বাংলাদেশের পাবলিক‑প্রাইভেট সংলাপ সংস্থা BUILD আজ সরকারকে মাইক্রো, স্মল ও মিডিয়াম এন্টারপ্রাইজ (MSME)‑এর জন্য লক্ষ্যভিত্তিক নীতি সমর্থন প্রদান করতে আহ্বান জানায়। সংস্থাটি MSME‑কে দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তি হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এই দাবি একটি প্রেস বিবৃতির মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
বিবৃতিতে লাইসেন্সিং প্রক্রিয়ার সরলীকরণ এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য আর্থিক সেবার সহজ প্রবেশের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে। বর্তমান জটিলতা ও সময়সীমা উদ্যোক্তাদের কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করছে। তাই দ্রুত এবং স্বচ্ছ অনুমোদন পদ্ধতি গড়ে তোলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
অফিসিয়াল মন্তব্যে অনানুষ্ঠানিক খাতের ডিজিটাল রূপান্তরকে অন্তর্ভুক্তিকরণকে মূলধারায় আনার কৌশল হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। নিয়ন্ত্রক প্রয়োজনীয়তা হ্রাস করে ডিজিটাল সিস্টেমে সংযুক্তি MSME‑এর উৎপাদনশীলতা বাড়াবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই দৃষ্টিভঙ্গি BUILD-এর চেয়ারম্যান আবুল কাসেম খানের বক্তব্যের ভিত্তিতে গৃহীত।
দেশটি নতুন রাজনৈতিক পর্যায়ে প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জরুরি প্রয়োজনীয়তা উন্মোচিত হয়েছে। টেকসই বৃদ্ধির জন্য এবং বেসরকারি খাতের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এই বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। BUILD এই প্রসঙ্গে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার গুরুত্ব জোর দিয়েছে।
নতুন প্রশাসনের প্রথম কাজ হিসেবে সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধারকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বৈদেশিক মুদ্রা বাজারের স্থিতিশীলতা এবং ব্যাংকিং সেক্টরের তরলতা বাড়ানো মূল লক্ষ্য। এসব পদক্ষেপ বিনিয়োগকারীর আস্থা পুনরুদ্ধারে সহায়ক হবে।
একটি স্থিতিশীল আর্থিক পরিবেশ শিল্প উৎপাদনশীলতা এবং বিনিয়োগের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করার ভিত্তি। বিনিয়োগকারীরা যখন নীতি ও বাজারের পূর্বাভাসযোগ্যতা দেখতে পান, তখন তারা দীর্ঘমেয়াদী প্রকল্পে অংশ নিতে বেশি ইচ্ছুক হন। তাই সরকারকে এই দিকগুলোতে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে।
ব্যবসা পরিচালনার খরচ কমাতে সংস্কার ত্বরান্বিত করার আহ্বানও প্রকাশিত হয়েছে। অনুমোদন, কর ও শুল্ক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং সময়সীমা হ্রাস করলে উদ্যোক্তাদের জন্য পরিবেশ আরও অনুকূল হবে। এই ধরনের সংস্কার MSME‑এর প্রতিযোগিতামূলকতা বাড়াবে।
দেশের কম উন্নত দেশ (LDC) থেকে বেরিয়ে আসার প্রস্তুতি চলাকালীন সময়ে বাণিজ্য প্রক্রিয়ার সরলীকরণ অপরিহার্য। শুল্ক কাঠামোর যুক্তিসঙ্গত পুনর্গঠন এবং বাণিজ্যিক বাধা দূর করা আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশ সহজ করবে। BUILD এই দিকগুলোকে রপ্তানি বৈচিত্র্যকরণে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছে।
স্থানীয় ও বিদেশি সরাসরি বিনিয়োগ (FDI) আকর্ষণকে জাতীয় অর্থনৈতিক এজেন্ডার কেন্দ্রে রাখতে হবে। বিনিয়োগের প্রবাহ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং রপ্তানি পণ্যের পরিসর বাড়াবে। এজন্য নীতি পরিবেশকে স্বচ্ছ ও বিনিয়োগবান্ধব করা জরুরি।
২০১১ সাল থেকে BUILD সরকারী প্রাইভেট সেক্টর উন্নয়ন নীতি সমন্বয় কমিটির (PSDPCC) সেক্রেটারিয়াল কাজ করে আসছে। এই কমিটি প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের অধীনে কাজ করে নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে সমন্বয় সাধন করে। BUILD-এর দীর্ঘমেয়াদী অভিজ্ঞতা নীতিগত পরামর্শকে সমৃদ্ধ করেছে।
BUILD-এর সুপারিশ অনুযায়ী লাইসেন্সিং, আর্থিক সেবা, ডিজিটাল রূপান্তর এবং বাণিজ্যিক নিয়মের সংস্কার একসাথে বাস্তবায়িত হলে MSME‑এর উৎপাদনশীলতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। তদুপরি, স্থিতিশীল মুদ্রা ও তরল ব্যাংকিং সিস্টেম বিনিয়োগের পরিবেশকে শক্তিশালী করবে।
এই নীতি পরিবর্তনগুলো যদি সময়মতো এবং কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা যায়, তবে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হার দ্রুতগতিতে বাড়তে পারে। বিশেষ করে রপ্তানি-নির্ভর শিল্প এবং সেবা খাতে নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে। ফলে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাবে এবং দারিদ্র্য হ্রাসে সহায়তা করবে।
তবে নীতি বাস্তবায়নের পথে কিছু ঝুঁকি ও চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থার সমন্বয়, ডিজিটাল অবকাঠামোর প্রস্তুতি এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা গুরুত্বপূর্ণ। এসব বিষয় সমাধান না হলে সংস্কার প্রত্যাশিত ফল না-ও দিতে পারে।
সারসংক্ষেপে, BUILD নতুন সরকারের কাছে MSME‑এর জন্য লক্ষ্যভিত্তিক নীতি সমর্থন, আর্থিক প্রবেশের সহজতা এবং বাণিজ্যিক পরিবেশের উন্নতি দাবি করেছে, যা অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও বিনিয়োগ বাড়িয়ে দীর্ঘমেয়াদী সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে পারে।



