ডোনাল্ড ট্রাম্প ১৫ শতাংশের নতুন শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিলেন, যা ২৪ ফেব্রুয়ারি কার্যকর হবে এবং প্রায় পাঁচ মাসের জন্য সীমাবদ্ধ থাকবে। এই সিদ্ধান্ত মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক রায়ের পর নেওয়া হয়েছে, যা তার পূর্ববর্তী আমদানি শুল্ক বাতিল করেছে। শুল্কের প্রয়োগের সময়সীমা শেষ হলে কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন হবে।
মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের রায়ে পূর্বে ঘোষিত আমদানি শুল্ককে অবৈধ ঘোষণা করা হয়, ফলে ট্রাম্পের প্রশাসন শুল্ক নীতি পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য হয়। রায়টি যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য নীতি এবং আন্তর্জাতিক চুক্তির সঙ্গে সামঞ্জস্যের প্রশ্ন তুলেছিল। এই আইনি পদক্ষেপের পর ট্রাম্পের দল দ্রুত বিকল্প পরিকল্পনা প্রস্তুত করে।
শুক্রবার ট্রাম্পের অফিসিয়াল বিবৃতিতে তিনি ১০ শতাংশের নতুন শুল্ক প্রস্তাব করেন, যা পূর্বের বাতিল শুল্কের পরিবর্তে প্রয়োগ করা হবে। এই প্রস্তাবটি সব আমদানি পণ্যের উপর সমানভাবে প্রযোজ্য হবে বলে জানানো হয়। তবে এই প্রস্তাবের পরেও কিছু ব্যবসায়িক গোষ্ঠী অতিরিক্ত পদক্ষেপের দাবি করে।
শুক্রবারের প্রস্তাবের মাত্র এক দিন পরে, ট্রাম্প সত্য সোশ্যালের মাধ্যমে শুল্কের হার ১৫ শতাংশে বাড়ানোর ঘোষণা দেন। তিনি উল্লেখ করেন যে এই বৃদ্ধি সব পণ্যের উপর সমানভাবে প্রযোজ্য হবে এবং তা দ্রুত কার্যকর করা হবে। এই পরিবর্তনটি তার পূর্বের ১০ শতাংশের পরিকল্পনাকে বাতিল করে নতুন নীতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।
শুল্কের নতুন হার ২৪ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার থেকে কার্যকর হবে এবং তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে সকল আমদানি পণ্যের উপর প্রয়োগ হবে। প্রশাসন জানিয়েছে যে শুল্কের সংগ্রহের প্রক্রিয়া কাস্টমস ও বর্ডার প্রোটেকশন এজেন্সি দ্বারা পরিচালিত হবে। এই ব্যবস্থা যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বাজারে মূল্য পরিবর্তনের সম্ভাবনা বাড়িয়ে তুলতে পারে।
শুল্কের সময়সীমা প্রায় পাঁচ মাসের জন্য নির্ধারিত, যার পরে প্রশাসনকে কংগ্রেসের অনুমোদন নিতে হবে। এই সময়সীমা শেষ হলে শুল্ক স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হবে, যদি না কংগ্রেস নতুন আইন পাস করে। তাই আইনসভা সদস্যদের শুল্ক নীতি নিয়ে আলোচনা এবং ভোটের প্রস্তুতি নিতে হবে।
নতুন শুল্কের আওতায় সব ধরণের পণ্য, কাঁচামাল থেকে শেষ পণ্য পর্যন্ত, যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সময় অতিরিক্ত ১৫ শতাংশের কর আরোপিত হবে। এই নীতি কোনো পণ্যের ধরণ বা মূল্যের ওপর বিশেষ ছাড় দেয় না। ফলে আমদানিকৃত পণ্যের মূল্যে সামগ্রিক বৃদ্ধি প্রত্যাশিত।
প্রশাসন জানিয়েছে যে শুল্কের প্রয়োগের পর বাজারের প্রতিক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় সমন্বয় করা হবে। কাস্টমস বিভাগ শুল্ক সংগ্রহের সঠিকতা এবং সময়মতো প্রয়োগ নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা করেছে। একই সঙ্গে বাণিজ্য অংশীদারদের সঙ্গে আলোচনার দরজা খোলা থাকবে।
এই শুল্ক নীতি ট্রাম্পের পূর্ববর্তী বাণিজ্যিক পদক্ষেপের ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে তিনি আমদানি পণ্যের উপর উচ্চ শুল্ক আরোপের মাধ্যমে দেশীয় শিল্প রক্ষা করতে চেয়েছেন। তবে এইবার শুল্কের হার এবং সময়সীমা স্পষ্টভাবে নির্ধারিত, যা পূর্বের অনিশ্চয়তা কমাতে লক্ষ্য।
বাণিজ্য বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন যে শুল্কের বৃদ্ধি আমদানিকৃত পণ্যের দামের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলবে, যা শেষ গ্রাহকের কাছে উচ্চ মূল্যে পৌঁছাতে পারে। বিশেষ করে ভোক্তা পণ্য এবং কাঁচামালের ওপর প্রভাব বেশি হতে পারে। তবে সরকার এই শুল্ককে দেশীয় উৎপাদন বাড়ানোর একটি উপায় হিসেবে উপস্থাপন করেছে।
প্রশাসন শুল্কের প্রয়োগের পর বাজারের মূল্য পরিবর্তন এবং সরবরাহ শৃঙ্খলের ওপর প্রভাব নিয়মিতভাবে রিপোর্ট করবে। এই রিপোর্টগুলো কংগ্রেসের সদস্য এবং নীতিনির্ধারকদের সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য অংশীদারদের সঙ্গে আলোচনার জন্য তথ্যভিত্তিক পটভূমি সরবরাহ করা হবে।
কংগ্রেসের অনুমোদন প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আইনসভা সদস্যদের শুল্কের অর্থনৈতিক প্রভাব এবং রাজনৈতিক প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে বিতর্কে যুক্ত হতে হবে। অনুমোদন না পেলে শুল্ক স্বয়ংক্রিয়ভাবে শেষ হবে, ফলে আমদানি নীতি পুনরায় সমন্বয় করতে হবে। এই পর্যায়ে রাজনৈতিক সমঝোতা এবং নীতি সমন্বয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সারসংক্ষেপে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন ১৫ শতাংশ শুল্ক নীতি ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর হবে, পাঁচ মাসের জন্য সীমাবদ্ধ থাকবে এবং কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া চালু থাকবে না। এই পদক্ষেপটি মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর নেওয়া হয়েছে এবং সব আমদানি পণ্যের উপর সমানভাবে প্রয়োগ হবে। ভবিষ্যতে কংগ্রেসের সিদ্ধান্ত এই নীতির স্থায়িত্ব নির্ধারণ করবে।



