31.5 C
Dhaka
Saturday, February 21, 2026
Google search engine
Homeশিক্ষামুন্সীগঞ্জে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের আলোচনা সভা

মুন্সীগঞ্জে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের আলোচনা সভা

২১ ফেব্রুয়ারি শনিবার মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস‑২০২৬ উদযাপনের অংশ হিসেবে একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার মূল উদ্দেশ্য ছিল ভাষা শহীদদের ত্যাগের তাৎপর্য তুলে ধরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে জাতীয় চেতনা জাগ্রত করা।

সভা পরিচালনা করেন জেলা প্রশাসক ও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দা নুরমহল আশরাফি। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুন্সীগঞ্জ‑৩ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মো. কামরুজ্জামান, যিনি ভাষা আন্দোলনের ঐতিহাসিক গুরুত্বে আলোকপাত করেন।

সভা শুরুর আগে দুইজন শিক্ষার্থী ভাষা আন্দোলন সম্পর্কে তাদের অনুভূতি প্রকাশ করেন এবং আরও দুইজন শিক্ষার্থী ভাষা আন্দোলনভিত্তিক কবিতা আবৃত্তি করেন। এই তরুণ কণ্ঠস্বরগুলো ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে আত্মত্যাগ করা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানায়।

বক্তারা জোর দিয়ে বলেন, ভাষা শহীদদের আত্মত্যাগই বাঙালির স্বাধিকার সংগ্রামের ভিত্তি গড়ে তুলেছে। এই সংগ্রাম ধারাবাহিকভাবে স্বাধীনতা অর্জনে এবং গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রেখেছে।

এছাড়া, ভাষা আন্দোলনের ধারাবাহিকতা কীভাবে দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক কাঠামোকে রূপান্তরিত করেছে, তা তুলে ধরা হয়। স্বাধীনতার পরও ভাষা ও সংস্কৃতির সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য অবিচল প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করা হয়।

বক্তারা নতুন প্রজন্মকে একুশের চেতনা গ্রহণে এবং বাংলা ভাষার মর্যাদা রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ কাজ করার আহ্বান জানান। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে এই ঐতিহাসিক দায়িত্বকে পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে গর্বের অনুভূতি জাগাতে উৎসাহিত করা হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপারিনটেনডেন্ট মো. মেনহাজুল আলম, পিপিএম; জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমা নাহার; উপপরিচালক, স্থানীয় সরকার মৌসুমী মাহবুব; কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. মো. হাবিবুর রহমান; অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মুহাম্মদ মুছাব্বেরুল ইসলাম; অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো. মাহমুদুর রহমান খোন্দকার।

মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তৌহিদুল ইসলাম, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাসুদুর রহমান, সরকারি হরগঙ্গা কলেজ ও সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ, যুগ্ম পরিচালক এনএসআই এবং বিভিন্ন দপ্তরের প্রধান কর্মকর্তারাও সমাবেশে অংশ নেন।

শিক্ষক-শিক্ষার্থী প্রতিনিধিরা, জুলাই যোদ্ধা এবং অন্যান্য সরকারি দপ্তরের কর্মচারীরা একত্রে ভাষা শহীদদের ত্যাগের স্মরণে আলোচনা চালিয়ে যান। এ সময় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে আগত শিক্ষার্থীরা তাদের মতামত ও প্রশ্ন তুলে ধরে।

অনুষ্ঠানের সমাপ্তিতে বিভিন্ন প্রতিযোগিতার বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। পুরস্কার প্রদানকারী কর্মকর্তারা শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ গঠনে ভাষা ও সংস্কৃতির গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করেন।

এই ধরনের অনুষ্ঠান শিক্ষাক্ষেত্রে ইতিহাসের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করে শিক্ষার্থীদের জাতীয় গর্বের অনুভূতি জোরদার করে। ভাষা শহীদদের ত্যাগের স্মরণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো কীভাবে কার্যকরী কর্মসূচি গড়ে তুলতে পারে, তা নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

আপনার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসকে পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করার কোনো পরিকল্পনা আছে কি? যদি না থাকে, তবে কীভাবে ছোট ছোট কার্যক্রমের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে এই ঐতিহ্যকে জীবন্ত রাখা যায়, তা নিয়ে ভাবা উচিত।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
শিক্ষা প্রতিবেদক
শিক্ষা প্রতিবেদক
AI-powered শিক্ষা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments