রমজান মাসে নামাজের পর মসজিদে বিতরণ করা বিনামূল্যের বিরিয়ানি ও তেহারির সময়সূচি এখন মোবাইলের মাধ্যমে অনুসন্ধান করা সম্ভব। ঢাকা ভিত্তিক এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী ২১ ফেব্রুয়ারি শনিবার রাতে ‘বিরিয়ানি দিবে’ নামের অ্যাপটি লাইভ করে ব্যবহারকারীদের জন্য এই তথ্য একত্রিত করেছে।
রমজানের ঐতিহ্যগত খাবার হিসেবে বিরিয়ানি ও তেহারির জনপ্রিয়তা বছর বছর বাড়ছে। মসজিদে নামাজের পর এই খাবারগুলো ভাগাভাগি করা শুধু পেট ভরাতে নয়, সামাজিক বন্ধন শক্তিশালী করতেও ভূমিকা রাখে। তাই সামাজিক মিডিয়ায় এই খাবারগুলোর ছবি, মিম ও রিলস নিয়মিত দেখা যায়।
‘বিরিয়ানি দিবে’ অ্যাপটি ব্যবহারকারীকে নির্দিষ্ট এলাকার মসজিদে কোন দিন, কোন সময় বিনামূল্যের খাবার সরবরাহ হবে তা দ্রুত জানার সুবিধা দেয়। ব্যবহারকারী শহর, পাড়া বা মসজিদের নাম দিয়ে অনুসন্ধান করলে সংশ্লিষ্ট সময়সূচি ও খাবারের ধরন (বিরিয়ানি/তেহারি) দেখা যায়।
অ্যাপের একটি বিশেষ ফিচার হল তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ের অপশন। ব্যবহারকারী যে তথ্য পায় তা সঠিক কিনা তা অ্যাপের মধ্যে সরাসরি চেক করতে পারে, ফলে ভুল তথ্যের বিস্তার রোধ হয়। এছাড়া লাইভ লোকেশন ফিচার যোগ করে মসজিদের ঠিকানা মানচিত্রে চিহ্নিত করা যায়।
প্রযুক্তিগত দিক থেকে অ্যাপটি ওয়েব ও অ্যান্ড্রয়েড উভয় প্ল্যাটফর্মে কাজ করে। ব্যবহারকারীকে কোনো নিবন্ধন প্রক্রিয়া ছাড়াই সরাসরি অনুসন্ধান করতে দেয় এবং নতুন তথ্য যোগ করতে চাইলে সহজে লোড করা যায়। ডেটা আপডেট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সার্ভার থেকে টেনে আনা হয়, ফলে সর্বশেষ তথ্যই প্রদর্শিত হয়।
এই প্রকল্পের স্রষ্টা হলেন আবদুল্লাহ আল জুবায়ের প্রিন্স, যিনি আন্তর্জাতিক ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস এগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনোলজি (IUBAT)-এর কম্পিউটার সায়েন্স ও ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে অধ্যয়নরত। তিনি এই আইডিয়াটিকে ‘ফান প্রজেক্ট’ হিসেবে শুরু করেন, তবে দ্রুতই ব্যবহারকারীর আগ্রহের কারণে এটি বৃহত্তর দৃষ্টিভঙ্গি পায়।
প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হল রমজানে খাবার বিতরণে স্বচ্ছতা আনা এবং দরকারি মানুষকে দ্রুত সঠিক তথ্য পৌঁছে দেওয়া। খাবার বিতরণে সময়মত তথ্য না থাকলে অনেক মানুষ সুযোগ মিস করে; এই অ্যাপটি সেই ফাঁকটি পূরণ করে। একই সঙ্গে খাবার বর্জ্য কমাতে সহায়তা করে, কারণ মসজিদগুলো তাদের স্টক পরিকল্পনা সহজে করতে পারে।
অ্যাপের প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। ব্যবহারকারীরা সহজে খাবারের সময়সূচি জানার সুবিধা নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে এবং নিজেদের এলাকায় তথ্য যোগ করার প্রস্তাব দিয়েছে। এই ধরনের ব্যবহারিক প্রযুক্তি স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে সহযোগিতা বাড়াতে পারে।
‘বিরিয়ানি দিবে’ অ্যাপের মাধ্যমে ভবিষ্যতে অন্যান্য ধর্মীয় বা সামাজিক অনুষ্ঠানে খাবার বিতরণের তথ্যও যুক্ত করা সম্ভব হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, ঈদ, শবদিবস বা দাতব্য ক্যাম্পেইনের সময় খাবার সরবরাহের তথ্য একত্রিত করে একই প্ল্যাটফর্মে প্রকাশ করা যেতে পারে।
প্রযুক্তি ও ধর্মীয় ঐতিহ্যের সংযোগ এই প্রকল্পকে বিশেষ করে তুলেছে। রমজানের পবিত্র মাসে খাবার ভাগাভাগি করার ঐতিহ্যকে ডিজিটালভাবে সংরক্ষণ ও সম্প্রসারিত করা সমাজে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি এনে দেয়।
অ্যাপটি এখনই ডাউনলোড করা যায় এবং ব্যবহারকারীরা সরাসরি মসজিদে গিয়ে বিনামূল্যের খাবারের স্বাদ নিতে পারেন। ভবিষ্যতে আরও বেশি মসজিদ ও স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হলে রমজানের খাবার বিতরণ আরও সুসংগঠিত হবে বলে আশা করা যায়।



