আইসিসি জানুয়ারির মাসের সেরা খেলোয়াড়ের তালিকায় বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের মিডল অর্ডার ব্যাটার সোবহানা মোস্তারি নাম যুক্ত করেছে। এই স্বীকৃতি তার সাম্প্রতিক টি‑টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বাছাই পর্যায়ে চমৎকার পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে দেওয়া হয়েছে।
নেপালে অনুষ্ঠিত নারী টি‑টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বাছাই টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ দল শিরোপা জিতেছে, আর সোবহানা সেই জয়ের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে উজ্জ্বল ছিলেন। টুর্নামেন্টের সব ছয়টি ম্যাচে তিনি ধারাবাহিকভাবে দৌড়াতে থাকেন।
সোবহানা মোট ২২৯ রান সংগ্রহ করেন, যার গড় ৪৫.৮০ এবং স্ট্রাইক রেট ১৪৫.৮৫। এই পরিসংখ্যান তাকে টুর্নামেন্টের শীর্ষ ব্যাটারদের মধ্যে রাখে এবং আন্তর্জাতিক স্তরে তার স্থিতি দৃঢ় করে।
বিশেষ করে, নেপালের এই টুর্নামেন্টে তিনি আন্তর্জাতিক টি‑টোয়েন্টি ক্রিকেটে প্রথম হাফ‑সেঞ্চুরি অর্জন করেন। এই মাইলফলক তার ক্যারিয়ারের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
থাইল্যান্ডের বিপক্ষে তার সর্বোচ্চ স্কোর ৪২ রান, যেখানে তিনি এক ছক্কা ও নয়টি চারে আঘাত করেন। এই ইনিংসটি তার ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ স্কোর হিসেবে রেকর্ডে যুক্ত হয়েছে।
সোবহানার পাশাপাশি আইসিসি মাসের সেরা খেলোয়াড়ের তালিকায় আয়ারল্যান্ডের গ্যাবি লুইস এবং যুক্তরাষ্ট্রের টারা নরিসের নামও রয়েছে। উভয় খেলোয়াড়ই টুর্নামেন্টে উল্লেখযোগ্য পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন।
গ্যাবি লুইস আয়ারল্যান্ডকে টুর্নামেন্টে নেতৃত্ব দিয়ে দলকে বিশ্বকাপের যোগ্যতা নিশ্চিত করতে সহায়তা করেছেন। তার ক্যাপ্টেনশিপ এবং ব্যাটিং দক্ষতা দলকে গুরুত্বপূর্ণ জয় এনে দিয়েছে।
টারা নরিসের বোলিং পারফরম্যান্সও প্রশংসনীয়; তিনি টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ ১৫ উইকেট নেন, যা তাকে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি করে তুলেছে। তার গতি ও লাইন টার্গেটের সঠিকতা প্রতিপক্ষের ব্যাটিংকে কঠিন করে তুলেছে।
আইসিসি মাসিক সেরা খেলোয়াড়ের নির্বাচনটি খেলোয়াড়ের সামগ্রিক পারফরম্যান্স, প্রভাব এবং ধারাবাহিকতা বিবেচনা করে করা হয়। সোবহানার এই স্বীকৃতি তার ব্যক্তিগত অর্জনই নয়, পুরো বাংলাদেশ নারী ক্রিকেটের উত্থানকে নির্দেশ করে।
সোবহানা এই স্বীকৃতি পেয়ে ভবিষ্যৎ সিরিজে আরও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে মাঠে নামবেন বলে আশা করা হচ্ছে। তার ধারাবাহিকতা এবং নেতৃত্বের ভূমিকা বাংলাদেশ নারী ক্রিকেটের আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানকে শক্তিশালী করবে।



