিক পরিমাণ বাড়বে, তবে তা নিয়ন্ত্রণের জন্য নীতি ও প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন অপরিহার্য। ভবিষ্যতে এআই শিল্পের টেকসই বিকাশ নিশ্চিত করতে, সরকার, শিল্প ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন, যাতে শক্তি ও জলের ব্যবহারকে সর্বোচ্চ মাত্রায় কমিয়ে আনা যায়।



