বোলিউডের প্রখ্যাত অভিনেতা রনবীর কাপুর এবং তার পরিবার অ্যান্ডেরি ইস্ট, মুম্বাইতে পাঁচ তলা ভাড়া নিয়ে ২০ বছরের জন্য নতুন আর.কে. স্টুডিও গড়ার পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে। এই উদ্যোগটি হিন্দি সিনেমার ঐতিহ্যবাহী নামকে আধুনিক উৎপাদন কেন্দ্রে রূপান্তরিত করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।
ভাড়া নেওয়া সম্পত্তি কানাকিয়া ওয়াল স্ট্রিটের একটি বাণিজ্যিক কমপ্লেক্সে অবস্থিত এবং এখানে পাঁচ তলা স্থানকে স্টুডিও হিসেবে ব্যবহার করা হবে। লিজের শর্তাবলী প্রকাশ করা হয়নি, তবে ২০ বছরের দীর্ঘমেয়াদী চুক্তি নিশ্চিত করা হয়েছে।
আদিকালীন আর.কে. স্টুডিওটি রনবীরের দাদী, কিংবদন্তি শোম্যান রাজ কাপুরের প্রতিষ্ঠা করা একটি ঐতিহাসিক প্রতিষ্ঠান ছিল। মূলত চেম্বুরে অবস্থিত এই স্টুডিও বহু দশক ধরে হিন্দি চলচ্চিত্রের সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল।
২০১৮ সালে একটি বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ড এবং বাড়তি রক্ষণাবেক্ষণ খরচের ফলে মূল স্টুডিওটি বিক্রি করা হয়। সেই বিক্রয়ের পর থেকে পরিবারটি স্টুডিওর পুনরুজ্জীবনের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে চেয়েছে।
নতুন লিজকৃত স্থানে আধুনিক প্রযুক্তি সমন্বিত উৎপাদন সুবিধা গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। পাঁচ তলা জায়গা ভিন্ন ভিন্ন কাজের জন্য ভাগ করা হবে, যার মধ্যে থাকবে সাউন্ডস্টেজ, ভার্চুয়াল প্রোডাকশন, এডিটিং ও পোস্ট-প্রোডাকশন স্যুট।
সাউন্ডস্টেজগুলোকে সর্বাধুনিক সাউন্ড ইসোলেশন এবং উচ্চ মানের আলো ব্যবস্থা দিয়ে সজ্জিত করা হবে, যাতে বড় স্কেল চলচ্চিত্র ও বিজ্ঞাপন শুটিং সহজে সম্পন্ন করা যায়। ভার্চুয়াল প্রোডাকশন স্টুডিওতে রিয়েল-টাইম রেন্ডারিং ও মিক্সড রিয়ালিটি প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে।
এডিটিং ও পোস্ট-প্রোডাকশন স্যুটগুলোতে ৪কে রেজোলিউশন পর্যন্ত ভিডিও প্রক্রিয়াকরণ এবং অডিও মিক্সিংয়ের জন্য প্রয়োজনীয় হার্ডওয়্যার থাকবে। ভিএফএক্স (VFX) সুবিধা বিশেষভাবে ডিজাইন করা হবে, যাতে জটিল ভিজ্যুয়াল ইফেক্টের কাজ সহজে সম্পন্ন হয়।
স্টুডিও কমপ্লেক্সে স্ক্রিনিং রুম, হসপিটালিটি এলাকা এবং আর.কে. স্টুডিওর ঐতিহাসিক সামগ্রী সংরক্ষণের জন্য আর্কাইভাল স্টোরেজের ব্যবস্থা করা হবে। এই স্থানগুলো পরিবার ও কর্মীদের জন্য সৃজনশীল পরিবেশ গড়ে তুলতে সহায়ক হবে।
অধিকৃত লিজের আর্থিক শর্ত প্রকাশ না করলেও, অনুমান করা হচ্ছে যে মধ্য ২০২৬ সালের মধ্যে সব অনুমোদন ও পরিষ্কারকরণ সম্পন্ন হলে কার্যক্রম শুরু হতে পারে। এই সময়সূচি অনুযায়ী প্রথম চলচ্চিত্র ও বিজ্ঞাপন শুটিং শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
নতুন স্টুডিওটি একসঙ্গে একাধিক চলচ্চিত্র ও বিজ্ঞাপন প্রকল্প পরিচালনা করতে সক্ষম হবে, যা মুম্বাইয়ের অন্যান্য উৎপাদন কেন্দ্রের সঙ্গে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান তৈরি করবে। স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক নির্মাতাদের জন্য এটি একটি আকর্ষণীয় বিকল্প হতে পারে।
ইন্ডাস্ট্রি বিশ্লেষকরা রনবীরের এই পদক্ষেপকে তার ভবিষ্যৎ পরিচালনামূলক কাজের ভিত্তি হিসেবে দেখছেন। স্টুডিওটি যদি পরিচালনা বা দিকনির্দেশনা সংক্রান্ত তার স্বপ্নকে সমর্থন করে, তবে হিন্দি সিনেমার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে পারে।
এই উদ্যোগটি শুধুমাত্র আর.কে. স্টুডিওর গৌরবময় অতীতকে স্মরণ করিয়ে দেয় না, বরং ভারতীয় চলচ্চিত্র শিল্পের আধুনিকায়নের জন্য একটি কৌশলগত বিনিয়োগ হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।
চলচ্চিত্র প্রেমিক ও শিল্পের উত্সাহীরা এখন থেকে এই নতুন স্টুডিওতে তৈরি হওয়া কাজগুলোর দিকে নজর রাখবেন, যাতে দেশের সৃজনশীল শক্তি কীভাবে বিকশিত হচ্ছে তা পর্যবেক্ষণ করা যায়।
সুতরাং, রনবীর কাপুরের পরিবার যখন এই আধুনিক আর.কে. স্টুডিওকে চালু করবে, তখন দর্শক ও শিল্পকর্মের উত্সাহীরা নতুন কন্টেন্টের জন্য অপেক্ষা করে, এবং দেশের চলচ্চিত্র সংস্কৃতিতে অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়বে।



