25.7 C
Dhaka
Saturday, February 21, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধকক্সবাজারে চার দিনে ৫০ কোটি টাকার ইয়াবা উদ্ধার, তিনজন গ্রেপ্তার

কক্সবাজারে চার দিনে ৫০ কোটি টাকার ইয়াবা উদ্ধার, তিনজন গ্রেপ্তার

কক্সবাজারের মিয়ানমার সীমান্তের কাছে বিজিবি ও পুলিশ যৌথভাবে পরিচালিত মাদকবিরোধী অভিযানে চার দিনের মধ্যে মোট ১৫.৩ লাখ ইয়াবা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ৫০ কোটি টাকা। অভিযানে এক নারীসহ তিনজন সন্দেহভাজন গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

শুক্রবার (২১ ফেব্রুয়ারি) ভোরে কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন (৩৪ বিজিবি) সীমান্তে একটি তীব্র অনুসন্ধান চালায়। অপারেশনে ৮০ হাজার ইয়াবা এবং রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের ৫০ বছর বয়সী বছর আহম্মেদ নামের এক ব্যক্তি গ্রেফতার করা হয়।

এরপর শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) রাতের দিকে সীমান্তের পিলার-৩৬ সংলগ্ন পরিত্যক্ত এলাকায় অতিরিক্ত ২.৫ লাখ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এই ধরা পদার্থগুলো কোনো ধরা না পড়া গুদাম বা গোপন সংরক্ষণস্থল থেকে পাওয়া যায় বলে অনুমান করা হচ্ছে।

বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি) টেকনাফের হ্নীলা ও হোয়াইক্যং বর্ডার আউটপোস্টে পৃথক অভিযান চালায়। এই দুই অপারেশনে সম্মিলিতভাবে ৯.৮ লাখ ইয়াবা বাজেয়াপ্ত করা হয়, যার মূল্য প্রায় ২৯ কোটি ৪০ লাখ টাকা।

উক্ত অভিযানের সময় মাদক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে গুলিবর্ষণও ঘটে, তবে নিরাপত্তা বাহিনীর দ্রুত প্রতিক্রিয়ায় কোনো প্রাণহানি হয়নি। গুলিবর্ষণের পরপরই স্থানীয় এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয় এবং অবশিষ্ট সন্দেহভাজনদের অনুসরণ করা হয়।

রামু থানা পুলিশও একই সময়ে দুইটি স্বতন্ত্র অভিযান পরিচালনা করে। প্রথমে নম্বরবিহীন একটি মিনি ট্রাক থেকে ১.৫ লাখ ইয়াবা বাজেয়াপ্ত করে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়। দ্বিতীয় অভিযানে ৭০ হাজার ইয়াবা এবং একটি নারীর বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়।

কক্সবাজার ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম খায়রুল আলম উল্লেখ করেন, বিজিবি সীমান্ত রক্ষার পাশাপাশি মাদক ও চোরাচালান দমনেও সমানভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি জানান, এই ধরনের বড় আকারের বাজেয়াপ্তি সীমান্তে মাদক প্রবাহকে বাধা দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

রামু থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম বলেন, মাদক ব্যবসায়ীদের দমনে পুলিশ সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাচ্ছে এবং নিয়মিতভাবে সমন্বিত অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, ভবিষ্যতে আরও কঠোর নজরদারি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অপারেশন বাড়ানো হবে।

বাজেয়াপ্তি করা সব সন্দেহভাজনকে স্থানীয় থানা থেকে রেফারেল আদালতে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে। সংশ্লিষ্ট আইনি বিভাগগুলো প্রমাণ সংগ্রহ ও মামলার প্রস্তুতিতে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

বিজিবি ও পুলিশের সমন্বিত প্রচেষ্টা এই অঞ্চলে মাদক প্রবাহকে সীমিত করতে সহায়তা করেছে বলে বিশ্লেষকরা মন্তব্য করেন। তবে সীমান্তবর্তী এলাকায় অবৈধ পথে মাদক পাচার চালিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর সতর্কতা অব্যাহত থাকবে।

অধিকাংশ ধরা পদার্থের বিশ্লেষণ ও মূল্যায়ন পরবর্তী দিনে করা হবে, এবং বাজেয়াপ্ত মাদকের যথাযথ নিষ্পত্তি নিশ্চিত করা হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ভবিষ্যতে আরও সমন্বিত অভিযান চালিয়ে মাদকদ্রব্যের সরবরাহ শৃঙ্খল ভেঙে ফেলতে লক্ষ্য রাখবে।

এই ধারাবাহিক অভিযানগুলো দেশের মাদকমুক্তি নীতির অংশ হিসেবে চালু রয়েছে এবং সীমান্তে অবৈধ পদার্থের প্রবাহ রোধে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অন্তর্ভুক্ত। নিরাপত্তা বাহিনীর ধারাবাহিক তদারকি ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে মাদক সমস্যার মোকাবিলা করা হবে।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments