31.5 C
Dhaka
Saturday, February 21, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিব্রাজিল-ভারত সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ও বিরলধাতু সহযোগিতা

ব্রাজিল-ভারত সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ও বিরলধাতু সহযোগিতা

নরেন্দ্র মোদি এবং ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুলা দা সিলভা শনিবার দিল্লিতে বৈঠক শেষে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ও বিরলধাতু ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর চুক্তি স্বাক্ষর করেন। দুই দেশ এই চুক্তিকে সরবরাহ শৃঙ্খলকে স্থিতিশীল করার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছে।

নরেন্দ্র মোদি চুক্তির স্বাক্ষরের পর বললেন, “গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ও বিরলধাতু সংক্রান্ত এই চুক্তি সরবরাহ শৃঙ্খলকে শক্তিশালী করার দিকে একটি বড় পদক্ষেপ।” লুলা দা সিলভা একইভাবে উল্লেখ করে, “নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও গুরুত্বপূর্ণ খনিজের ক্ষেত্রে বিনিয়োগ ও সহযোগিতা এই চুক্তির মূল বিষয়।”

ব্রাজিল বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সংরক্ষণশীল দেশ, যা বৈদ্যুতিক গাড়ি, সোলার প্যানেল, স্মার্টফোন, জেট ইঞ্জিন এবং গাইডেড মিসাইলের মতো উচ্চ প্রযুক্তি পণ্যে ব্যবহৃত হয়। অন্যদিকে, ভারত চীন থেকে নির্ভরতা কমাতে দেশীয় উৎপাদন ও পুনর্ব্যবহার বাড়িয়ে নতুন সরবরাহকারী খুঁজছে।

চুক্তির বিশদ বিষয়গুলো এখনও প্রকাশিত হয়নি, তবে দু’দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানিয়েছেন, শনিবার মোট নয়টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে, যার মধ্যে ডিজিটাল সহযোগিতা, স্বাস্থ্য, উদ্যোক্তা উন্নয়ন ইত্যাদি ক্ষেত্র অন্তর্ভুক্ত।

ব্রাজিল ভারত এ-র ল্যাটিন আমেরিকায় সর্ববৃহৎ বাণিজ্যিক অংশীদার, নরেন্দ্র মোদি উল্লেখ করে বললেন, “পরবর্তী পাঁচ বছরে আমাদের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ২০ বিলিয়ন ডলারের উপরে নিয়ে যাওয়া আমাদের লক্ষ্য।” তিনি এটাও যোগ করেন, “বাণিজ্য কেবল সংখ্যা নয়, এটি পারস্পরিক বিশ্বাসের প্রতিফলন।”

লুলা দা সিলভা বুধবার দিল্লিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা শীর্ষ সম্মেলনের জন্য আসেন, সঙ্গে এক ডজনেরও বেশি মন্ত্রী ও ব্যবসায়িক নেতার দল। শনিবার তাকে আনুষ্ঠানিক স্বাগত জানিয়ে ভারতের স্বাধীনতা নায়ক মহাত্মা গান্ধীর প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়, তারপর নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক হয়।

বিশ্বে বিরলধাতুর উৎপাদনে চীন প্রায় একচেটিয়া অবস্থান রাখে, ফলে অনেক দেশ বিকল্প সরবরাহের সন্ধানে রয়েছে। বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, ভারত-ব্রাজিল সহযোগিতা যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স ইত্যাদি দেশের সঙ্গে চলমান সরবরাহ শৃঙ্খল উদ্যোগকে সমর্থন করবে।

দুই দেশের এই চুক্তি কেবল খনিজ ক্ষেত্রে নয়, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, ডিজিটাল প্রযুক্তি এবং স্বাস্থ্যসেবার মতো বহু ক্ষেত্রেও সহযোগিতা বাড়াবে বলে আশা করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে উভয় পক্ষের সংস্থা ও শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো যৌথ গবেষণা ও বিনিয়োগে অংশ নিতে পারে।

দিল্লিতে অনুষ্ঠিত এই শীর্ষ বৈঠকের পর, নরেন্দ্র মোদি ও লুলা দা সিলভা উভয়ই পারস্পরিক সম্পর্কের গভীরতা বাড়াতে এবং বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে বৈচিত্র্য আনতে প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। এই চুক্তি উভয় দেশের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে।

চুক্তির পরবর্তী ধাপ হিসেবে, উভয় দেশ সংশ্লিষ্ট শিল্প সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে বাস্তবায়ন পরিকল্পনা তৈরি করবে এবং নিয়মিত পর্যবেক্ষণ মেকানিজম স্থাপন করবে। এভাবে গুরুত্বপূর্ণ খনিজের সরবরাহ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং উভয় দেশের শিল্পের প্রতিযোগিতা ক্ষমতা বাড়ানো সম্ভব হবে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments