স্টপ কিলিং গেমস আন্দোলন এখন শুধুমাত্র একটি অনলাইন প্রচার নয়; এর প্রতিষ্ঠাতা রস স্কট ইউটিউব ভিডিওতে জানিয়েছেন যে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রে দুটি স্বতন্ত্র অলাভজনক সংস্থা গঠন করা হবে। এই সংস্থাগুলো গেম প্রকাশকদের দ্বারা গেমের সাপোর্ট বন্ধ বা ডিলিস্টিংয়ের বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদী লবিং কার্যক্রম চালাবে।
রস স্কটের মতে, গেমের মালিকানা নিয়ে প্রকাশকদের একতরফা সিদ্ধান্তের ফলে গেমারদের অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, এবং নতুন এনজিওগুলো এই সমস্যার সমাধানে আইনগত কাঠামো তৈরি করতে সহায়তা করবে। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, এই সংস্থাগুলো স্টপ কিলিং গেমসের মূল পিটিশনকে ইউরোপীয় আইন হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার পাশাপাশি প্রকাশকদের অবৈধভাবে গেমের অ্যাক্সেস কেটে নেওয়ার জন্য একটি রিপোর্টিং সিস্টেমও স্থাপন করবে।
স্টপ কিলিং গেমস ক্যাম্পেইন প্রথমবারের মতো উবিসফটের “দ্য ক্রু” গেমটি প্লেয়ারদের লাইব্রেরি থেকে মুছে ফেলার পর উদ্ভূত হয়। এই সিদ্ধান্ত প্রকাশকদের গেমের ডিলিস্টিং নিয়ে একচেটিয়া ক্ষমতা রাখার বিষয়ে ব্যাপক উদ্বেগ সৃষ্টি করে। গেমারদের সমর্থনে এক মিলিয়নের বেশি স্বাক্ষর সংগ্রহের পর, ক্যাম্পেইনের নেতৃত্ব এখন পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে মনোনিবেশ করেছে।
ক্যাম্পেইনের নেতৃত্ব ইউরোপীয় কমিশনের সঙ্গে শীঘ্রই সাক্ষাৎ করার পরিকল্পনা করেছে। একই সঙ্গে তারা একটি পাঁচশো পৃষ্ঠার বিশদ আইনগত নথি প্রস্তুত করছে, যেখানে গেম ইন্ডাস্ট্রির বর্তমান কিছু বিতর্কিত প্র্যাকটিসের বিশ্লেষণ রয়েছে। এই নথি প্রকাশের মাধ্যমে শিল্পের স্বচ্ছতা বাড়িয়ে গেমারদের অধিকার রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় নীতি প্রস্তাব করা হবে।
উবিসফটের “দ্য ক্রু ২” গেমে অফলাইন মোড যুক্ত করার সিদ্ধান্তও এই ক্যাম্পেইনের প্রভাবের ফলাফল হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। গেমারদের অভিযোগের পর প্রকাশক গেমে নতুন ফিচার যোগ করে সমস্যার সমাধান করেছে, যা গেমারদের অধিকার রক্ষার জন্য সংগঠনের কার্যকারিতা প্রমাণ করে।
নতুন এনজিওগুলো ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে গেমের মালিকানা সংক্রান্ত আইনগত কাঠামোকে শক্তিশালী করতে কাজ করবে। বিশেষ করে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ডিজিটাল সিঙ্গল মার্কেট নীতি ও যুক্তরাষ্ট্রের কনজিউমার প্রোটেকশন আইনকে ব্যবহার করে গেমারদের অধিকারকে আইনি সুরক্ষা প্রদান করা হবে।
ক্যাম্পেইনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এনজিওগুলো গেম প্রকাশকদের বিরুদ্ধে লবিং চালানোর পাশাপাশি গেমারদের জন্য একটি স্বচ্ছ রিপোর্টিং প্ল্যাটফর্ম তৈরি করবে, যেখানে গেমের অ্যাক্সেস কেটে নেওয়া বা ডিলিস্টিংয়ের অভিযোগ নিবন্ধন করা যাবে। এই সিস্টেমের মাধ্যমে গেমারদের অভিযোগ দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে সমাধান ত্বরান্বিত করা সম্ভব হবে।
স্টপ কিলিং গেমসের প্রতিষ্ঠাতা রস স্কটের মন্তব্যে তিনি আশাবাদী যে গেমারদের অধিকার রক্ষার এই লড়াই শেষ পর্যন্ত সফল হবে। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, গেমাররা ইতিমধ্যে এক মিলিয়নের বেশি স্বাক্ষর দিয়ে এই আন্দোলনের সমর্থন প্রকাশ করেছে, যা নীতিনির্ধারকদের কাছে শক্তিশালী সংকেত পাঠাবে।
এই উদ্যোগের মাধ্যমে গেমারদের অধিকারকে আইনি রূপ দেওয়া এবং প্রকাশকদের একতরফা সিদ্ধান্তকে সীমাবদ্ধ করা সম্ভব হবে বলে ক্যাম্পেইন দল আশা প্রকাশ করেছে। তারা বিশ্বাস করে যে, দীর্ঘমেয়াদী লবিং এবং আইনি পদক্ষেপের মাধ্যমে গেমের মালিকানা সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান করা যাবে।
ক্যাম্পেইনের নেতৃত্বের মতে, ইউরোপীয় কমিশনের সঙ্গে আলোচনার সময় গেমারদের অধিকার রক্ষার জন্য প্রস্তাবিত আইনগত কাঠামো উপস্থাপন করা হবে। পাশাপাশি, যুক্তরাষ্ট্রে গেমারদের স্বার্থ রক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট আইনসভা ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।
স্টপ কিলিং গেমসের এই নতুন দিকটি গেম শিল্পে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন সূচিত করতে পারে। গেমারদের অধিকারকে আইনি সুরক্ষা প্রদান করে প্রকাশকদের একতরফা ডিলিস্টিংয়ের ঝুঁকি কমবে, ফলে গেমের দীর্ঘমেয়াদী সাপোর্ট নিশ্চিত হবে।
অবশেষে, ক্যাম্পেইনের লক্ষ্য কেবল গেমের ডিলিস্টিং বন্ধ করা নয়, বরং গেমারদের জন্য একটি ন্যায়সঙ্গত ও স্বচ্ছ পরিবেশ গড়ে তোলা। এই দৃষ্টিকোণ থেকে, ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে গঠন করা এনজিওগুলো গেম শিল্পের ভবিষ্যৎ গঠনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।



