ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা শনিবার দুপুর ১২টার দিকে আশুগঞ্জ উপজেলা পরিষদ সম্মেলনকক্ষে শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের আলোচনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হন। তিনি শহীদ মিনারে ফুল অর্পণ বাধা দেওয়া সংক্রান্ত ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিএনপি‑কে সতর্ক করেন যে, গত ২১শে তারিখের প্রথম ঘন্টায় নেতৃবৃন্দ ও কর্মীরা যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছে, তা অন্য নির্বাচনী এলাকায়ও ছড়িয়ে পড়তে পারে। যদি বিএনপি এই বাধা উপেক্ষা করে, তবে তাদের জন্য তা অনুকূল হবে না, এটাই তার স্পষ্ট বার্তা।
রুমিন ফারহানা উল্লেখ করেন, শহীদ মিনারে ফুল অর্পণ করতে না পারার কারণ ছিল বিএনপি কর্মীদের বাধা, যা সরাইলের শহীদ মিনারে ঘটেছিল। তিনি বলেন, রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে সবকিছুতে রাজনীতি করা আমাদের দুর্ভাগ্য, এবং ক্ষমতায় আসা সরকারই নিজেদের পছন্দমতো ইতিহাস রচনা করে। ফলে ইতিহাসের পাতায় মানুষকে দেবতা বা শয়তান হিসেবে দেখানো হয়, আর সাধারণ মানুষকে মাঝখানে রাখা হয় না।
বক্তা আরও উল্লেখ করেন, ভাষা আন্দোলনের প্রকৃত ঘটনার বর্ণনা পাঠ্যবইতে যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়নি। তিনি বলেন, সরকার বদলালেও ভাষা আন্দোলনের সঠিক ইতিহাস কোথাও সঠিকভাবে লিপিবদ্ধ হয়নি, যা জাতি হিসেবে দুঃখজনক ও লজ্জাজনক। এই মন্তব্যের সঙ্গে সঙ্গে তিনি রাজনৈতিক পরিবেশে ইতিহাসের সঠিক উপস্থাপনার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
আশুগঞ্জ উপজেলা পরিষদ সম্মেলনকক্ষে রাফে মোহাম্মদ ছড়ার সভাপতিত্বে আলোচনাটি পরিচালিত হয়। সভায় উপস্থিত ছিলেন আশুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এ কে এম সফিকুল আলম চৌধুরী, আশুগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের আমির মো. শাহজাহান ভূঁইয়া, এনসিপি সমন্বয়ক আমিনুল ইসলাম, সরকারি হাজি আব্দুল জলিল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. হুমায়ুন কবির এবং উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান। সবাই রুমিনের বক্তব্যে সমর্থন জানিয়ে ভাষা আন্দোলনের সঠিক ইতিহাস সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা পুনর্ব্যক্ত করেন।
শহীদ মিনারে রুমিনের ফুল অর্পণকে কেন্দ্র করে পূর্বে হট্টগোল সৃষ্টি হয় এবং ঢাকা‑সিলেট মহাসড়ক ১২ ঘণ্টা আগে অবরোধ করা হয়। এই ঘটনা রাজনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি করে এবং নিরাপত্তা সংস্থাগুলোকে সতর্ক করে। রুমিনের মতে, এমন বাধা না দিলে শহীদ মিনারকে সম্মান জানানো সহজ হতো, তবে রাজনৈতিক বিরোধের কারণে তা বাধাগ্রস্ত হয়েছে।
বিএনপি পক্ষ থেকে কোনো সরাসরি মন্তব্য পাওয়া যায়নি, তবে পূর্বে তাদের কর্মীরা শহীদ মিনারে প্রবেশে বাধা সৃষ্টি করার অভিযোগ রয়েছে। রুমিনের সতর্কতা অনুসারে, যদি এই ধরনের বাধা অব্যাহত থাকে, তবে নির্বাচনী পরিসরে তাদের জনপ্রিয়তা ও ভোটের ওপর প্রভাব পড়তে পারে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করছেন, শহীদ মিনার মত জাতীয় প্রতীককে বাধা দেওয়া ভোটারদের মনোভাব পরিবর্তন করতে পারে।
এই আলোচনার পর, রুমিন ফারহানা আবারও শহীদ মিনারের গুরুত্ব ও ভাষা আন্দোলনের সঠিক স্মরণে জোর দেন। তিনি উল্লেখ করেন, শহীদ মিনার কেবল স্মৃতিস্তম্ভ নয়, বরং দেশের স্বাধীনতা ও ভাষা সংরক্ষণের প্রতীক, যা সকলের সম্মান পেতে হবে। ভবিষ্যতে এমন বাধা না ঘটাতে সকল রাজনৈতিক দলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করা দরকার, তিনি আহ্বান জানান।
আশুগঞ্জের এই সভা, শহীদ দিবস ও মাতৃভাষা দিবসের সমন্বয়ে, রাজনৈতিক তীব্রতা ও ঐতিহাসিক স্মৃতির মিশ্রণ ঘটিয়েছে। রুমিনের বক্তব্যের ফলে বিএনপি‑এর প্রতি সতর্কতা বৃদ্ধি পাবে কি না, তা পরবর্তী রাজনৈতিক গঠনে নির্ধারিত হবে।



