গতরাতে প্রিমিয়ার লীগে চেলসি ও বার্নলির মুখোমুখি ম্যাচে ১-১ সমতা নিশ্চিত হয়েছে। চেলসির জোয়ো পেদ্রোর প্রাথমিক গোলের পর বার্নলি তাড়া চালিয়ে শেষ সময়ে সমান স্কোর করে।
প্রথমার্ধের মাত্র তিন মিনিটে চেলসির মোইসেস কাইসেডোর পাসে পেদ্রো নেটো দৌড়ে গিয়ে জোয়ো পেদ্রোর কাছে ক্রস দিল, যার শট দিয়ে বার্নলির রক্ষককে ছুঁয়ে গোল হয়। এতে চেলসির প্রারম্ভিক সুবিধা নিশ্চিত হয়।
দ্বিতীয়ার্ধে চেলসির ডিফেন্ডার ওয়েসলি ফোফানা লাল কার্ডে অবসর নিলেন, যা বার্নলির জন্য সমতা অর্জনের সুযোগ তৈরি করে। রেড কার্ডের পর চেলসির খেলোয়াড়রা সময় শেষ করার চেষ্টা করলেও, বার্নলি দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখায়।
বার্নলির জিয়ান ফ্লেমিং জেমস ওয়ার্ড-প্রসের কর্নার থেকে মাথা দিয়ে বলকে জালে পাঠিয়ে সমতা অর্জন করে। একই কর্নার থেকে জ্যাকব ব্রুন লারসেনও মাথা দিয়ে বলকে বারের ওপর পাঠিয়ে অতিরিক্ত সুযোগ তৈরি করলেও তা গোল না হয়ে শেষ হয়।
চেলসির কোচ লিয়াম রোজেনিয়র ম্যাচের শেষ পর্যায়ে সময় শেষ করার জন্য খেলোয়াড়দের পেছনে ঘুরিয়ে রাখলেও, ফ্লেমিংয়ের হেডার শেষ মুহূর্তে গন্তব্যে পৌঁছায়। ফলে চেলসির প্রাথমিক সুবিধা শেষ পর্যন্ত রক্ষা করতে পারেনি।
ম্যাচের আগে চেলসির চার দিন বিশ্রাম ছিল, যার মধ্যে কোলে পার্মার দুবাইতে শীতকালীন প্রশিক্ষণ সফরে ছিলেন। এ সময়ে দলটি কোনো প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ না খেলে বিশ্রাম নিয়েছে।
চেলসির মিডফিল্ডার এস্টেভাও হ্যামস্ট্রিং সমস্যার কারণে অনুপস্থিত ছিলেন, আর রোমেও লাভিয়া নভেম্বর থেকে ফিরে না আসায় বেঞ্চে ছিলেন। তিনি ভার্চুয়াল রিয়েলিটি ব্যবহার করে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রশিক্ষণ নিচ্ছিলেন বলে জানানো হয়েছে।
বার্নলির কোচ স্কট পার্কার পূর্বে ক্রিস্টাল প্যালেসের বিপক্ষে করা ফিরে আসার মতো একই দল বেছে নেন। তবে এ ম্যাচে শুধুমাত্র দুইজন খেলোয়াড়ই পূর্বের স্টার্টিং লাইনআপ থেকে বেঁচে ছিলেন, যা ফাইনাল স্কোয়াডকে সীমিত করে।
বার্নলি বর্তমানে অবনমন ঝুঁকির মুখে রয়েছে। পার্কার দলের পূর্বের পারফরম্যান্সে কিছুটা স্বস্তি পেয়েছিলেন, তবে এই সমতা দলকে পয়েন্টের দিক থেকে কিছুটা সান্ত্বনা দেয়।
চেলসির রোজেনিয়র প্রথমার্ধে দলের আক্রমণাত্মক স্বাচ্ছন্দ্য নিয়ে সন্তুষ্ট ছিলেন না, যদিও দলটি দ্রুত গতি ও স্বাধীনতা নিয়ে খেলছিল। তিনি মাঠের পাশে ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করে দলকে প্রেরণা দিতেন।
চেলসির আক্রমণকারী কোলে পার্মার পেশী সমস্যার কারণে হাল হাল করে খেলছিলেন, তবে তিনি প্রারম্ভিক পর্যায়ে আক্রমণাত্মক বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল। তার উপস্থিতি দলের আক্রমণকে সমর্থন করলেও শেষ পর্যন্ত গোল না করতে পারা দলকে প্রভাবিত করে।
বার্নলি প্রথমার্ধের মাঝামাঝি সময়ে আক্রমণাত্মক চাপ বাড়িয়ে তুলেছিল, যা চেলসির ডিফেন্সকে উদ্বিগ্ন করে তুলেছিল। তবে রেড কার্ডের পর দলটি দ্রুত সমতা অর্জনে মনোনিবেশ করে।
পরবর্তী ম্যাচে চেলসি ও বার্নলি উভয়ই তাদের লিগের অবস্থান উন্নত করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট সংগ্রহের লক্ষ্য রাখবে। উভয় দলের কোচই দলকে পরবর্তী গেমে আরও স্থিতিশীলতা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে উৎসাহিত করেছেন।



