বাংলাদেশের নারী ফুটবল দল এশিয়া নারী এশিয়ান কাপের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে প্রশিক্ষণ শুরু করেছে। দলটি বৃহস্পতিবার রাতের দেরিতে দেশে পৌঁছে, পরের দিনই ভ্যালেন্টাইন স্পোর্টস পার্কে মাঠে নামার সূচনা করেছে।
দেরি রাতের প্রায় ১২ঃ৩০ টায় দলটি ভ্যালেন্টাইন স্পোর্টস পার্কে পৌঁছায়। দীর্ঘ হাওয়া-সামনের পরেও খেলোয়াড়রা দ্রুত বিশ্রাম নিয়ে, কয়েক ঘন্টার মধ্যেই মাঠে প্রস্তুত হয়।
শুক্রবার সকাল ৮ টায় প্রধান কোচ পিটার বাটলার প্রথম প্রশিক্ষণ সেশন পরিচালনা করেন। দুই ঘণ্টার এই সেশনটি অস্ট্রেলিয়ার স্থানীয় পরিবেশে দলের প্রথম মাঠের অভ্যাস হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ার তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার সঙ্গে মানিয়ে নিতে কোচিং স্টাফ দলকে তীব্রতা বজায় রাখতে নির্দেশ দেন, যাতে এশিয়ান কাপের প্রতিযোগিতার জন্য শারীরিক ও কৌশলগত প্রস্তুতি সম্পূর্ণ হয়।
গোলকিপার কোচ মাসুদ আহমেদ উজ্জল উল্লেখ করেন, দীর্ঘ যাত্রার পরেও খেলোয়াড়দের মধ্যে কিছু ক্লান্তি দেখা গেলেও কোনো আঘাতের সমস্যা নেই এবং সবাই ফিট। তিনি বলেন, “খেলোয়াড়দের মধ্যে কিছু ভ্রমণজনিত ক্লান্তি আছে, তবে কোনো আঘাতের উদ্বেগ নেই। সবাই সুস্থ।”
উজ্জল আরও জানান, “আমরা আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছি এবং আজকের সেশনটি ভালভাবে সম্পন্ন হয়েছে।” এই মন্তব্যগুলো দলকে আত্মবিশ্বাস জোগাতে সহায়ক হয়েছে।
দলটি ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ভ্যালেন্টাইন স্পোর্টস পার্কে অবস্থান করবে, এরপর এফসির নির্ধারিত হোটেলে স্থানান্তরিত হবে। এই সময়কালে প্রশিক্ষণ সুবিধা ও পরিবেশের সঙ্গে পরিচিতি বাড়বে।
কোচিং স্টাফের মতে, প্রশিক্ষণ ঘাঁটিতে প্রয়োজনীয় সব সুবিধা উপলব্ধ, যা একটি পূর্ণাঙ্গ ফুটবল দলের চাহিদা মেটায়। উজ্জল মন্তব্য করেন, “এখানে একটি সঠিক ফুটবল দলের জন্য প্রয়োজনীয় সব সুবিধা রয়েছে।”
সকাল প্রশিক্ষণ শেষে, খেলোয়াড়রা বিকেলে জিমে ব্যায়াম সেশন সম্পন্ন করে, যা উচ্চ তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার সঙ্গে শারীরিক মানিয়ে নেওয়ার অংশ হিসেবে পরিকল্পিত। এই অতিরিক্ত সেশনটি শারীরিক সহনশীলতা বাড়াতে সহায়তা করে।
বাংলাদেশের দল শনিবার সকাল থেকে আবার প্রশিক্ষণ চালিয়ে যাবে এবং কয়েক দিনের মধ্যে স্থানীয় কোনো ক্লাবের সঙ্গে একটি বন্ধুত্বপূর্ণ ম্যাচের পরিকল্পনা রয়েছে। এই ম্যাচটি টুর্নামেন্টের পূর্বে দলকে বাস্তব প্রতিপক্ষের মুখোমুখি করে প্রস্তুতি নিতে সহায়তা করবে।
সামগ্রিকভাবে, অস্ট্রেলিয়ায় প্রশিক্ষণ শুরু করা বাংলাদেশী নারী ফুটবল দল এখন আবহাওয়া, সময়সূচি ও শারীরিক চ্যালেঞ্জের সঙ্গে মানিয়ে নিতে কাজ করছে, যাতে এশিয়া নারী এশিয়ান কাপের মঞ্চে সর্বোচ্চ পারফরম্যান্স প্রদর্শন করতে পারে।



