শুক্রবার বিকাল প্রায় ১৪:২৫ টায় কুষ্টিয়া শহরের বায়পাস সড়কের কুষ্টিয়া স্টোরের সামনে একটি ট্রাকের ধাক্কা অটো রিকশা গাড়িকে ধ্বংস করে, ফলে গাড়িতে থাকা পাঁচজনের মধ্যে পাঁচজনই প্রাণ হারিয়ে।
সিএনজি (সিটিএনজি) পরিচালিত অটো রিকশা কবুরহাট থেকে বায়পাস পথে চলছিল, যখন বিপরীত দিক থেকে আসা একটি লোডেড ট্রাক হঠাৎ তার পথে হোঁচট খায় এবং সরাসরি রিকশার সঙ্গে ধাক্কা দেয়।
ধাক্কা পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রিকশা উল্টে যায়, যাত্রীদের মধ্যে তিনজন তৎক্ষণাৎ মৃত্যুবরণ করে, বাকি দুইজনকে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে শ্বাস বন্ধ হয়ে যায়।
সাক্ষীরা জানান, ট্রাকের চালক হঠাৎ ব্রেক না দিয়ে রিকশার দিকে অগ্রসর হওয়ায় সংঘর্ষের তীব্রতা বাড়ে এবং রিকশা নিয়ন্ত্রণ হারায়।
ঘটনা জানার সঙ্গে সঙ্গে কুষ্টিয়া হাইওয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়, মৃতদেহ উদ্ধার ও আহতদের তৎক্ষণাৎ সাড়া দেয়।
কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজের ২৫০ শয্যা সমৃদ্ধ হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. হোসেন ইমাম জানান, দুইজন পুরুষের দেহ হাসপাতালে পৌঁছেছে, তবে তাদের জীবন রক্ষা করা সম্ভব হয়নি।
হাইওয়ে পুলিশের ইনচার্জ অফিসার আবু ওবায়েদ দুর্ঘটনায় পাঁচজনের মৃত্যু নিশ্চিত করে, এবং সংঘর্ষে জড়িত উভয় যানবাহনকে জব্দ করা হয়েছে।
পুলিশ বর্তমানে ট্রাকের চালকের লাইসেন্স, গতি, ব্রেকের অবস্থা এবং রিকশার রক্ষণাবেক্ষণ সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করছে, যাতে দায়িত্ব নির্ধারণে সহায়তা করে।
দুর্ঘটনা ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের শাস্তি ও রিকশা পরিচালনার নিরাপত্তা মানদণ্ডের প্রয়োগের প্রশ্ন উত্থাপন করেছে, তাই সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো তদন্তে ত্বরান্বিত হবে বলে জানানো হয়েছে।
গত বছর কুষ্টিয়া জেলায় মোট ১২টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে, যার মধ্যে তিনটি অটো রিকশা জড়িত, যা স্থানীয় পরিবহন নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনর্বিবেচনার প্রয়োজনীয়তা নির্দেশ করে।
এই ভয়াবহ ঘটনার ফলে কুষ্টিয়া শহরের বাসিন্দাদের মধ্যে শোকের ছায়া ছড়িয়ে পড়েছে; স্থানীয় ব্যবসায়ী ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান মৃতদের পরিবারকে সমবেদনা জানিয়ে সহায়তা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
দুর্ঘটনা তদন্তের ফলাফল অনুযায়ী, ট্রাকের চালকের বিরুদ্ধে রাস্তায় গতি সীমা অতিক্রমের অভিযোগে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং রিকশা পরিচালনার নিরাপত্তা মানদণ্ড কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হবে।



