মার্কিন সরকার ও বাংলাদেশ সরকার ৯ ফেব্রুয়ারি পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করেছে, যা বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ দিনে সম্পন্ন হয়। চুক্তিতে দুই দেশের বাণিজ্যিক শর্তাবলীতে পরিবর্তন আনা হয়েছে, তবে রেটিফিকেশন প্রক্রিয়া এখনো অগ্রসর হয়নি।
স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে ঢাকা থেকে ভার্চুয়ালি অংশগ্রহণ করেন শাখা বশিরউদ্দীন, বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের বাণিজ্য উপদেষ্টা, এবং বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান। যুক্তরাষ্ট্রে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ডব্লিউটিও সেল দলের মহাপরিচালক খাদিজা নাজনীন নেতৃত্বে পাঁচজনের একটি দল।
চুক্তির মূল শর্তে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হল পাল্টা শুল্কের হার ২০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৯ শতাংশ করা হয়েছে। এছাড়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তুলা ব্যবহার করে তৈরি পোশাক পণ্যের রপ্তানিতে শুল্ক শূন্য করা হয়েছে, যা গার্মেন্টস শিল্পের জন্য বড় সুবিধা হিসেবে বিবেচিত।
বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান স্বীকার করেন, স্বাক্ষরের সময়ের জরুরি অবস্থা ও নির্বাচনের নিকটবর্তী সময়ের কারণে চুক্তি দ্রুত সম্পন্ন করা হয়। তিনি বলেন, স্বাক্ষরের সময় কোনো কৌশলগত উদ্দেশ্য ছিল না এবং সমালোচকরা বিষয়টি যথাযথভাবে না পড়ে মন্তব্য করছেন।
চুক্তি এখনও কার্যকর হয়নি, কারণ দুই দেশের সংসদে রেটিফিকেশনের জন্য অনুমোদন প্রয়োজন। এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত চুক্তির শর্তাবলী আইনগতভাবে প্রয়োগযোগ্য নয়। তাই বাংলাদেশ সরকারকে এখনো চুক্তি সম্পর্কে কোনো চূড়ান্ত অবস্থান প্রকাশ করা হয়নি।
সাম্প্রতিক সময়ে বাণিজ্য উপদেষ্টা ও নতুন পররাষ্ট্র মন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। তবে বাণিজ্য সচিবের মতে, চুক্তি বাতিলের সম্ভাবনা রয়েছে এবং ২৪ ফেব্রুয়ারির পর স্পষ্টতা আসবে।
বাণিজ্যিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায়, শুল্ক হ্রাস ও শূন্য শুল্কের সুবিধা গার্মেন্টস সেক্টরের রপ্তানি প্রতিযোগিতাকে বাড়াবে। বিশেষ করে কটন ভিত্তিক পোশাক উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো অতিরিক্ত খরচ কমে লাভ বাড়াতে পারবে। অন্যদিকে, শুল্ক হ্রাসের ফলে স্থানীয় উৎপাদনকারী কিছু পণ্যের উপর প্রতিযোগিতা তীব্র হতে পারে, যা বাজারে মূল্য পরিবর্তন আনতে পারে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করছেন, রেটিফিকেশন না হলে চুক্তির সুবিধা বাস্তবায়িত হবে না, ফলে ব্যবসায়িক পরিকল্পনা অনিশ্চিত থাকবে। যদি রেটিফিকেশন সম্পন্ন হয়, তবে পরবর্তী কয়েক মাসে গার্মেন্টস রপ্তানির পরিমাণে বৃদ্ধি প্রত্যাশিত, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রবেশের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে। তবে রাজনৈতিক পরিবর্তন ও নীতি পুনর্বিবেচনা চুক্তির স্থায়িত্বকে প্রভাবিত করতে পারে।
সারসংক্ষেপে, মার্কিন-বাংলাদেশ পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি শুল্কে পরিবর্তন এনে গার্মেন্টস শিল্পের জন্য সম্ভাব্য সুবিধা প্রদান করেছে, তবে রেটিফিকেশন অনিশ্চয়তা ও রাজনৈতিক পরিবেশের পরিবর্তন চুক্তির বাস্তবায়নকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে। ব্যবসা সংস্থাগুলোকে এই অনিশ্চয়তা বিবেচনা করে কৌশল নির্ধারণ ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা করা জরুরি।



