আজ দুপুরে ঢাকা শহরের জাত্রাবাড়ি এলাকায় কুটুবখালি পকেট গেটের নিকটবর্তী চেকপয়েন্টে একটি পুলিশ দল গৃহনির্মিত বোমা সহ সন্দেহজনক ব্যাগের সঙ্গে চারজন যুবকের মুখোমুখি হয়। দলটির মধ্যে জাত্রাবাড়ি থানা পরিবহন শাখার ৩৩ বছর বয়সী কনস্টেবল মো. শাহ আলম অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। অনুসন্ধানের সময় কনস্টেবলকে ছুরিকাঘাতের শিকার হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে বিশাল উদ্বেগ সৃষ্টি হয়।
সেই সময়ে মোবাইল ডিউটিতে থাকা চার থেকে পাঁচজন পুলিশ কর্মকর্তা যুবকদের দুইটি ব্যাগ পরীক্ষা করার নির্দেশ পায়। যুবকরা অস্বাভাবিকভাবে চলাচল করছিল বলে দলটি তাদের থামিয়ে নেয়। ব্যাগগুলোতে সন্দেহজনক বস্তু দেখা গেলে কনস্টেবল আলম ব্যাগগুলো খুলতে এগিয়ে যান।
অচেনা যুবকগুলোর একজন হঠাৎ কোমর থেকে ছুরি বের করে কনস্টেবল আলমের কপালে আঘাত হানে। আঘাতের ফলে কনস্টেবলকে তৎক্ষণাৎ নিকটস্থ সেন্ট্রাল পুলিশ হাসপাতাল রাজারবাগে নিয়ে যাওয়া হয়।
কনস্টেবলকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর পুলিশ দল দ্রুত অপরাধীদের তাড়া করে। তাড়া চলাকালে অপরাধীরা গৃহনির্মিত বোমা ফাটিয়ে ফেলে এবং ধোঁয়া ও ধ্বংসের সঙ্গে পালিয়ে যায়। বোমা বিস্ফোরণের ফলে আশেপাশের পরিবেশে ক্ষতি সীমিত থাকলেও নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ে।
বোমা বিস্ফোরণের পর অবশিষ্ট ব্যাগটি নিরাপদে উদ্ধার করা হয় এবং তা বোমা নিষ্কাশন ইউনিটের হস্তে হস্তান্তর করা হয়। ইউনিটের বিশেষজ্ঞরা ব্যাগের ভিতরে পাঁচটি গৃহনির্মিত বোমা এবং অতিরিক্ত একটি বিস্ফোরক যন্ত্রের উপস্থিতি নিশ্চিত করেন।
আহত কনস্টেবল আলমকে প্রথমে সেন্ট্রাল পুলিশ হাসপাতাল রাজারবাগে ভর্তি করা হয়, পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে স্থানান্তর করা হয়। চিকিৎসা দলের মতে কনস্টেবলকে মাথার সিটি স্ক্যান এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করা হয়েছে।
ডিএমসিএইচ-এ বর্তমানে কনস্টেবল আলমের অবস্থা স্থিতিশীল, তবে মাথার আঘাতের কারণে চিকিৎসা চলমান। ডাক্তাররা জানিয়েছেন যে শিরা-শিরা রক্তস্রাবের কোনো লক্ষণ না পাওয়া গিয়ে রোগীর অবস্থা সাময়িকভাবে স্থিতিশীল।
ঘটনা ঘটার পর পুলিশ বিভাগ ব্যাপক তদন্ত শুরু করেছে। তদন্তকারী দল অপরাধীদের সনাক্তকরণ, বোমার উৎপাদন প্রক্রিয়া এবং সম্ভাব্য সহায়তাকারী গোষ্ঠীর সঙ্গে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার জন্য ফরেনসিক বিশ্লেষণ চালাচ্ছে। আইন অনুযায়ী গৃহনির্মিত বিস্ফোরক ব্যবহারের জন্য কঠোর শাস্তি নির্ধারিত, তাই সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই ধরনের হিংসাত্মক ঘটনা শহরের নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনর্বিবেচনার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে। পুলিশ কর্তৃপক্ষ জনসাধারণকে সতর্ক করেছে যে সন্দেহজনক বস্তু বা অস্বাভাবিক আচরণ দেখলে সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে জানাতে হবে।



