ট্রাম্প প্রশাসন ভার্জিনিয়ার ইস্টার্ন ডিস্ট্রিক্টের ইন্টারিম ইউএস অ্যাটর্নি জেমস হান্ডলিকে, বিচারকরা তাকে নিযুক্ত করার মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরে, পদত্যাগের আদেশ জানায়। বিচারক প্যানেল শুক্রবার একমত হয়ে হান্ডলিকে অস্থায়ী ইউএস অ্যাটর্নি হিসেবে বেছে নেয়, তবে একই দিন ট্রাম্প প্রশাসনের উপ‑অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ এক্স‑এ লিখে জানায় যে বিচারকরা এই পদে আমাদের ইউএস অ্যাটর্নি বেছে নিতে পারে না; সিদ্ধান্তের শেষাংশে হান্ডলিকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
বিচারকরা হান্ডলিকে নিয়োগের ভিত্তি হিসেবে একটি আইন উল্লেখ করে, যা পূর্ববর্তী দায়িত্বধারীর মেয়াদ শেষ হলে নতুন ব্যক্তিকে অস্থায়ীভাবে নিযুক্ত করার অনুমতি দেয়। এই আইন অনুযায়ী তারা জেমস হান্ডলিকে, ত্রিশ বছরের বেশি অভিজ্ঞতা সম্পন্ন একজন অভিজ্ঞ লিটিগেটর, ইন্টারিম ইউএস অ্যাটর্নি হিসেবে নির্বাচন করে।
টড ব্ল্যাঞ্চের এক্স পোস্টে তিনি সংক্ষিপ্তভাবে উল্লেখ করেন, “ইডিভিএ বিচারকরা আমাদের ইউএস অ্যাটর্নি নির্বাচন করে না; তা প্রেসিডেন্টের কাজ। জেমস হান্ডলি, তোমাকে বরখাস্ত করা হল।” পোস্টটি প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচনার সূত্রপাত করে।
হান্ডলিকে পূর্বে এর্নিক সিবার্টের পদত্যাগের পর এই খালি পদ পূরণ করতে বেছে নেওয়া হয়েছিল; সিবার্ট সেপ্টেম্বর মাসে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চাপের ফলে পদত্যাগ করেন। সিবার্টের প্রস্থানের পর হান্ডলি এই দায়িত্বে অধিষ্ঠিত হন, যদিও তার নিয়োগ বিচারকদের অনুমোদন পেয়েছিল।
এই মাসে ট্রাম্প প্রশাসন একই ধরনের পদক্ষেপে আরেকজন বিচারক‑নিয়ুক্ত প্রোসিকিউটরকে হঠাৎ বরখাস্ত করেছে, যা প্রশাসনের নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
ন্যায়বিচার বিভাগ যুক্তি দেয় যে প্রেসিডেন্ট ও অ্যাটর্নি জেনারেল উভয়ই অস্থায়ী ইউএস অ্যাটর্নি নিয়োগের অধিকার রাখেন, আর বিচারকরা তাদের আইনগত ভিত্তি হিসেবে পূর্বের মেয়াদ শেষ হওয়ার ধারাকে উল্লেখ করে। তবে কিছু সমালোচক দাবি করেন যে এই পদ্ধতি সেনেটের অনুমোদন প্রক্রিয়াকে বাদ দেয় এবং সংবিধানিক ভারসাম্যকে ক্ষুণ্ণ করে।
ভার্জিনিয়ার পাশাপাশি নিউ ইয়র্ক, নিউ জার্সি, ক্যালিফোর্নিয়া ও নেভাডা আদালতগুলোও ট্রাম্প প্রশাসনের নির্বাচিত ইউএস অ্যাটর্নি‑দের অবৈধভাবে দায়িত্ব পালন করার রায় দিয়েছে। এই রায়গুলো প্রশাসনের ভবিষ্যৎ নিয়োগে আইনি চ্যালেঞ্জের সম্ভাবনা বাড়িয়ে তুলেছে।
হান্ডলি এই ঘটনার পর মিডিয়ার সঙ্গে একটি বিবৃতি শেয়ার করেন, যেখানে তিনি উল্লেখ করেন যে তিনি আদালত থেকে ইন্টারিম ইউএস অ্যাটর্নি হিসেবে নিযুক্ত হওয়া নিয়ে গর্বিত ছিলেন এবং প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্ত সত্ত্বেও তিনি দেশের ন্যায়বিচার ব্যবস্থাকে সমর্থন করতে এবং তার জন্য কাজ চালিয়ে যেতে ইচ্ছুক।
এই পদক্ষেপটি ট্রাম্প প্রশাসনের নিউ ইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমস এবং প্রাক্তন এফবিআই ডিরেক্টর জেমস কমি‑কে লক্ষ্য করে নেওয়া মামলাগুলোর সঙ্গে যুক্ত একটি বৃহত্তর রাজনৈতিক সংঘর্ষের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এদিকে, জানুয়ারি ২০২৫ থেকে ইস্টার্ন ডিস্ট্রিক্টের কার্যকরী অ্যাটর্নি হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী এর্নিক সিবার্ট, লেটিশিয়া জেমসের তদন্ত তদারকি করছিলেন, যা বর্তমান ঘটনায় অতিরিক্ত জটিলতা যোগ করেছে। ভবিষ্যতে এই বিষয়গুলো আদালতে পুনরায় আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে এবং ট্রাম্প প্রশাসনের অস্থায়ী নিয়োগের ক্ষমতা সীমাবদ্ধ হতে পারে।



