বোরিস জনসন, যিনি রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সূচনায় ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, বিবিসি’র রবিবারের এক সাক্ষাৎকারে যুক্তি দেন যে যুক্তরাজ্য ও তার মিত্র দেশগুলোকে এখনই অ-যুদ্ধবাহিনী ইউক্রেনে পাঠিয়ে ভ্লাদিমির পুতিনের মনের স্বরে পরিবর্তন আনতে হবে। তিনি এই পদক্ষেপকে যুদ্ধের পরের শান্তি রক্ষার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন।
সাক্ষাৎকারে তিনি এবং প্রাক্তন সামরিক প্রধান অ্যাডমিরাল স্যার টনি রাডাকিন উভয়েই যুক্তি প্রকাশ করেন যে, যদি যুদ্ধের পর শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় এবং ভ্লাদিমির পুতিন যুদ্ধবিরতির অনুমতি দেন, তবে এখনই প্রস্তুতি নেওয়া যুক্তিযুক্ত। উভয়েই জোর দেন যে সেনাবাহিনীর উপস্থিতি অ-যুদ্ধভিত্তিক কাজের জন্য, যেমন মানবিক সহায়তা ও অবকাঠামো পুনর্নির্মাণে, সীমাবদ্ধ থাকবে।
জনসন বলেন, “If we can have a plan for boots on the ground after the war, after Putin has condescended to have a ceasefire, then why not do it now?” তিনি যুক্তি দেন যে, যুদ্ধের পর শান্তি রক্ষার জন্য ভূমি-ভিত্তিক পরিকল্পনা আগে থেকেই তৈরি করা উচিত, যাতে কোনো দেরি না হয়। এই প্রস্তাবের পেছনে তার বিশ্বাস যে, অ-যুদ্ধবাহিনী ইউক্রেনের নিরাপত্তা পরিবেশে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং ভ্লাদিমির পুতিনের কৌশলগত গণনা পরিবর্তন করতে পারে।
ব্রিটেনের সরকার বর্তমানে মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে “coalition of the willing” গঠন করে ইউক্রেনে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সামরিক সহায়তা পরিকল্পনা করছে, তবে তা শুধুমাত্র যুদ্ধ শেষের চুক্তি স্বাক্ষরের পরই কার্যকর হবে। এই উদ্যোগের লক্ষ্য হল যুদ্ধবিরতির পর দ্রুত পুনর্গঠন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
জনসন উল্লেখ করেন যে, রাশিয়া ২০১৪ সালে ক্রিমিয়া সংযুক্ত করার পর থেকে ভ্লাদিমির পুতিনের আক্রমণাত্মক নীতি বাড়তে থাকে, এবং পশ্চিমা মিত্র দেশগুলো যদি তার এই প্রবণতাকে যথাযথভাবে পর্যবেক্ষণ করত, তবে বর্তমান সংঘাত সম্ভবত রোধ করা যেত। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “We’ve always delayed needlessly,” এবং এই দেরি ইউক্রেনের মানুষের প্রাণের ক্ষতি করেছে।
সাক্ষাৎকারে উভয়ই ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২২ তারিখে রাশিয়া ইউক্রেনে আক্রমণ করার মুহূর্ত এবং তৎপরতা নিয়ে আলোচনা করেন। তারা স্মরণ করেন যে, সেই সময়ে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সমর্থন করার সিদ্ধান্ত দ্রুত নেওয়া হয়েছিল, তবে পরবর্তীতে মিত্র দেশগুলোর সহায়তা ধীরগতিতে পৌঁছায়।
ব্রিটেন ও অন্যান্য মিত্র দেশগুলো ইউক্রেনের অস্ত্র সরবরাহে প্রায়শই মাসের পর মাস সময় নেয়। জনসন ও রাডাকিনের মতে, এই ধীরগতি ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা ক্ষমতা হ্রাসের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সমর্থনের প্রতি হতাশা বাড়িয়ে দেয়। তারা উল্লেখ করেন যে, মিত্র দেশগুলোর এই “incrementalism” পদ্ধতি ইউক্রেনের জন্য অত্যন্ত বিরক্তিকর এবং যুদ্ধের গতি কমিয়ে দেয়।
অ্যাডমিরাল রাডাকিন এই পদ্ধতিকে “incrementalism” বলে বর্ণনা করেন এবং বলেন, “Ukraine felt it was too slow and it’s deeply frustrating – these tensions have existed all the way through”। তিনি যুক্তি দেন যে, ইউক্রেনের জনগণ ও সরকার এই ধীরগতি নিয়ে ক্রমাগত অসন্তোষ প্রকাশ করে আসছে।
জনসন আবারও জোর দিয়ে বলেন, “We’ve always delayed needlessly,” এবং উল্লেখ করেন যে, এই দেরি সরাসরি প্রাণহানির কারণ হয়েছে। তিনি দাবি করেন যে, এখনই অ-যুদ্ধবাহিনী পাঠিয়ে ইউক্রেনের পুনর্গঠন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এমন দেরি না হয়।
এই সাক্ষাৎকারটি যুদ্ধের চতুর্থ বার্ষিকীর কয়েক দিন আগে অনুষ্ঠিত হয়, যা ইউক্রেন ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। জনসনের এই মন্তব্যগুলো ব্রিটেনের ভবিষ্যৎ নীতি ও মিত্র দেশগুলোর সামরিক সহায়তার দিকনির্দেশনা গঠনে প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষত যখন ইউক্রেনের নিরাপত্তা ও পুনর্গঠন নিয়ে আন্তর্জাতিক আলোচনার তীব্রতা বাড়ছে।



