আজ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের উপলক্ষে ঢাকা দক্ষিণ শহর শাখার আয়োজনে ক্যাকরাইলের ইনস্টিটিউশন অফ ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্সে একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে জামায়াত-এ-ইসলামির নায়েব-এ-আমীর প্রফেসর মুজিবুর রাহমান উপস্থিত ছিলেন এবং তিনি সরকারের বর্তমান নীতি সম্পর্কে মতামত প্রকাশ করেন।
মুজিবুর রাহমান উল্লেখ করেন যে, বর্তমান সময়ে একটি “জনমুখী নয় এমন সরকার” গঠন করা হয়েছে, যা জনগণের নির্বাচনী আদেশের বিরোধী। তিনি বলেন, এই সরকার জনগণের স্বার্থকে উপেক্ষা করে কাজ করছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্যদের শপথ নেওয়া ছাড়া প্রশাসন গঠন করা হয়েছে, যা প্রক্রিয়াগত বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে বাধ্য করে। এই বিষয়টি তিনি “অবৈধ শাসন” হিসেবে চিহ্নিত করেন।
মুজিবুর রাহমান সরকার ও বিরোধী দলকে আহ্বান জানান, রেফারেন্ডাম ফলাফলকে শান্তিপূর্ণভাবে কার্যকর করার জন্য একসাথে কাজ করা উচিত। তিনি জোর দিয়ে বলেন, যদি এই ফলাফল উপেক্ষা করা হয়, তবে জনগণ সরকারের প্রতি আস্থা হারাবে।
তিনি সতর্ক করেন, রেফারেন্ডাম ফলাফল না মানলে জনগণ সরকারকে গ্রহণ করবে না এবং পুনরায় বিদ্রোহের পথে পা বাড়াতে পারে। এই সম্ভাবনা তিনি দেশের নিরাপত্তা ও শাসন ব্যবস্থার জন্য গুরুতর হুমকি হিসেবে উপস্থাপন করেন।
ইতিহাসের দৃষ্টিকোণ থেকে মুজিবুর রাহমান উল্লেখ করেন, ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ ও অন্যান্য জাতীয় আন্দোলনের “বিকৃত ও খণ্ডিত” বর্ণনা পুনর্লিখন করা দরকার, যাতে তরুণ প্রজন্ম সঠিক ইতিহাস জানে। তিনি ঐতিহাসিক সত্যের পুনঃপ্রতিষ্ঠা দাবি করেন।
তিনি অতীতের শাসনব্যবস্থার সঙ্গে তুলনা করে বলেন, ব্রিটিশ, পাকিস্তানি ও স্বাধীন বাংলাদেশের সরকারগুলো কখনোই জনগণের মতবিরোধে শাসন বজায় রাখতে পারেনি। এই যুক্তি দিয়ে তিনি বর্তমান সরকারের নীতি-নির্ধারণে জনগণের মতামতকে অগ্রাধিকার দিতে আহ্বান জানান।
মুজিবুর রাহমান জানান, জামায়াত-এ-ইসলামি “চূড়ান্ত সংগ্রাম”ের জন্য প্রস্তুত, যাতে জনগণের অধিকার রক্ষা করা যায়। তবে তিনি একই সঙ্গে উল্লেখ করেন, বিরোধী দল হিসেবে সরকারকে পূর্ণ সহযোগিতা প্রদান করা হবে, যাতে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ হয়।
ভাষা সংরক্ষণের দিক থেকে তিনি সকল ক্ষেত্রেই বাংলা ভাষার ব্যবহার নিশ্চিত করার দাবি তোলেন। প্রয়োজনে ভাষা শহীদদের সম্মানে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা যেতে পারে, এ বিষয়ে তিনি সুপারিশ করেন।
অন্যান্য বক্তা, জামায়াতের সহকারী সচিব জেনারেল ও প্রাক্তন সংসদ সদস্য এএইচএম হামিদুর রহমান আজাদ, জুলাই চ্যারিটের বাস্তবায়নকে গণতন্ত্রের সুনিশ্চিতকরণ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, যারা জুলাই চ্যারিটিকে বাদ দিয়ে গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করার কথা বলেন, তারা মূলত স্বৈরশাসনের পথে অগ্রসর হচ্ছেন।
এই বক্তব্যগুলো রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন উত্তেজনা যোগ করতে পারে। রেফারেন্ডাম ফলাফল যদি সময়মতো কার্যকর না হয়, তবে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে পারে, অথবা জনঅসন্তোষের ঝুঁকি বৃদ্ধি পেতে পারে। ভবিষ্যতে এই বিষয়গুলো নির্বাচনী প্রক্রিয়া ও নীতি নির্ধারণে প্রভাব ফেলবে বলে অনুমান করা হচ্ছে।



