ক্যালিফোর্নিয়ার ক্লোভারডেলে ১৯৮২ সালে ১৩ বছর বয়সী সারাহ গিয়ার নামে এক কিশোরীকে হত্যা করা অপরাধের দায়ী ব্যক্তি, আধুনিক ডিএনএ বিশ্লেষণের মাধ্যমে চিহ্নিত হয়ে সোনোমা কাউন্টি জুরির সামনে দোষী সাব্যস্ত হয়েছে। ৬৪ বছর বয়সী জেমস ইউনিককে ৪৪ বছর পরই অপরাধের দায়ে ফাঁস করা হয়, এবং রায়ের দিনটি একই সঙ্গে সারাহর ৫৭তম জন্মদিনের সঙ্গে মিলে।
সারাহ গিয়ার ২৩ মে ১৯৮২ সন্ধ্যায় একটি বন্ধুর বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর অদৃশ্য হয়ে যায়। পরের দিন সকালে, একটি দমকলকর্মী একটি নিঃশব্দ গলিতে বেড়ার পেছনে তার মৃতদেহ আবিষ্কার করেন, যেখানে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছিল বলে অনুমান করা হয়। তদন্তে প্রকাশ পায় যে কিশোরীকে অপহরণ করে ধর্ষণ করা হয় এবং পরে হত্যা করা হয়।
প্রাথমিক তদন্তে ফরেনসিক প্রযুক্তির সীমাবদ্ধতার কারণে পুলিশ কোনো সন্দেহভাজনকে চিহ্নিত করতে পারেনি, ফলে মামলাটি দশকের পর দশক অমীমাংসিত ফাইলবন্দি হয়ে থাকে। ১৯৮০-এর দশকের শেষের দিকে ডিএনএ বিশ্লেষণ এখনো অপরাধ সমাধানে ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হতো না, তাই এই কেসে কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি।
২০২২ সালে ফেডারেল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই) ইউনিকের বাড়িতে পাওয়া একটি ফেলে দেওয়া সিগারেটের ফিল্টার সংগ্রহ করে। সিগারেটের ফিল্টারে লেগে থাকা ডিএনএকে ১৯৮২ সালে সংগ্রহ করা সারাহ গিয়ারের নমুনার সঙ্গে তুলনা করা হয়, এবং ফলাফল শতভাগ মিল দেখায়। একই প্রযুক্তি পূর্বে ‘গোল্ডেন স্টেট কিলার’ নামে পরিচিত অপরাধীকে ধরতে সহায়তা করেছে।
এই প্রমাণের ভিত্তিতে ইউনিককে গ্রেফতার করা হয়, তবে প্রথম শুনানিতে তিনি দাবি করেন যে তিনি সারাহকে কখনো চেনেন না। পরবর্তীতে আদালতে তার বক্তব্য পরিবর্তন করে তিনি বলেন যে কিশোরীর সঙ্গে তার স্বেচ্ছায় সম্পর্ক ছিল। বিচারক ও জুরি এই যুক্তি প্রত্যাখ্যান করে, কারণ প্রমাণ দেখায় যে সম্পর্কটি কোনো সম্মতিসূচক নয়।
সোনোমা কাউন্টি জুরি মাত্র দুই ঘণ্টার আলোচনার পর ইউনিককে খুনের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে। তাকে যৌন নিপীড়ন ও হত্যার মতো গুরুতর অপরাধের জন্য প্যারোলহীন যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। রায়ের পরপরই চূড়ান্ত সাজা ঘোষণার তারিখ নির্ধারিত হয়েছে, যা ২৩ এপ্রিল নির্ধারিত।
সারাহ গিয়ারের পরিবার এবং দীর্ঘ সময় ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় থাকা স্থানীয় সম্প্রদায় রায়কে ‘অম্লমধুর জয়’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। সোনোমা কাউন্টির জেলা অ্যাটর্নি উল্লেখ করেন যে, যদিও অপরাধীর শাস্তি কঠোর, তবে পরিবারকে শেষ পর্যন্ত ন্যায়বিচার পাওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য।
এই মামলায় ডিএনএ প্রযুক্তির ব্যবহার ভবিষ্যতে অনুরূপ পুরোনো কেসে নতুন দৃষ্টিকোণ আনতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা আশাবাদী। ফেডারেল ও রাজ্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এখনো অন্যান্য অমীমাংসিত কেসে একই পদ্ধতি প্রয়োগের পরিকল্পনা করছে।
অপরাধের পুনঃপর্যালোচনা এবং অতিরিক্ত প্রমাণ সংগ্রহের কাজ চলমান রয়েছে। আদালতে সাজা ঘোষণার পরেও, আইনগত দলগুলি সম্ভাব্য আপিল বা অতিরিক্ত দায়িত্বের বিষয়গুলো নিয়ে কাজ চালিয়ে যাবে।



