গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন ২১ ফেব্রুয়ারি শনিবার কুমিল্লা সার্কিট হাউজ মিলনায়তনে অধীন দপ্তর প্রধানদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা আয়োজন করেন। সভায় তিনি আইন অনুসারে নির্মাণ কাজ চালানোর প্রয়োজনীয়তা ও সরকারের অঙ্গীকার পুনরায় তুলে ধরেন।
মন্ত্রীর মতে, কোনো প্রকল্পই আইনের সীমা অতিক্রম না করে বাস্তবায়ন করা হবে এবং আইন ভঙ্গ করে কোনো স্থাপনা গড়ে তোলা যাবে না। তিনি জোর দিয়ে বললেন, সরকার আইন মেনে চলা ছাড়া কোনো পদক্ষেপ নেবে না এবং ভবিষ্যতে কোনো ব্যত্যয় রোধে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
অতীতের অবৈধ উচ্চ দালানগুলোকে ভেঙে ফেলা সম্ভব না হলেও, সেসব নির্মাণের মালিকদের উপর জরিমানা আরোপের কথা তিনি উল্লেখ করেন। আইন লঙ্ঘনকারীকে শাস্তি দেওয়া হবে, তবে ইতিমধ্যে গড়ে ওঠা অবৈধ কাঠামো ধ্বংসের পরিবর্তে আর্থিক শাস্তি প্রয়োগ করা হবে।
কুমিল্লা শহরের যানজটমুক্ত রাখতে বিশেষ পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা মন্ত্রী উল্লেখ করেন। তিনি জানান, ছোটবেলায় কুমিল্লা পরিবেশবান্ধব ছিল, কিন্তু বর্তমানে বড় অট্টালিকা ও অটো রিকশার সংখ্যা বেড়ে শহরের গতি ধীর হয়ে গেছে। সিটি কর্পোরেশনের সঙ্গে সমন্বয় করে শহরের পরিকল্পনা পুনর্গঠন করা হবে।
দীর্ঘমেয়াদি নগর উন্নয়নের জন্য মন্ত্রী শহরের সামগ্রিক নকশা ও অবকাঠামো উন্নয়নে নতুন কৌশল প্রণয়নের অঙ্গীকার প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, কুমিল্লা সুন্দর ও টেকসইভাবে গড়ে তুলতে পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের মধ্যে সমন্বয় বজায় রাখতে হবে।
সভায় কুমিল্লা গণপূর্ত বিভাগের অধীনে চলমান ও নতুন প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। দপ্তর প্রধানরা নির্মাণাধীন স্থাপনা, নতুন উদ্যোগ এবং চলমান কাজের অবস্থা সম্পর্কে মন্ত্রীর কাছে রিপোর্ট করেন।
গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী সরকারি কর্মচারীদের আবাসন ব্যবস্থা, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে থানা ভবন নির্মাণ এবং কুমিল্লা কারাগার উন্নয়নের বিষয়েও আলোচনা করেন। তিনি জানান, কর্মচারীদের বাসস্থানের প্রয়োজন মেটাতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অপব্যয় রোধ ও দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে, মন্ত্রী বলেন। পূর্বে স্থগিত বা বন্ধ থাকা প্রকল্পগুলোকে প্রয়োজনের ভিত্তিতে পুনরায় চালু করা হবে এবং তহবিলের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে।
কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারকে শহরের বাইরে স্থানান্তরের বিষয়ে মন্ত্রী কুমিল্লাবাসীর সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, সরকার এই স্থানান্তরের জন্য ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করেছে এবং যথাযথ পরিকল্পনা শুরু হয়েছে।
শেষে, জাকারিয়া তাহের সুমন আইন মেনে দালান নির্মাণের তাগিদ পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, অবৈধভাবে গড়ে ওঠা উচ্চ দালানগুলোকে ভেঙে ফেলা না হলেও, তাদের মালিকদের উপর জরিমানা আরোপের মাধ্যমে আইনের শাসন বজায় রাখা হবে। তিনি নিশ্চিত করেন, তার মেয়াদকালে আইন মেনে প্রকল্প বাস্তবায়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে এবং কুমিল্লা সহ দেশের অন্যান্য শহরে একই নীতি অনুসরণ করা হবে।



