২১ ফেব্রুয়ারি শনিবার বিকেলে দিনাজপুর-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও সমাজকল্যাণ, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, বাংলাহিলি পাইলট স্কুল ও কলেজ মাঠে স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে একটি মতবিনিময় সভা পরিচালনা করেন। সভায় তিনি সরকার বা নেতাদের ওপর দোষ চাপিয়ে দুষ্কর্ম করার কোনো সুযোগ না রাখার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
সভাপতি হিসেবে উপস্থিত থাকা স্থানীয় নেতারা হিলি অঞ্চলের বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে প্রশ্ন উত্থাপন করেন, যা মন্ত্রীকে তার দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট করতে সুযোগ দেয়। হিলি রেলস্টেশন ও সীমান্তবন্দরের উন্নয়নকে কেন্দ্র করে আলোচনায় বিভিন্ন দিক নিয়ে মতবিনিময় হয়।
মন্ত্রীর প্রধান বক্তব্যের মধ্যে অন্যতম ছিল, “কেউ দুষ্কর্ম করে যেন সরকারের ওপর দোষ চাপাতে না পারে” – তিনি এ কথা জোর দিয়ে বলেন যে, দুষ্কৃতিকারীদের ষড়যন্ত্র থেকে রক্ষা পেতে জনগণকে সতর্ক থাকতে হবে। এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি দুর্নীতি ও অবৈধ কার্যকলাপের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা প্রকাশ করেন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, হিলি অঞ্চলে কোনো ধরনের ষড়যন্ত্র বা গোপন পরিকল্পনা সফল হতে পারে না যদি জনগণ সচেতন ও সজাগ থাকে। এ জন্য তিনি স্থানীয় নেতৃত্বকে তথ্য শেয়ারিং ও তদারকি কার্যক্রমে সক্রিয় ভূমিকা নিতে আহ্বান জানান।
নির্বাচনের পর প্রথমবারের মতো মন্ত্রী তার নির্বাচনী জয়কে স্বীকৃতি দিয়ে সকল সমর্থককে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, “আপনাদের সমর্থনই আমাকে এই দায়িত্বে পৌঁছাতে সাহায্য করেছে” এবং ভবিষ্যতে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন।
মন্ত্রীর পরিকল্পনা অনুযায়ী হিলি স্থলবন্দরের আধুনিকায়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়ন, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং মাদক প্রতিরোধকে শীর্ষ অগ্রাধিকার হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই ক্ষেত্রগুলোতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
হিলি স্থলবন্দরের আধুনিকায়নের জন্য নতুন টার্মিনাল নির্মাণ, কাস্টমস প্রক্রিয়ার স্বয়ংক্রিয়করণ এবং লজিস্টিক্স সেবা উন্নত করার পরিকল্পনা রয়েছে। মন্ত্রী উল্লেখ করেন, এই উদ্যোগগুলো বাণিজ্যিক প্রবাহ বাড়িয়ে স্থানীয় অর্থনীতিকে উজ্জীবিত করবে।
কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য তিনি শিল্প পার্ক স্থাপন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগের জন্য আর্থিক সহায়তা এবং দক্ষতা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের উদ্বোধনের কথা বলেন। এ ধরনের পদক্ষেপের মাধ্যমে যুবকদের জন্য নতুন কাজের সুযোগ তৈরি হবে বলে তিনি আশাবাদী।
যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে হিলি অঞ্চলে নতুন রোড, সেতু এবং ডিজিটাল নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। মন্ত্রী বলেন, উন্নত সড়ক ও ইন্টারনেট সংযোগের মাধ্যমে ব্যবসা ও শিক্ষা ক্ষেত্রে সুবিধা বাড়বে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় স্থানীয় পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি, দ্রুত বিচার ব্যবস্থা এবং সম্প্রদায় ভিত্তিক নিরাপত্তা উদ্যোগ চালু করা হবে। মাদক প্রতিরোধে সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন এবং পুনর্বাসন কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠা পরিকল্পনা করা হয়েছে।
রেলস্টেশন সংক্রান্ত মন্ত্রী বিশেষভাবে উল্লেখ করেন, হিলি রেলস্টেশনে যাত্রীদের ওঠা-নামা এখন অনুমোদিত, তবে পণ্য পরিবহন সীমাবদ্ধ থাকবে। তিনি আশ্বাস দেন, শীঘ্রই এই সীমাবদ্ধতা দূর করে পণ্য রপ্তানি-আমদানি সহজতর করা হবে।
স্থানীয় নেতারা মন্ত্রীর পরিকল্পনার প্রশংসা করার সঙ্গে সঙ্গে বাস্তবায়নের গতি ও পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। তারা জোর দিয়ে বলেন, প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়মিতভাবে জনগণের কাছে জানাতে হবে যাতে স্বচ্ছতা বজায় থাকে।
মন্ত্রীর মতে, হিলি রেলস্টেশন ও সীমান্তবন্দরের উন্নয়ন প্রক্রিয়া আগামী ছয় মাসের মধ্যে সম্পন্ন হবে। তিনি উল্লেখ করেন, সকল সংশ্লিষ্ট বিভাগ একসঙ্গে কাজ করে সময়সূচি মেনে চলবে।
শেষে মন্ত্রী পুনরায় জনগণকে সতর্ক করেন, কোনো অবৈধ কার্যকলাপের ক্ষেত্রে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং দায়ী ব্যক্তিদের কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই উদ্যোগগুলো হিলি অঞ্চলের সামাজিক-অর্থনৈতিক উন্নয়নে মাইলফলক হবে এবং জনগণের জীবনের মানোন্নয়ন ঘটাবে।



