মার্কিন দূত মাইক হাকাবি শুক্রবার একটি টেলিভিশন আলোচনায় ইজরায়েলি সরকারের মধ্যপ্রাচ্যের বিশাল অংশ দখল করা হলে তা কোনো আপত্তি নয় বলে মন্তব্য করেন। এই বক্তব্য ইজরায়েলি সরকারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে প্রকাশিত হয়।
হাকাবি একজন ইভাঞ্জেলিকাল খ্রিস্টান এবং ইজরায়েলি সরকারের প্রতি দৃঢ় সমর্থক হিসেবে পরিচিত। তিনি গত বছর ডোনাল্ড ট্রাম্পের আদেশে ইজরায়েলি দূত হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হন।
আলোচনাটি পূর্বে ফক্স নিউজ-এ কর্মরত টাকার কার্লসনকে হোস্ট করা একটি প্রোগ্রামে অনুষ্ঠিত হয়। টাকার কার্লসন ইজরায়েলি সরকারের বর্তমান সীমানা সম্পর্কে প্রশ্ন তোলার সময় হাকাবি ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে উত্তর দেন।
হাকাবি ব্যাখ্যা করেন যে ইজরায়েলি সরকারের সীমানা বাইবেলের বর্ণনা অনুসারে নির্ধারিত, যেখানে ইউফ্রেটিস নদী থেকে নাইল পর্যন্ত অঞ্চল অন্তর্ভুক্ত। তিনি উল্লেখ করেন যে এই ঐতিহাসিক সীমা ধর্মীয় গ্রন্থে উল্লেখিত।
প্রশ্নের পরিপ্রেক্ষিতে হাকাবি বলেন, “যদি তারা পুরো অঞ্চলটি গ্রহণ করে, তবে তা ঠিক আছে।” এই মন্তব্যটি ইজরায়েলি সরকারের সম্ভাব্য ভূখণ্ড সম্প্রসারণের প্রতি তার অনুমোদন নির্দেশ করে।
টাকার কার্লসন হাকাবির এই মন্তব্যে বিস্মিত হয়ে জিজ্ঞাসা করেন, তিনি কি সত্যিই পুরো মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে ইজরায়েলি সরকারের বিস্তারকে সমর্থন করছেন? হাকাবি উত্তর দেন যে ইজরায়েলি সরকার কোনো দাবি করে না এবং তারা স্বেচ্ছায় কোনো অঞ্চল দখল করতে চায় না।
পরবর্তীতে হাকাবি তার মন্তব্যকে কিছুটা অতিরঞ্জিত বলে ব্যাখ্যা করেন, তবে তিনি যোগ করেন যে যদি ইজরায়েলি সরকার কোনো সংঘর্ষে জয়লাভ করে এবং সেই জয় থেকে ভূখণ্ড অর্জন করে, তবে তা আলাদা আলোচনার বিষয় হবে।
হাকাবি ২০২৫ সালের জুনে একবার প্রকাশ করেছিলেন যে স্বাধীন ফিলিস্তিনীয় রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা আর মার্কিন সরকারের নীতির অংশ নয়। এই মন্তব্যের পর মার্কিন সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয় যে তিনি ব্যক্তিগতভাবে কথা বলেছেন, সরকারী নীতি নয়।
মার্কিন সরকারের মুখপাত্র ট্যামি ব্রুস হাকাবির মন্তব্যকে নীতি পরিবর্তন হিসেবে বিবেচনা করা নিয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকার করেন এবং উল্লেখ করেন যে নীতি নির্ধারণের দায়িত্ব ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং হোয়াইট হাউসের।
হাকাবি আরও বলেন, সংস্কৃতি পরিবর্তন না হলে এমন কোনো বড় পরিবর্তনের জায়গা নেই এবং তিনি বিশ্বাস করেন যে এই ধরনের পরিবর্তন আমাদের জীবদ্দশায় ঘটবে না।
বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত দেন যে হাকাবির এই রকম প্রকাশনা ইজরায়েলি সরকারের সঙ্গে মার্কিন সরকারের সম্পর্ককে আরও ঘনিষ্ঠ করতে পারে, তবে একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের আরব দেশগুলোর মধ্যে উত্তেজনা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের নীতি কীভাবে গঠিত হবে এবং ইজরায়েলি সরকারের ভূখণ্ডগত লক্ষ্য কী হবে, তা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।



