নিউইয়র্ক সিটির প্রথম মুসলিম মেয়র জোহরান মামদানি রমজান মাসকে নিজের জীবনের সবচেয়ে প্রিয় সময় হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। রমজান শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনি শহরের বিভিন্ন মিডিয়া সম্মেলনে এই বিষয়টি তুলে ধরেন এবং রমজানের সামাজিক ও আধ্যাত্মিক গুরুত্বের ওপর জোর দেন।
মামদানি রমজানকে “আত্মসমালোচনা ও সংহতির মাস” হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, রমজান শুধুমাত্র সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত খাবার ও পানীয় থেকে বিরত থাকার নাম নয়, বরং এটি আত্মশুদ্ধি এবং মানবিক মূল্যবোধকে শক্তিশালী করার একটি বিশেষ সুযোগ।
সম্মেলনে তিনি হালকা হাস্যরসের সঙ্গে নিজের তৃষ্ণার্ত হওয়ার কথা উল্লেখ করেন, তবে মূল বার্তা রমজানের গভীর অর্থে কেন্দ্রীভূত থাকে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই মাসটি ব্যক্তিগত ইবাদতকে ছাড়িয়ে সমাজের বিভিন্ন স্তরে সংহতি গড়ে তোলার একটি মাধ্যম।
নিউইয়র্কে বর্তমানে এক মিলিয়নেরও বেশি মুসলমান রোজা পালন করছেন। মেয়র মামদানি নিজেও রোজা রেখে শহরের দাপ্তরিক কাজ এবং জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলো তত্ত্বাবধান করেন। তার উপস্থিতি রমজানকালে শহরের সেবা কার্যক্রমে নতুন উদ্যম যোগায়।
সম্প্রতি তিনি একটি আবাসন সংক্রান্ত অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের সময় ইফতার মেহফিল এবং স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রমে যুক্ত হওয়ার কথা জানান। বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের সঙ্গে সরাসরি মিথস্ক্রিয়া তার জন্য বিশেষ আনন্দের বিষয় হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
কাজের ফাঁকে সেহরি করা এবং রাতের শিফটে কর্মরত কর্মীদের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত ইফতার ভাগ করা তার রুটিনের অংশ। তিনি এই মুহূর্তগুলোকে কর্মজীবনের ক্লান্তি দূর করার পাশাপাশি সামাজিক বন্ধন শক্তিশালী করার সুযোগ হিসেবে দেখেন।
রমজানের শুভেচ্ছা জানাতে তিনি ইউটিউবে একটি বিশেষ বার্তা প্রকাশ করেন, যেখানে তিনি বিশ্বব্যাপী মুসলমানদের রমজান মোবারক জানান। এই ডিজিটাল বার্তা তার আন্তর্জাতিক অনুসারীদের সঙ্গে সংযোগের একটি নতুন উপায় হিসেবে কাজ করে।
ব্যক্তিগত জীবনে রমজান তার জন্য অতিরিক্ত মানে বহন করে। উগান্ডার কাম্পালায় শৈশব কাটানো মামদানির জীবনে বহুসাংস্কৃতিক প্রভাব স্পষ্ট, যা তার ইফতার টেবিলে বিভিন্ন জাতীয় খাবারের মাধ্যমে প্রকাশ পায়। এই বৈচিত্র্য তার নেতৃত্বের শৈলীতে প্রতিফলিত হয়।
মামদানি রমজানের শৃঙ্খলা ও ত্যাগকে সামাজিক শক্তি হিসেবে মূল্যায়ন করেন। তিনি বলেন, রমজানের শিক্ষা ব্যক্তিগত স্তরে সীমাবদ্ধ না থেকে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব ও পারস্পরিক সহমর্মিতা গড়ে তুলতে সহায়ক।
নিউইয়র্কের মতো ব্যস্ত নগরে মেয়র হিসেবে তার কাজের সঙ্গে রমজানের আধ্যাত্মিক চর্চা যুক্ত করা তার জন্য একটি প্রেরণার উৎস। তিনি বিশ্বাস করেন, রমজানের সময় গড়ে ওঠা সহমর্মিতা এবং সংহতি যদি সারা বছর বজায় থাকে, তবে শহরের সামাজিক কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করা সম্ভব।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, রমজানের এই ইতিবাচক দিকগুলোকে শহরের নীতি ও পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত করা ভবিষ্যতে বিভিন্ন ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক গোষ্ঠীর মধ্যে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানকে সহজতর করবে। মেয়রের এই দৃষ্টিভঙ্গি নিউইয়র্কের বহুমুখী সমাজে একটি মডেল হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।



