25.7 C
Dhaka
Saturday, February 21, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধশেরপুরে চোর সন্দেহে যুবককে ঝুলিয়ে পেটানো, ভিকটিম হাসপাতালে ভর্তি

শেরপুরে চোর সন্দেহে যুবককে ঝুলিয়ে পেটানো, ভিকটিম হাসপাতালে ভর্তি

শেরপুর সদর উপজেলার পাকুরিয়া ইউনিয়নের চৈতনখিলা পশ্চিম পাড়া সাতঘড়িয়া গ্রামে ২০ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার সকালে চোর সন্দেহে এক যুবককে বাড়ি থেকে নিয়ে গিয়ে ঝুলিয়ে পেটানোর ঘটনা ঘটেছে। ভিডিও রেকর্ডিং আজ দুপুরে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে ব্যাপক দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।

ভিকটিম নিলু মিয়া, ২৫ বছর বয়সী, গনই মমিনাকান্দা গ্রাম থেকে আসা। তার পরিবার জানায়, নিলুকে চুরির অভিযোগে বাড়ি থেকে বের করে নিয়ে গিয়ে ঝুলিয়ে মারধর করা হয়। পরিবার দাবি করে, তাকে কোনো প্রমাণ ছাড়াই সন্দেহভাজন হিসেবে ধরতে হয়েছিল।

সন্দেহভাজনরা নিলুকে গাছের ডাল বা কোনো উঁচু কাঠামোর ওপর ঝুলিয়ে, শারীরিক আঘাতের সঙ্গে সঙ্গে চিবুক ও পেটের ওপর ধারালো বস্তু দিয়ে আঘাত করেছে বলে জানানো হয়েছে। আঘাতের তীব্রতা এতই বেশি যে ভিকটিমের শ্বাস-প্রশ্বাসে ব্যাঘাত ঘটেছে এবং রক্তপাত হয়েছে।

আঘাতের পর নিলুকে দ্রুতই শেরপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে তিনি গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি, রক্ত সঞ্চালন ও শল্যচিকিৎসা সহায়তা নিচ্ছেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আঘাতের তীব্রতা এবং রক্তক্ষরণের কারণে তার জীবনরক্ষার জন্য তীব্র যত্ন প্রয়োজন।

শেরপুরের সহকারী পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান ভূঞা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে তদন্ত শুরু করেন। তিনি জানান, ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ভিকটিমের সঙ্গে কথা বলার পর প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে এবং অপরাধীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

পুলিশ দল স্থানীয় গৃহস্থালীর সদস্য ও প্রতিবেশীদের কাছ থেকে বিবরণ সংগ্রহের পাশাপাশি ভিডিও রেকর্ডিং বিশ্লেষণ করছে। প্রমাণের ভিত্তিতে সন্দেহভাজনদের সনাক্ত করে গ্রেফতার করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। বর্তমানে তদন্ত চলমান, কোনো আনুষ্ঠানিক গ্রেফতারের তথ্য প্রকাশিত হয়নি।

আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে, চোর সন্দেহে শারীরিক শাস্তি দেওয়া এবং ঝুলিয়ে পেটানো উভয়ই অপরাধের শর্তে কঠোর শাস্তির আওতায় পড়ে। বাংলাদেশ দণ্ড সংহিতা অনুযায়ী, চোরের সন্দেহে শারীরিক ক্ষতি করা হলে ৩ থেকে ৭ বছরের কারাদণ্ড এবং জরিমানা আরোপিত হতে পারে।

স্থানীয় মানুষজন এই ঘটনার প্রতি গভীর শোক প্রকাশ করেছে। গ্রামবাসীরা নিলুর পরিবারকে সমর্থন জানিয়ে, এ ধরনের সহিংসতা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করা ভিডিওটি দ্রুতই প্রচারিত হয়ে, এলাকায় ন্যায়বিচার চাওয়া প্রতিবাদে রূপ নেয়।

পাকুরিয়া ইউনিয়নের চৈতনখিলা পশ্চিম পাড়া ঐতিহ্যবাহী গ্রাম, যেখানে সম্প্রতি এমন ধরনের অপরাধের ঘটনা খুব কমই দেখা যায়। তবে এই ঘটনার পর স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ নিরাপত্তা বাড়াতে অতিরিক্ত পদক্ষেপ নেওয়ার কথা প্রকাশ করেছে।

অধিক তদন্তের পর, সন্দেহভাজনদের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক মামলা দায়ের করা হবে এবং আদালতে তাদের শোনানো হবে। আদালত প্রক্রিয়া শুরু হলে, ভিকটিমের পরিবারকে আইনি সহায়তা প্রদান করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

এই ঘটনায় নিলু মিয়ার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল না হওয়া পর্যন্ত তার পরিবার ও স্থানীয় সমাজের সহায়তা অব্যাহত থাকবে। নিলুর পুনরুদ্ধার ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপের প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments