23.9 C
Dhaka
Sunday, February 22, 2026
Google search engine
Homeব্যবসাবাংলাদেশ সরকার মার্কিন সরকারকে চুক্তির অবস্থা জানার জন্য চিঠি পাঠাবে

বাংলাদেশ সরকার মার্কিন সরকারকে চুক্তির অবস্থা জানার জন্য চিঠি পাঠাবে

বাংলাদেশ সরকার মার্কিন সরকারকে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়ে ঢাকা‑ওয়াশিংটন পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তির বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে স্পষ্টতা চাইবে। যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপিত পাল্টা শুল্ক বাতিল হওয়ায় চুক্তির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। এই পদক্ষেপটি বাণিজ্যিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ দিক নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।

বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমানের মতে, চিঠিটি আগামী সোমবারের মধ্যে মার্কিন দপ্তরে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি এই তথ্যটি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানিয়েছেন। চিঠির মূল উদ্দেশ্য হল চুক্তির ‘স্ট্যাটাস’ স্পষ্ট করা।

ঢাকা ও ওয়াশিংটন ৯ ফেব্রুয়ারি স্বাক্ষরিত পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তিতে শুল্ক কাঠামো নির্ধারিত হয়েছে। সম্পূরক শুল্কের সর্বোচ্চ হার ১৯ শতাংশে সীমাবদ্ধ, আর মোট শুল্কের হার ৩৪ শতাংশে নির্ধারিত। এই শুল্ক ব্যবস্থা উভয় দেশের রপ্তানি-আমদানি পণ্যের উপর প্রযোজ্য।

চিঠিতে বাংলাদেশ সরকার স্পষ্টভাবে জানতে চায়, চুক্তির বর্তমান অবস্থা কী এবং শুল্ক বাতিলের পর কোন সমন্বয় করা হবে। তিনি উল্লেখ করেছেন, “চুক্তির স্ট্যাটাসটা কী হবে” এই প্রশ্নটি মূল বিষয়। এই জিজ্ঞাসা উভয় পক্ষের বাণিজ্যিক দায়বদ্ধতা নির্ধারণে সহায়ক হবে।

চুক্তির অধীনে মার্কিন সরকার বাংলাদেশ থেকে বোয়িংয়ের বিমান ক্রয়ের পাশাপাশি গম, তুলা ও সয়াবিনের মতো কৃষি পণ্যের আমদানি নিশ্চিত করেছে। এই পণ্যগুলো বাংলাদেশের রপ্তানি পোর্টফোলিওতে উল্লেখযোগ্য স্থান দখল করে। এ ধরনের পণ্যবিনিময় উভয় দেশের শিল্প ও কৃষি খাতের জন্য লাভজনক বলে বিবেচিত।

সাময়িক সরকার এই চুক্তিকে একটি কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে উপস্থাপন করেছে, তবে কিছু বিশ্লেষক ও ব্যবসায়িক গোষ্ঠী শর্তগুলোকে কঠোর বলে সমালোচনা করেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের নির্দিষ্ট শর্তাবলী কিছু ক্ষেত্রে বাংলাদেশের রপ্তানি সক্ষমতাকে সীমাবদ্ধ করতে পারে। এই সমালোচনা চুক্তির পুনর্মূল্যায়নের দাবি উত্থাপন করেছে।

মাহবুবুর রহমানের মতে, চুক্তির বেশিরভাগ ধারা বাংলাদেশে সুবিধাজনক, বিশেষ করে তুলা সংক্রান্ত নির্দিষ্ট চুক্তি অত্যন্ত অনুকূল। তিনি উল্লেখ করেন, “আমাদের কটন স্পেসিফিক ডিলটি আমাদের জন্য প্রচণ্ড ফেভারেবল ছিল”। অন্যান্য পণ্যের শর্তাবলী যদিও বিতর্কিত, তবু সামগ্রিকভাবে চুক্তি সুবিধাজনক বলে তিনি জোর দেন।

চুক্তিতে শ্রম মানদণ্ড, বৌদ্ধিক সম্পত্তি অধিকার এবং বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (WTO) নীতিমালা অনুসরণ করার প্রতিশ্রুতি অন্তর্ভুক্ত। বাংলাদেশ সরকার এই শর্তগুলোকে আন্তর্জাতিক মানের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হিসেবে তুলে ধরেছে। ফলে, বাণিজ্যিক পরিবেশে স্বচ্ছতা ও আইনি সুরক্ষা বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

চুক্তির অবস্থা স্পষ্ট না হলে গম, তুলা ও সয়াবিনের রপ্তানি পরিকল্পনা ও বিমানের অর্ডার সময়সূচি প্রভাবিত হতে পারে। বাজার বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন, শুল্কের পুনঃনির্ধারণ বা চুক্তির পুনরায় আলোচনা রপ্তানি আয়কে অস্থির করতে পারে। তাই বাংলাদেশ সরকার দ্রুত স্পষ্টতা চেয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যকে স্থিতিশীল রাখতে চায়।

যদি মার্কিন সরকার চুক্তির শর্তে পরিবর্তন আনে, তবে বাংলাদেশকে বিকল্প বাজার অনুসন্ধান বা বিদ্যমান রপ্তানি গন্তব্যে মূল্য সমন্বয় করতে হতে পারে। বিশেষ করে টেক্সটাইল ও কৃষি সেক্টরে মূল্য সংবেদনশীলতা বেশি, ফলে রপ্তানি দামের ওঠানামা শিল্পের লাভজনকতাকে প্রভাবিত করবে। এই পরিস্থিতিতে সরকারী নীতি সমন্বয় এবং রপ্তানি কৌশল পুনর্গঠন অপরিহার্য হয়ে দাঁড়াবে।

অবশেষে, বাংলাদেশ সরকার মার্কিন সরকারের দ্রুত উত্তর প্রত্যাশা করে, যাতে পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তির কার্যকারিতা বজায় থাকে এবং উভয় দেশের ব্যবসায়িক স্বার্থ রক্ষিত হয়। স্পষ্টতা পাওয়া গেলে বাণিজ্যিক পরিকল্পনা পুনরায় চালু হবে এবং বিনিয়োগকারীর আস্থা পুনরুদ্ধার হবে। এই ধাপটি দেশের বাণিজ্যিক পরিবেশের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

৮৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডিনিউজ২৪
ব্যবসা প্রতিবেদক
ব্যবসা প্রতিবেদক
AI-powered ব্যবসা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments