25.7 C
Dhaka
Saturday, February 21, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধপটুয়াখালীতে সংখ্যালঘু পরিবারের উপর জমি দখল ও হামলার অভিযোগ

পটুয়াখালীতে সংখ্যালঘু পরিবারের উপর জমি দখল ও হামলার অভিযোগ

আজ দুপুরে পটুয়াখালী প্রেস ক্লাবে গোপাল মঝি পরিবার পটুয়াখালী সদর উপজেলা মোরিচবুনিয়া এলাকায় জমি দখল, শারীরিক হামলা এবং নগদ‑সোনার চুরির অভিযোগ তুলে ধরেছে। গোপাল মঝি পরিবার দাবি করেন যে তাদের ওপর স্থানীয় কিছু লোক আক্রমণ চালিয়ে তাদের জমি কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছে।

গোপাল মঝি সাতজন সন্দেহভাজনকে নামিয়ে দেন – জাকির ভূইয়া, সুমন পায়দা, নাসির আকন, খালেক পায়দা, হারুন মাতবর, জাফর ভূইয়া এবং নিজাম পায়দা – যাঁরা সকলেই একই পাড়া থেকে। এছাড়াও তিনি উল্লেখ করেন যে সাত থেকে আটজন অচেনা ব্যক্তি এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

মোরিচবুনিয়া মৌজায় গোপাল মঝি ৪০ কাঠা জমির নথিভুক্ত মালিক ও অধিকারী বলে লিখিত বিবরণে জানান। তিনি বলেন, জাকির ভূইয়া নেতৃত্বে গঠিত একটি গোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে ঐ জমি দখলের চেষ্টা করে আসছে। সম্প্রতি গোষ্ঠীটি জমিটিকে বালিতে ভরে বাড়ি নির্মাণের চেষ্টা করলে গোপাল মঝি পুলিশে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগের পর গোষ্ঠীটি রেগে গোপাল ও তার পরিবারের ওপর হুমকি জানায়, কাঠি‑লাঠি নিয়ে বাড়ির সামনে হাজির হয়ে তাদের ভয় দেখায় এবং সন্তানদের স্কুলে যাওয়া বাধা দেয়। গোপাল মঝি জানান, আক্রমণকারীরা তাকে দেশ ছেড়ে ভারত যাওয়ার জন্যও চাপিয়ে দেয়।

পুলিশ জাকির ভূইয়াকে পূর্বের অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেফতার করে জেলায় পাঠায়। ১৬ ফেব্রুয়ারি জাকিরের জামিন পাওয়ার পর একই দিন রাত প্রায় ৯:৩০ টায় তিনি এবং তার কয়েকজন সহযোগী গোপাল মঝিকে মোরিচবুনিয়ায় গাড়ি চালিয়ে বাড়ি ফেরার পথে আক্রমণ করে।

আক্রমণকারীরা লোহার দণ্ড ও স্থানীয় তৈরি অস্ত্র দিয়ে গোপাল মঝিকে মারধর করে। গোপালের শ্বশুরবাড়ি রতন মঝি, যিনি গোপালের বোনের স্বামী, তাও একই সময়ে আঘাতপ্রাপ্ত হন। দুজনই পটুয়াখালী সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি হন।

হামলার সময় আক্রমণকারীরা গোপাল মঝির কাছ থেকে দুই লক্ষ টাকার বেশি নগদ এবং দুইটি সোনার চেইন চুরি করে নেয়। চুরির পরিমাণ ও সোনার জিনিসপত্রের তালিকা নিয়ে গোপাল মঝি আলাদা একটি মামলা দায়ের করেছেন।

গোপাল মঝি জানান, তার পরিবার এখনো ভয়ভীত অবস্থায় বসবাস করছে এবং তিনি দ্রুত আইনি ব্যবস্থা চেয়ে আছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “আমাদের ন্যায়বিচার দরকার, অপরাধীরা যেন শীঘ্রই গ্রেফতার হয়।”

পুলিশ বর্তমানে ঘটনাস্থল পরিদর্শন এবং সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদ চালিয়ে যাচ্ছে। গোপাল মঝি ও তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান করা হয়েছে।

এই মামলায় স্থানীয় প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সমন্বিত তদন্তের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে। জমি দখল, হিংসা এবং চুরির একাধিক অভিযোগ একসঙ্গে যুক্ত হওয়ায় আইনি প্রক্রিয়া জটিল হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন।

গোপাল মঝি ও তার পরিবার যে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, তা স্থানীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও অধিকার রক্ষার প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপে মামলাটির ন্যায়সঙ্গত সমাধান প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

এই ঘটনার পর পটুয়াখালী জেলার আইন শৃঙ্খলা বিভাগ বিষয়টি উচ্চ পর্যায়ে নিয়ে আলোচনা করেছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের হিংসা রোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments