মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট গত সপ্তাহে ট্রাম্প প্রশাসনের জরুরি শুল্ক ব্যবস্থা রদ করে, যা আগে যুক্তরাষ্ট্রে ১৩৩ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহের ভিত্তি ছিল। এই রায়ের ফলে শুল্কের অধীনে ইতিমধ্যে আদায় করা অর্থের ভবিষ্যৎ এখন স্পষ্ট নয়। আদালতের সিদ্ধান্ত দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক নীতির দিকনির্দেশে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
কোর্টের রায়ে ট্রাম্পের ২০১৭-২০১৯ সালের মধ্যে আরোপিত শুল্কগুলোকে অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে এবং তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর করা বন্ধ করা হয়েছে। রায়টি ট্রাম্পের বাণিজ্য নীতি এবং তার পরবর্তী প্রশাসনের কৌশলগত পরিকল্পনায় বাধা সৃষ্টি করেছে। বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, এই সিদ্ধান্ত মার্কিন অর্থনীতির বিভিন্ন সেক্টরে অনিশ্চয়তা বাড়াতে পারে।
বাতিলের পরেও ১৩৩ বিলিয়ন ডলারের শুল্ক সংগ্রহের পরিমাণ কীভাবে ব্যবহার হবে তা এখনও পরিষ্কার হয়নি। আদালত কোনো ফেরত প্রক্রিয়া বা সময়সীমা নির্ধারণ করেনি।
ইলিনয়সের ডেমোক্র্যাটিক গভর্নর জে বি প্রিৎজকার ট্রাম্পের কাছে চিঠি লিখে তার রাজ্যের পরিবারগুলোর জন্য প্রায় ৯ বিলিয়ন ডলার শুল্ক ফেরত চেয়েছেন। প্রিৎজকারের দাবি অনুযায়ী, শুল্ক নীতি স্থানীয় কৃষকদের ক্ষতিগ্রস্ত করেছে এবং মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন বাড়িয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, যদি ক্ষতিপূরণ না দেওয়া হয় তবে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রিৎজকারের চিঠিতে গড়ে প্রতি পরিবারের জন্য প্রায় ১,৭০০ ডলার ফেরত চাওয়া হয়েছে, যা গত বছর গড়ে প্রতিটি আমেরিকান পরিবার শুল্ক হিসেবে বহন করেছে বলে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন। তিনি যুক্তি দেন, এই পরিমাণ পরিবারগুলোর ক্রয়ক্ষমতা পুনরুদ্ধারে সহায়ক হবে।
শুল্কের অতিরিক্ত বোঝা ভোগ করা বেশ কয়েকটি বড় কোম্পানিও ফেরত দাবি করে। তারা ভোক্তাদের উপর বাড়তি দামের প্রভাব তুলে ধরে, রাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক উভয় দিক থেকে চাপ বাড়িয়েছে। তবে পর্যবেক্ষকরা সতর্ক করেন, এই দাবিগুলো বাস্তবায়ন করা সহজ নয় এবং প্রক্রিয়াটি জটিল হতে পারে।
ট্রাম্পের দল শুল্ক ফেরতের বিষয়ে অনানুষ্ঠানিকভাবে আশ্বাস দিয়েছে, তবে এখনো কোনো স্পষ্ট পরিকল্পনা প্রকাশ করেনি। মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর প্রশাসন ও আদালত উভয়ই কীভাবে এই বড় অর্থের ব্যবস্থাপনা করবে তা অনির্ধারিত রয়ে গেছে।
প্রভাবশালী পেন-হোয়ার্টন বাজেট মডেল অনুসারে, শুল্ক ফেরতের মোট পরিমাণ সর্বোচ্চ ১৭৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। এই অনুমান শুল্কের প্রভাব বিশ্লেষণ করে সম্ভাব্য ফেরত পরিসীমা নির্ধারণ করেছে।
অর্থের শেষ গন্তব্য সম্পর্কে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেই; কিছু বিশ্লেষক বিশ্বাস করেন, কোম্পানিগুলোকে বেশি ভাগে অর্থ প্রদান হতে পারে, সাধারণ নাগরিকদের তুলনায়। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট উল্লেখ করেছেন, সাধারণ আমেরিকানরা সরাসরি ক্ষতিপূরণ পাবেন কি না তা এখনও স্পষ্ট নয়।
শুল্কের রদ এবং সম্ভাব্য ফেরত প্রক্রিয়া রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল বিষয় হিসেবে রয়ে গেছে। সরকারী ও বিচারিক সংস্থাগুলোকে শীঘ্রই স্পষ্ট নীতি নির্ধারণ করতে হবে, যাতে সংগ্রহিত ১৩৩ বিলিয়ন ডলারের ব্যবহার নিয়ে অনিশ্চয়তা দূর হয়।



