31.5 C
Dhaka
Saturday, February 21, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিশিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন জামায়াত-এ-ইসলামির শহীদ মিনার সফরকে রিব্র্যান্ডিং হিসেবে উল্লেখ করেন

শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন জামায়াত-এ-ইসলামির শহীদ মিনার সফরকে রিব্র্যান্ডিং হিসেবে উল্লেখ করেন

শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন ২১ ফেব্রুয়ারি শনিবার দুপুরে মিরপুরের পিটিআই মিলনায়তে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় উল্লেখ করেন, জামায়াত-এ-ইসলামি সম্প্রতি শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে নিজেকে নতুনভাবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করছে।

সমাবেশটি মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের সমন্বয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় আয়োজন করে, যেখানে শিক্ষাবিদ ও নীতিনির্ধারকরা অংশ নেন। প্রধান অতিথি হিসেবে শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্যই অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ হয়ে ওঠে।

মিলন বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ গড়ার দৃষ্টিকোণ থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রূপকল্পে পরিবর্তনের চিত্র দেখা যাচ্ছে এবং গতকাল তিনি একটি নতুন দৃশ্য প্রত্যক্ষ করেছেন—জামায়াত-এ-ইসলামি সদস্যদের শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা। তিনি এটিকে “সম্পূর্ণ রিব্র্যান্ডিং” হিসেবে ব্যাখ্যা করেন, যার মাধ্যমে দলটি নিজেকে পুনরায় পরিচয় দিতে চায়।

মন্ত্রীর মন্তব্যে স্পষ্ট হয়, পূর্বে জামায়াত-এ-ইসলামি শহীদ মিনার সফরে অনিচ্ছুক হলেও বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশে তারা এই পদক্ষেপটি গ্রহণ করেছে। তিনি এই পরিবর্তনকে রাজনৈতিক পুনর্গঠন এবং জনমত গঠনের একটি কৌশল হিসেবে উল্লেখ করেন।

শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে মিলন জোর দেন, ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের উন্নয়নের জন্য শিক্ষকদের প্রচলিত পদ্ধতির বাইরে গিয়ে সৃজনশীল ও “আউট অব দ্য বক্স” চিন্তা গ্রহণ করতে হবে। তিনি বলেন, শিক্ষকেরাই শিশুর সুশিক্ষার শপথ নিতে হবে এবং প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে নিজের সন্তান হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

মন্ত্রীর মতে, যদি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা প্রতিটি শিশুর প্রতি ব্যক্তিগত মনোযোগ দেন, তবে কোনো শিক্ষার্থীই পড়ে যাবে না। তিনি বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থার যুগোপযোগী রূপান্তর এবং মৌলিক পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা সভার সভাপতিত্ব করেন। তিনি মন্ত্রীর বক্তব্যের সঙ্গে একমত হয়ে শিক্ষাক্ষেত্রে সংস্কার ও আধুনিকায়নের গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করেন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষাপ্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, যিনি শিক্ষকদের প্রতি সমর্থন জানিয়ে শিক্ষার মানোন্নয়নে সরকারী উদ্যোগের কথা উল্লেখ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ ও সম্পদ সরবরাহে অতিরিক্ত মনোযোগ দেওয়া হবে।

সেশনের শেষে ভাষা শহীদদের স্মরণে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়, যা অনুষ্ঠানের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক দিককে সমৃদ্ধ করে।

এই আলোচনার পর বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, জামায়াত-এ-ইসলামির এই নতুন প্রকাশনা পার্টির রাজনৈতিক অবস্থানকে শক্তিশালী করতে পারে, বিশেষ করে নির্বাচনী সময়ে ভোটারদের কাছে নতুন ইমেজ গড়ে তোলার জন্য।

অন্যদিকে, বিরোধী দলগুলো এই পদক্ষেপকে কৌশলগত গণমাধ্যমের ব্যবহার হিসেবে সমালোচনা করতে পারে, যা রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার তীব্রতা বাড়াতে পারে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রাথমিক স্তরে শিক্ষকের প্রশিক্ষণ, পাঠ্যপুস্তক আধুনিকায়ন এবং শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে নতুন নীতি প্রণয়ন করা হবে।

মিলনের শেষ মন্তব্যে তিনি জোর দিয়ে বলেন, শিক্ষকেরা যদি প্রত্যেক শিশুকে নিজের সন্তান হিসেবে গড়ে তোলেন, তবে দেশের মানবসম্পদে কোনো ফাঁক থাকবে না এবং জাতি সমৃদ্ধ হবে।

এই আলোচনার পর, সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে শিক্ষার কাঠামোকে দ্রুত পরিবর্তন করে আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্য করা যায়।

সামগ্রিকভাবে, শিক্ষামন্ত্রীর এই বক্তব্য এবং জামায়াত-এ-ইসলামির সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড উভয়ই দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবেশে নতুন দিকনির্দেশনা সূচিত করেছে, যা পরবর্তী সময়ে কীভাবে বিকশিত হবে তা নজরে থাকবে।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments