অস্ট্রিয়ার পরিচালক অ্যাড্রিয়ান গয়িঙার পরিচালিত ‘ফোর মাইনাস থ্রি’ চলচ্চিত্রটি বার্লিনের বার্লিনালে অনুষ্ঠিত প্যানোরামা শোতে ইউরোপা সিনেমাস লেবেল পুরস্কার অর্জন করেছে। এই পুরস্কারটি ইউরোপীয় চলচ্চিত্রের মধ্যে সর্বোত্তম হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে, ছবিটি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে বিশেষ স্বীকৃতি পেয়েছে।
‘ফোর মাইনাস থ্রি’ একটি বাস্তব ঘটনার ওপর ভিত্তি করে তৈরি, যেখানে অস্ট্রিয়ার ক্লাউন বারবারা (ভ্যালেরি প্যাচনার অভিনীত) এবং তার সঙ্গী হেলি (রবার্ট স্টাডলোবার চরিত্র) দুজনেই পেশাগত ক্লাউন। দুজনের দু’টি সন্তানও আছে। হঠাৎ এক দুর্ঘটনায় হেলি ও সন্তানরা প্রাণ হারিয়ে যাওয়ার পর, বারবারার হাসি, আশা ও মানবিকতা নিয়ে বিশ্বাসকে কঠিন পরীক্ষার মুখে দেখা যায়।
চলচ্চিত্রের কাহিনী মূলত বারবারা প্যাচল-এবারহার্টের আত্মজীবনীমূলক উপন্যাসের ওপর ভিত্তি করে রচিত, যেখানে ক্লাউন জীবনের উজ্জ্বল রঙ ও অন্ধকার মুহূর্তের টানাপোড়েনকে সূক্ষ্মভাবে চিত্রায়িত করা হয়েছে। ছবির দৃশ্যাবলী ও চরিত্রের আবেগময় প্রকাশ দর্শকদের গভীরভাবে স্পর্শ করে, বিশেষ করে হেলি ও সন্তানদের অকাল মৃত্যুর পর বারবারার মানসিক সংগ্রামকে বাস্তবিকভাবে তুলে ধরে।
ইউরোপা সিনেমাস জুরি ছবিটিকে ‘অনুভূতিপূর্ণ ও অনুপ্রেরণামূলক’ বলে প্রশংসা করেছে। জুরি উল্লেখ করেছে যে, চমৎকার স্ক্রিপ্টটি আশা ও হতাশার মধ্যে সূক্ষ্ম ভারসাম্য বজায় রেখে দর্শকের হৃদয়কে স্পর্শ করে। এই মতামত ছবির গুণগত মানকে আরও দৃঢ় করে, যা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র বাজারে তার অবস্থানকে শক্তিশালী করবে।
পুরস্কার জয়ের পর, ‘ফোর মাইনাস থ্রি’ ইউরোপা সিনেমাস গ্রুপের প্রচারমূলক সহায়তা পাবে। এই নেটওয়ার্ক ৩৯টি ইউরোপীয় দেশের ৩,২০০ টিরও বেশি থিয়েটারে চলচ্চিত্র প্রদর্শনের ব্যবস্থা করে এবং ইউরোপের মিডিয়া প্রোগ্রাম ও ফ্রান্সের জাতীয় চলচ্চিত্র বোর্ড (CNC) থেকে তহবিল পায়। ইউরোপা সিনেমাসের মূল লক্ষ্য হল ইউরোপীয় চলচ্চিত্রকে সমর্থন করা, বিশেষ করে যেসব সিনেমা নিজ দেশের বাইরে অন্য দেশের থিয়েটারে প্রদর্শিত হয়, এবং তরুণ দর্শকদের জন্য বিশেষ প্রচারমূলক কার্যক্রম চালু করা।
‘ফোর মাইনাস থ্রি’ গিগ্যান্টেন ফিল্ম প্রোডাকশনস এবং ২০১০ এন্টারটেইনমেন্টের যৌথ উৎপাদন, এবং আন্তর্জাতিক বিক্রয় কাজটি বেটা সিনেমা পরিচালনা করে। পূর্বে ইউরোপা সিনেমাস লেবেল জয়ী চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে ২০২৫ সালের ‘হিস্টেরিয়া’ (মেহমেত আকিফ বুযুকাতালায়), ২০২৪ সালের ‘সেক্স’ (ড্যাগ জোহান হাউসেগুন্ড) এবং ২০২৩ সালের ‘দ্য টিচারস লাউঞ্জ’ (ইলকার চাটাক) অন্তর্ভুক্ত। এই ধারাবাহিকতা ইউরোপীয় চলচ্চিত্রের গুণগত মান ও বৈচিত্র্যকে তুলে ধরে।
বার্লিনালেতে এই স্বীকৃতি পাওয়া ‘ফোর মাইনাস থ্রি’ এখন ইউরোপের বিভিন্ন শহরে প্রদর্শিত হবে, যেখানে দর্শকরা ক্লাউন জীবনের উজ্জ্বলতা ও অন্ধকারের সংমিশ্রণ উপভোগ করতে পারবেন। ছবির থিম মানবিকতা, ক্ষতি ও পুনর্গঠনকে কেন্দ্র করে, যা আজকের সমাজে গভীর প্রতিধ্বনি সৃষ্টি করে।
চলচ্চিত্রের সাফল্যকে কাজে লাগিয়ে, ইউরোপা সিনেমাস গ্রুপের প্রচারমূলক পরিকল্পনা তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ইউরোপীয় শিল্পচিত্রের প্রতি আগ্রহ জাগাতে লক্ষ্য রাখবে। থিয়েটারগুলোকে ইউরোপীয় চলচ্চিত্রের ধারাবাহিক প্রদর্শনের জন্য আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান করা হবে, যাতে দর্শকরা বৈচিত্র্যময় কাহিনীর সঙ্গে পরিচিত হতে পারে।
‘ফোর মাইনাস থ্রি’ দেখার মাধ্যমে দর্শকরা ক্লাউন জীবনের পেছনের মানবিক দিক, ক্ষতির পর পুনর্গঠন এবং হাসির শক্তি সম্পর্কে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি পেতে পারেন। চলচ্চিত্রটি কেবল বিনোদন নয়, বরং জীবনের কঠিন মুহূর্তে আশার আলো খুঁজে বের করার একটি বার্তা বহন করে।
যদি আপনি ইউরোপীয় চলচ্চিত্রের অনন্য শৈলী ও গল্পের গভীরতা উপভোগ করতে চান, তবে ‘ফোর মাইনাস থ্রি’ আপনার জন্য একটি উপযুক্ত পছন্দ। নিকটস্থ থিয়েটার বা অনলাইন স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে ছবির শোইং সময়সূচি অনুসরণ করে, আপনি এই অনুপ্রেরণামূলক কাহিনীর অংশ হতে পারেন। এছাড়া, ইউরোপা সিনেমাসের প্রচারমূলক ইভেন্টে অংশগ্রহণ করে আপনি ভবিষ্যতে আরও সমৃদ্ধ ইউরোপীয় চলচ্চিত্রের সঙ্গে পরিচিত হতে পারবেন।



