একটি সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, নির্দিষ্ট কুকুরের জাতগুলোতে শ্বাসযন্ত্রের সমস্যার সম্ভাবনা সাধারণ জাতের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। গবেষণাটি যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি ভেটেরিনারি কলেজে পরিচালিত হয় এবং ফলাফলগুলো আন্তর্জাতিক কুকুর স্বাস্থ্য সংস্থার সঙ্গে শেয়ার করা হয়েছে।
ব্র্যাকিসেফালিক (মুখের গঠন ছোট) জাতের কুকুরগুলো, যেমন পাগ, ফরাসি বুলডগ, ইংলিশ বুলডগ এবং বস্টন টেরিয়ার, শ্বাসনালীর সংকোচন, নাকের গঠনগত ত্রুটি এবং গলা ও ফুসফুসে অতিরিক্ত চাপের কারণে শ্বাসকষ্টের শিকার হতে পারে। এই জাতগুলোতে শ্বাসযন্ত্রের সমস্যার প্রধান কারণ হল হাড়ের গঠন ও নরম টিস্যুর অস্বাভাবিক বিকাশ।
গবেষণায় দেখা গেছে, এই জাতের কুকুরগুলোতে শ্বাসযন্ত্রের সমস্যার লক্ষণগুলো প্রায়ই শৈশব থেকেই প্রকাশ পায়। ঘন ঘন হাঁচি, হুইসেলিং, শ্বাস নিতে কষ্ট, এবং গরমের সময় দ্রুত ক্লান্তি দেখা যায়। বিশেষ করে গরম ও আর্দ্র পরিবেশে এই লক্ষণগুলো তীব্র হয়, যা কুকুরের জীবনমানকে প্রভাবিত করে।
শ্বাসযন্ত্রের সমস্যার ফলে কুকুরের শারীরিক কার্যক্ষমতা সীমিত হতে পারে, ফলে দীর্ঘ সময়ের হাঁটা বা দৌড়ে ক্লান্তি দ্রুত আসে। এছাড়া, শ্বাসকষ্টের কারণে রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা কমে যায়, যা হৃদয় ও অন্যান্য অঙ্গের উপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে।
ব্র্যাকিসেফালিক এয়ারওয়ে সিনড্রোম (BAS) নামে পরিচিত এই রোগের চিকিৎসা প্রায়শই শল্যচিকিৎসা দ্বারা করা হয়। শল্যচিকিৎসায় নাকের গঠন সংশোধন, গলা ও ট্র্যাকিয়ার অতিরিক্ত টিস্যু অপসারণ এবং শ্বাসনালীর প্রশস্ততা বাড়ানো হয়। তবে শল্যচিকিৎসা না করলেও, ওজন নিয়ন্ত্রণ, নিয়মিত ব্যায়াম এবং তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে উপসর্গ কমানো সম্ভব।
গবেষণার ফলাফল অনুযায়ী, পাগ এবং ফরাসি বুলডগের ক্ষেত্রে শ্বাসযন্ত্রের সমস্যার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি, যেখানে বস্টন টেরিয়ার এবং ইংলিশ বুলডগের ঝুঁকি মাঝারি স্তরে রয়েছে। এই জাতের কুকুরের মালিকদের উচিত নিয়মিত ভেটেরিনারিয়ান চেক-আপ এবং শ্বাসযন্ত্রের স্বাস্থ্যের পর্যবেক্ষণ।
শ্বাসযন্ত্রের সমস্যার প্রাথমিক লক্ষণগুলো দ্রুত সনাক্ত করা গুরুত্বপূর্ণ। যদি কুকুরটি হঠাৎ শ্বাস নিতে কষ্ট পায়, ঘন ঘন হুইসেলিং শোনায়, অথবা গরমে অস্বাভাবিকভাবে ক্লান্ত হয়ে যায়, তবে অবিলম্বে পশু চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
মালিকদের জন্য কিছু সহজ পদক্ষেপ রয়েছে যা শ্বাসযন্ত্রের সমস্যার ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করে। প্রথমত, কুকুরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা উচিত, কারণ অতিরিক্ত ওজন শ্বাসনালীর উপর অতিরিক্ত চাপ বাড়ায়। দ্বিতীয়ত, গরমের সময় কুকুরকে ছায়া বা এয়ার-কন্ডিশনড ঘরে রাখুন এবং তীব্র শারীরিক কার্যক্রম সীমিত করুন। তৃতীয়ত, নিয়মিত ব্যায়াম ও সঠিক পুষ্টি শ্বাসযন্ত্রের স্বাস্থ্যের উন্নতিতে সহায়ক।
ভেটেরিনারিয়ানরা কুকুরের শ্বাসযন্ত্রের সমস্যার জন্য নির্দিষ্ট পরীক্ষা-নিরীক্ষা সুপারিশ করেন, যার মধ্যে রেডিওগ্রাফি, এন্ডোস্কোপি এবং শ্বাসের গতি মাপা অন্তর্ভুক্ত। এই পরীক্ষাগুলো সমস্যার প্রকৃতি ও তীব্রতা নির্ধারণে সহায়তা করে এবং যথাযথ চিকিৎসা পরিকল্পনা তৈরি করতে গুরুত্বপূর্ণ।
ব্র্যাকিসেফালিক জাতের কুকুরের জনপ্রিয়তা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শ্বাসযন্ত্রের সমস্যার সচেতনতা বৃদ্ধি প্রয়োজন। কুকুরের মালিকদের উচিত কুকুরের শারীরিক গঠন সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতা গ্রহণ করা।
সারসংক্ষেপে, নির্দিষ্ট কুকুরের জাতগুলোতে শ্বাসযন্ত্রের সমস্যার ঝুঁকি বেশি, তবে সঠিক যত্ন, নিয়মিত চেক-আপ এবং পরিবেশগত নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে এই ঝুঁকি কমানো সম্ভব। কুকুরের স্বাস্থ্যের প্রতি দায়িত্বশীল মনোভাব গ্রহণ করলে, এই প্রিয় সঙ্গীর দীর্ঘ এবং সুস্থ জীবন নিশ্চিত করা যাবে।
আপনার কুকুরের শ্বাসযন্ত্রের স্বাস্থ্যের ব্যাপারে কোনো সন্দেহ থাকলে, নিকটস্থ ভেটেরিনারিয়ান ক্লিনিকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করুন। আপনার সঙ্গীর স্বাস্থ্যের জন্য আজই কিছু ছোট পরিবর্তন করুন—আপনি কি প্রস্তুত?



