31.5 C
Dhaka
Saturday, February 21, 2026
Google search engine
Homeআন্তর্জাতিকভারতীয় আকাশ প্রতিরক্ষায় ইজরায়েল প্রযুক্তির ওপর নির্ভরতা বাড়ছে

ভারতীয় আকাশ প্রতিরক্ষায় ইজরায়েল প্রযুক্তির ওপর নির্ভরতা বাড়ছে

মোদি সরকারের প্রতিনিধিত্বে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নতুন দিল্লি থেকে ইজরায়েল প্রতিরক্ষা বাহিনীর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার পর, দেশের আকাশ প্রতিরক্ষার জন্য ইজরায়েলীয় প্রযুক্তি ব্যবহার বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই চুক্তি ইজরায়েল-ভিত্তিক উন্নত সিস্টেমের মাধ্যমে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের আক্রমণ রোধে ভারতের সক্ষমতা বৃদ্ধি করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

দিল্লি-তেল আবিবের মধ্যে স্বাক্ষরিত চূড়ান্ত সমঝোতা স্মারক (MoU) অনুযায়ী, উভয় দেশ যৌথভাবে আধুনিক অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদনের জন্য সহযোগিতা করবে। এই চুক্তি শুধুমাত্র অস্ত্র উৎপাদন নয়, বরং গবেষণা ও উন্নয়ন, প্রশিক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণ ক্ষেত্রেও বিস্তৃত হবে।

একই সফরে, কৌশলগত সম্পর্ক, কৃষি, সন্ত্রাসবিরোধী সহযোগিতা এবং প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে একাধিক দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে বলে জানানো হয়েছে। বিশেষভাবে আকাশ প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত চুক্তি উভয় দেশের নিরাপত্তা কাঠামোকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে গৃহীত হয়েছে।

ইজরায়েল প্রতিরক্ষা বাহিনী বর্তমানে তিনটি প্রধান আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করে: ‘আয়রন ডোম’, ‘ডেভিডস স্লিং অ্যান্ড অ্যারো’ এবং যুক্তরাষ্ট্রের ‘থাড’। এই সিস্টেমগুলো শত্রু বিমান, ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্রের আক্রমণ প্রতিহত করতে সক্ষম।

ভারত বর্তমানে রাশিয়ার ‘এস-৪০০’ সিস্টেমকে থাডের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করছে এবং ইজরায়েল-রাশিয়া যৌথ উদ্যোগে নির্মিত ‘ইন্টিগ্রেটেড এয়ার ডিফেন্স ওয়েপন সিস্টেম’ (IADWS) আগামী সময়ে দেশের ‘আয়রন ডোম’ হিসেবে কাজ করবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

বহুস্তরীয় আকাশ প্রতিরক্ষা কাঠামোর অংশ হিসেবে ‘ওভার দ্য হরাইজন’ (OTHR) রাডার এবং ‘কুইক রিঅ্যাকশন সারফেস টু এয়ার মিসাইল’ (QRSAM) ইতিমধ্যে উন্নয়ন পর্যায়ে রয়েছে। এই সিস্টেমগুলো শত্রু ক্ষেপণাস্ত্রের প্রাথমিক সনাক্তকরণ এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়ার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে।

ইজরায়েলীয় রাফাল অ্যাডভান্সড ডিফেন্স সিস্টেমস এবং যুক্তরাষ্ট্রের রেথিয়ন সংস্থা যৌথভাবে গড়ে তোলা ‘ডেভিডস স্লিং অ্যান্ড অ্যারো’ এখন ভারতের নজরে এসেছে। এই সিস্টেমের মাধ্যমে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রকে আকাশে সনাক্ত করে তা ধ্বংস করা সম্ভব।

‘ডেভিডস স্লিং’ স্বল্পপাল্লার লক্ষ্যবস্তু এবং ‘অ্যারো’ দীর্ঘপাল্লার লক্ষ্যবস্তু আঘাত করতে ব্যবহৃত হয়। ‘অ্যারো-২’ ও ‘অ্যারো-৩’ সংস্করণগুলো ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের প্রতিরোধে ২০০ কিলোমিটার পর্যন্ত দূরত্বে কাজ করতে সক্ষম।

বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, ইজরায়েলীয় প্রযুক্তির সঙ্গে ভারতের সমন্বয় আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিবেশে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন ঘটাবে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে শত্রু বায়ু ও ক্ষেপণাস্ত্রের হুমকি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই ধরনের সহযোগিতা কৌশলগত ভারসাম্য রক্ষায় সহায়ক হবে।

ভবিষ্যতে, উভয় দেশ যৌথভাবে উৎপাদন ও রক্ষণাবেক্ষণ সুবিধা গড়ে তোলার পরিকল্পনা করেছে, যা দীর্ঘমেয়াদে সরবরাহ শৃঙ্খলকে স্থিতিশীল করবে এবং প্রযুক্তি স্থানান্তরকে ত্বরান্বিত করবে।

এই চুক্তির পরবর্তী মাইলস্টোন হিসেবে, প্রথম পর্যায়ের পরীক্ষামূলক শ্যুটিং ২০২৬ সালের শেষের দিকে সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে। সফল পরীক্ষার পর, সিস্টেমের পূর্ণাঙ্গ স্থাপন এবং অপারেশনাল ব্যবহার ২০২৭ সালের মধ্যে শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সামগ্রিকভাবে, ইজরায়েলীয় আকাশ প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির সঙ্গে ভারতের সমন্বয় দেশের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের বিরুদ্ধে রক্ষার ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াবে এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামোকে শক্তিশালী করবে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
AI-powered আন্তর্জাতিক content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments