31.5 C
Dhaka
Saturday, February 21, 2026
Google search engine
Homeব্যবসামার্কিন সুপ্রিম কোর্টের রায়ে বাংলাদেশ‑যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তির ভিত্তি প্রশ্নবিদ্ধ

মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের রায়ে বাংলাদেশ‑যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তির ভিত্তি প্রশ্নবিদ্ধ

বৃহস্পতিবার মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্প প্রশাসন দ্বারা আরোপিত ব্যাপক শুল্কের বেশিরভাগ রদবদল করে। একই দিনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট সব দেশ থেকে আমদানি পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন। এই দুইটি উন্নয়ন বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বল্প সময়ে স্বাক্ষরিত পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তির মূল যুক্তিকে ঝুঁকিতে ফেলেছে।

বাণিজ্য চুক্তি, যা দুই মাসের মধ্যে আনুষ্ঠানিক নোটিফিকেশন বিনিময়ের পর কার্যকর হওয়ার কথা, এখনও সম্পূর্ণভাবে কার্যকর হয়নি। ফলে, চুক্তির শর্তাবলী পুনর্বিবেচনার সুযোগ এখনও বিদ্যমান।

চুক্তির মূল শর্তের মধ্যে ছিল যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বাংলাদেশকে ৩৭ শতাংশ পর্যন্ত পারস্পরিক শুল্ক আরোপের সম্ভাবনা, যা পরে শর্তসাপেক্ষে ১৯ শতাংশে কমানো হয়েছিল। তবে মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের রায়ের ফলে মূল শুল্ক কাঠামো অচল হয়ে যাওয়ায়, এই শর্তগুলোর বৈধতা পুনরায় পরীক্ষা করা প্রয়োজন।

অর্থনীতিবিদ মুস্তাফিজুর রহমান, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের বিশিষ্ট ফেলো, উল্লেখ করেন যে মূল শুল্কের ভিত্তি বাতিল হলে চুক্তির ন্যায়সঙ্গততা স্বয়ং প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে যায়। তিনি বলেন, “যদি মূল শুল্কের আইনি ভিত্তি রদবদল হয়, তবে চুক্তির মূল যুক্তি পুনর্বিবেচনা করা উচিত।”

মুস্তাফিজুরের মতে, নতুন ১০ শতাংশ শুল্কের প্রয়োগ সব দেশেই সমান, তাই বাংলাদেশকে বিশেষভাবে লক্ষ্য করা হচ্ছে না। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই অতিরিক্ত শুল্কের প্রভাবকে বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বিশ্লেষণ করা দরকার, যাতে দেশের রপ্তানি খাতের ওপর সম্ভাব্য ক্ষতি সঠিকভাবে মূল্যায়ন করা যায়।

চুক্তির কার্যকরী তারিখ নির্ধারিত ছিল নোটিফিকেশন বিনিময়ের দুই মাস পর, কিন্তু এখনো এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়নি। ফলে, আলোচনার জন্য সময়সীমা এখনও উন্মুক্ত। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ সরকারকে শর্তাবলী পুনরায় আলোচনা করার সুযোগ রয়েছে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন পূর্বে ৩৭ শতাংশ শুল্কের প্রস্তাব দিয়েছিল, যা পরে ১৯ শতাংশে কমানো হয়েছিল। তবে মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর শুল্ক কাঠামো পরিবর্তিত হওয়ায়, পূর্বে নির্ধারিত শর্তগুলোর বাস্তবায়ন এখন অনিশ্চিত।

মুস্তাফিজুর উল্লেখ করেন, “মূল শুল্ক কাঠামো আর না থাকায়, বাজার প্রবেশের বিস্তৃতি ও অন্যান্য রিয়ায়তিগুলোর পুনর্মূল্যায়ন প্রয়োজন।” তিনি আরও বলেন, নতুন শুল্কের প্রয়োগে বাংলাদেশকে একা লক্ষ্য করা হচ্ছে না, তবে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান বজায় রাখতে সমন্বিত নীতি প্রয়োজন।

অধিকন্তু, যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন সেকশন ২৩২ অনুযায়ী অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা সংরক্ষণ করেছে। এই ধারার অধীনে নিরাপত্তা সংক্রান্ত যুক্তি দিয়ে শুল্ক বাড়ানো যেতে পারে, যা ভবিষ্যতে বাণিজ্য সম্পর্কের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

বাংলাদেশের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এখন পর্যন্ত চুক্তির কার্যকরী তারিখের জন্য প্রয়োজনীয় নোটিফিকেশন প্রেরণ করেনি। ফলে, শর্তাবলীর পুনর্বিবেচনা ও আলোচনার জন্য সময়সীমা বাড়ছে। এই সময়ে দেশীয় শিল্প ও রপ্তানি সংস্থাগুলো নতুন শুল্কের প্রভাব সম্পর্কে সতর্কতা প্রকাশ করেছে।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, যদি যুক্তরাষ্ট্রের অতিরিক্ত শুল্কের নীতি স্থায়ী হয়, তবে বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের দাম আন্তর্জাতিক বাজারে বাড়তে পারে, যা রপ্তানি আয় হ্রাসের ঝুঁকি বাড়াবে। তাই, সরকারকে দ্রুত কূটনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণ করে শর্তাবলী পুনরায় আলোচনা করা জরুরি।

সারসংক্ষেপে, মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের রায় এবং নতুন ১০ শতাংশ শুল্কের ঘোষণার ফলে বাংলাদেশ‑যুক্তরাষ্ট্র পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তির মূল ভিত্তি পুনরায় মূল্যায়নের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। শর্তাবলীর পুনর্বিবেচনা, কূটনৈতিক আলোচনার ত্বরান্বিতকরণ এবং আন্তর্জাতিক বাজারের প্রেক্ষাপটে ঝুঁকি বিশ্লেষণ এখন দেশের বাণিজ্য নীতির অগ্রাধিকার।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
ব্যবসা প্রতিবেদক
ব্যবসা প্রতিবেদক
AI-powered ব্যবসা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments