ফিফা ২০২৯ সালের জুন‑জুলাইতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ক্লাব বিশ্বকাপের দলসংখ্যা ৩২ থেকে বাড়িয়ে ৪৮ করতে চায়, তবে ইউরোপীয় ফুটবল সংস্থা ইউইফা এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছে। ফিফা সভাপতি জিয়ানি ইনফান্তিনো সম্প্রতি ব্রাসেলসে ইউইফা কংগ্রেসে অংশগ্রহণের সময় এই বিষয়টি উত্থাপন করেন, যেখানে উভয় সংস্থার প্রতিনিধিরা বিস্তৃত আলোচনায় লিপ্ত হন।
ক্লাব বিশ্বকাপের ঐতিহ্যগত রূপে শুধুমাত্র মহাদেশীয় চ্যাম্পিয়ন দলগুলোই অংশগ্রহণ করত। ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে ৩২ দল নিয়ে প্রথমবারের মতো বিস্তৃত সংস্করণ অনুষ্ঠিত হয়, যা ফিফার জন্য সন্তোষজনক ফলাফল এনে দেয়। সেই টুর্নামেন্টে ১৪ জুলাই ২০২৫ তারিখে গোল্ডেন বুটের পুরস্কার প্রদান করা হয়, যদিও বিজয়ীর নাম প্রকাশিত হয়নি।
ফিফা এখন মূল জাতীয় দলগুলোর বিশ্বকাপের মতোই ক্লাব টুর্নামেন্টের স্কেল বাড়াতে চায়। দলসংখ্যা ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি করে ৪৮ করা হলে, টুর্নামেন্টের সময়সীমা জুন‑জুলাই পর্যন্ত বিস্তৃত হবে এবং অংশগ্রহণের সুযোগ আরও বেশি ক্লাবের জন্য খুলে যাবে। এই পরিকল্পনা ফিফার দীর্ঘমেয়াদী কৌশলের অংশ, যেখানে ক্লাব স্তরের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা বাড়িয়ে গ্লোবাল ফুটবলের আকর্ষণ বৃদ্ধি করা লক্ষ্য।
ইউইফা এই সম্প্রসারণের সঙ্গে একমত নয়। সংস্থার নেতৃত্বের মতে, ক্লাব বিশ্বকাপের অতিরিক্ত দলসংখ্যা ইউরোপীয় ক্লাব ক্যালেন্ডারকে অতিরিক্ত চাপের মুখে ফেলতে পারে এবং বিদ্যমান প্রতিযোগিতার মান বজায় রাখা কঠিন হতে পারে। ইউইফা এই উদ্বেগ তুলে ধরে ফিফার প্রস্তাবের পুনর্বিবেচনা দাবি করে।
ব্রাসেলসের ইউইফা কংগ্রেসে ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনো ক্লাব বিশ্বকাপের পাশাপাশি সুপার লিগ এবং অন্যান্য বিষয়েও বক্তব্য রাখেন। তিনি উল্লেখ করেন যে ২০২৯ সালের ক্লাব বিশ্বকাপের সম্ভাব্য হোস্ট দেশ হিসেবে স্পেন ও মরক্কো বিবেচনা করা হচ্ছে। উভয় দেশই ২০২৯ সালের জাতীয় দলগুলোর বিশ্বকাপের আয়োজক, ফলে ক্লাব টুর্নামেন্টকে ‘টেস্ট রান’ হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে।
একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে টুর্নামেন্টের পুনরায় আয়োজনের সম্ভাবনাও উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৫ সালের সফল ৩২ দলীয় সংস্করণকে ভিত্তি করে, ফিফা দ্বিতীয়বারের মতো একই দেশে টুর্নামেন্টের আয়োজনের সম্ভাবনা বিবেচনা করছে। এই বিকল্পটি ইউইফার উদ্বেগকে কিছুটা কমাতে পারে, তবে ইউরোপীয় সংস্থার সমর্থন এখনও অনিশ্চিত।
ফিফা ও ইউইফার মধ্যে এই মতবিরোধের ফলে ক্লাব বিশ্বকাপের ভবিষ্যৎ রূপরেখা নির্ধারণে অতিরিক্ত আলোচনার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। উভয় সংস্থাই আন্তর্জাতিক ফুটবলের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, তাই সমন্বিত সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য পরবর্তী সভা এবং আলোচনা নির্ধারিত হয়েছে।
ক্লাব বিশ্বকাপের সম্প্রসারণ পরিকল্পনা, ইউইফার আপত্তি এবং সম্ভাব্য হোস্ট দেশগুলোর বিবেচনা একসাথে ফুটবলের গ্লোবাল কাঠামোকে কীভাবে প্রভাবিত করবে, তা সময়ই প্রকাশ করবে। বর্তমান পর্যায়ে ফিফা এবং ইউইফা উভয়ই নিজেদের অবস্থান দৃঢ় করে তুলতে এবং আন্তর্জাতিক ফুটবলের সামগ্রিক স্বার্থ রক্ষায় কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।



