শুক্রবার বিকাল ১১টায় কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার বৌলাই নাকভাঙ্গা মোড়ে একটি বাস এবং সিএনজি চালিত অটোরিকশার মুখোমুখি ধাক্কা লেগে পাঁচজন গুরুতরভাবে আহত হন। আহতদের মধ্যে সিএনজি চালকসহ চারজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।
পুলিশের সূত্রে জানা যায়, সকালবেলা করিমগঞ্জের চামটাঘাট থেকে সিএনজি অটোরিকশা ভৈরবের দিকে যাত্রা করছিল। একই সময়ে বিপরীত দিক থেকে একটি বাস বৌলাই নাকভাঙ্গা এলাকায় প্রবেশ করে এবং দু’গাড়ির সংঘর্ষ ঘটে। সংঘর্ষের ফলে সিএনজি চালকসহ চারজন যাত্রী এবং বাসের একজন যাত্রী গুরুতর আঘাত পেয়ে আহত হয়।
ঘটনা ঘটার সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দারা আহতদের উদ্ধার করে নিকটস্থ শি. স. ন. ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালে পৌঁছানোর পর চিকিৎসা দল দ্রুত জরুরি শল্যচিকিৎসা শুরু করে, তবে রোগীর অবস্থা এখনও স্থিতিশীল নয়।
হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আহতদের মধ্যে শ্বাসপ্রশ্বাসে সমস্যা, হাড় ভাঙ্গা এবং অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণসহ বিভিন্ন আঘাতের লক্ষণ দেখা গেছে। বর্তমানে সকল রোগীকে তীব্র পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় রক্ত সঞ্চালন ও শল্যচিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তৎক্ষণাৎ একটি FIR দায়ের করে। তদন্তের অধীনে ট্র্যাফিক পুলিশ, রোড সেফটি ইউনিট এবং স্থানীয় পুলিশ একত্রে কাজ করছে। প্রাথমিক তদন্তে দেখা যাচ্ছে, সিএনজি অটোরিকশা ও বাসের গতি ও সিগন্যাল লঙ্ঘনের সম্ভাবনা রয়েছে।
ট্র্যাফিক পুলিশ কর্মকর্তারা উল্লেখ করেছেন, দু’গাড়ির সংঘর্ষের মূল কারণ হতে পারে দু’পাশের চালকদের অযথা ত্বরান্বিত গতি এবং সিগন্যালের প্রতি অবহেলা। এছাড়া, বৌলাই নাকভাঙ্গা মোড়ে ট্র্যাফিক সিগন্যালের কাজের অবস্থা ও রোডের দৃশ্যমানতা নিয়ে অতিরিক্ত তদন্ত চালু করা হয়েছে।
আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে, সড়ক দুর্ঘটনায় সংশ্লিষ্ট চালকদের রোড ট্রান্সপোর্ট অ্যাক্ট, ২০১৮ এবং ট্র্যাফিক আইন অনুযায়ী দায়বদ্ধ করা হতে পারে। যদি গতি সীমা অতিক্রম বা সিগন্যাল লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে অপরাধমূলক দায়ের পাশাপাশি জরিমানা ও লাইসেন্স বাতিলের সম্ভাবনা রয়েছে।
বীমা সংস্থাগুলিও ঘটনায় সংশ্লিষ্ট গাড়ির বীমা নীতি অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ প্রদানের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে, সঠিক ক্ষতিপূরণ নির্ধারণের জন্য চিকিৎসা রিপোর্ট এবং পুলিশ তদন্তের ফলাফল প্রয়োজন হবে।
কিশোরগঞ্জের এই অংশে গত কয়েক মাসে অনুরূপ সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে, যা স্থানীয় নাগরিকদের মধ্যে রোড সেফটির প্রতি উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে। বিশেষ করে সিএনজি অটোরিকশা ও বাসের মতো বৃহৎ যাত্রীবাহী গাড়ির চলাচল সময়ে ট্র্যাফিক নিয়ন্ত্রণের ঘাটতি উল্লেখযোগ্য।
পূর্বে একই রুটে দু’বছর আগে একটি বাস-সিএনজি সংঘর্ষে তিনজনের মৃত্যু হয়েছিল, যা স্থানীয় প্রশাসনকে রোডের সিগন্যাল ও রোড সাইনেজ উন্নত করার নির্দেশ দিয়েছিল। তবে, বর্তমান ঘটনার পর পুনরায় রোডের অবস্থা ও সিগন্যালের কার্যকারিতা পর্যালোচনা করা হবে।
পুলিশ ও ট্র্যাফিক বিভাগ আগামী কয়েক দিনের মধ্যে বিস্তারিত তদন্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত করবে এবং সংশ্লিষ্ট আদালতে মামলার দায়েরের প্রস্তুতি নেবে। তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং রোড সেফটি নিশ্চিত করার জন্য অতিরিক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হবে।
এই ধরনের দুর্ঘটনা রোধে চালকদের সচেতনতা বৃদ্ধি, সিগন্যালের সঠিক ব্যবহার এবং রোডের অবকাঠামো উন্নয়ন অপরিহার্য বলে বিশেষজ্ঞরা জোর দিয়েছেন। স্থানীয় প্রশাসনও রোড সেফটি ক্যাম্পেইন চালু করার পরিকল্পনা করেছে, যাতে ভবিষ্যতে এমন দুঃখজনক ঘটনা কমে।



