ব্রাজিলের প্রাক্তন তারকা ফোরওয়ার্ড নেইমার, ৩৪ বছর বয়সে, এই বছর শেষের দিকে ফুটবল থেকে বিদায় নেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। একই সময়ে রোনালদোর বয়স ৪১ এবং মেসির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এখনও স্পষ্ট নয়। ফুটবলের ভক্তদের জন্য এই সংবাদ বড় একটা পরিবর্তন নির্দেশ করে।
নেইমার বর্তমানে তার শৈশবের ক্লাব সান্তোসে খেলছেন এবং ক্লাবের সঙ্গে চুক্তি এক বছর বাড়িয়ে ২০২৭ পর্যন্ত চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন। তবে তিনি জানিয়েছেন, ডিসেম্বরের শেষে অবসরের সিদ্ধান্ত নেওয়া অস্বাভাবিক নয়, কারণ দীর্ঘ সময়ের আঘাতের সঙ্গে লড়াই করতে হয়েছে।
২০২৫ সালের শেষের দিকে হাঁটুর বড় অস্ত্রোপচার করিয়ে নেওয়ার পর থেকে নেইমার বেশ সময় মাঠের বাইরে কাটিয়েছেন। এ সি এল ইনজুরির কারণে প্রায় একটি পূর্ণ মৌসুম মিস করতে হয়েছে, ফলে তার শারীরিক অবস্থার পুনরুদ্ধার এখন অগ্রাধিকার।
অবসরের কথা বলার পরেও নেইমার দৈনন্দিন প্রশিক্ষণে ফিটনেসকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছেন। তিনি বলেন, প্রতিটি দিনকে গুরুত্বের সঙ্গে কাটিয়ে তিনি আবার পুরোপুরি শারীরিকভাবে প্রস্তুত হতে চান। এই মনোভাবই তাকে আবার মাঠে ফিরিয়ে আনবে বলে তিনি আশাবাদী।
ব্রাজিলের ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপের প্রস্তুতি এখন তার প্রধান লক্ষ্য। ১১ জুন থেকে শুরু হওয়া টুর্নামেন্টের জন্য তিনি পুরোপুরি ফিট হতে চান, যদিও এখনও নিশ্চিত নয় যে তিনি শেষ পর্যন্ত অংশ নিতে পারবেন। ব্রাজিলের প্রথম ম্যাচ ১৩ জুন মরক্কোর বিরুদ্ধে হবে, এবং নেইমার এই ম্যাচে উপস্থিতি ভক্তদের বড় আশা জাগিয়ে তুলেছে।
নেইমার এখন পর্যন্ত ব্রাজিলের হয়ে ১২৮ ম্যাচে ৭৯ গোল করেছেন, যা তাকে দেশের অন্যতম শীর্ষ স্কোরার করে তুলেছে। ২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২২ সালের তিনটি বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া সত্ত্বেও তিনি কোনো ট্রফি জিততে পারেননি। ২০০২ সালের পর ২৪ বছর ধরে ব্রাজিলের শিরোপা খরা রয়েছে, এবং এই সময়ে নেইমারকে দেশের বড় ভরসা হিসেবে দেখা হয়।
ভক্তরা এখন নেইমারকে নিয়ে বড় আশা পোষণ করছেন, কারণ তার উপস্থিতি ছাড়া ব্রাজিলের টুর্নামেন্টে জয় অর্জন কঠিন বলে মনে হয়। তবে অবসরের গুঞ্জন কিছুটা উদ্বেগের সুর তুলেছে, কারণ তার অভাব দলের আক্রমণাত্মক শক্তিকে প্রভাবিত করতে পারে।
সান্তোসের সঙ্গে চুক্তি এক বছর বাড়িয়ে নেওয়া সত্ত্বেও নেইমারের ভবিষ্যৎ এখন তার শারীরিক স্বাস্থ্যের ওপর নির্ভরশীল। বিশ্বকাপের পারফরম্যান্স এবং ইনজুরির পুনরাবৃত্তি না হওয়া তার ক্যারিয়ারকে শেষের দিকে নিয়ে যাবে কিনা, তা এখনই অনিশ্চিত।
সর্বোপরি, নেইমার প্রতিটি দিনকে গুরুত্বের সঙ্গে কাটিয়ে নিজের শারীরিক অবস্থাকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। অবসরের সিদ্ধান্ত এখনও চূড়ান্ত নয়, তবে তিনি স্বীকার করেছেন যে আগামী বছর তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় হবে।



