33.3 C
Dhaka
Saturday, February 21, 2026
Google search engine
Homeআন্তর্জাতিকমার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কাতার ও বাহরাইনের সামরিক ঘাঁটি থেকে শত শত সৈন্য প্রত্যাহার...

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কাতার ও বাহরাইনের সামরিক ঘাঁটি থেকে শত শত সৈন্য প্রত্যাহার করেছে

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) কাতার ও বাহরাইনের প্রধান সামরিক ঘাঁটি থেকে শত শত সৈন্য প্রত্যাহার করেছে। পেন্টাগনের সূত্র অনুযায়ী, এই পদক্ষেপটি মধ্যপ্রাচ্যে সম্ভাব্য সংঘাতের ঝুঁকি কমাতে নেওয়া হয়েছে।

কাতারের আল উদেইদ বিমান ঘাঁটি থেকে কয়েকশো মার্কিন সৈন্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। এই ঘাঁটি পূর্বে অঞ্চলে মার্কিন বিমান অভিযান পরিচালনার মূল কেন্দ্র হিসেবে কাজ করত এবং সর্বোচ্চ দশ হাজার সৈন্যের উপস্থিতি ছিল।

বাহরাইনে, মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম ফ্লিটের কিছু ইউনিটও একই সময়ে ঘাঁটি ত্যাগ করেছে। এই ফ্লিটটি পারসিয়ান উপসাগরে নৌবাহিনীর উপস্থিতি বজায় রাখত এবং তার প্রত্যাহার অঞ্চলীয় নৌ নিরাপত্তা কাঠামোতে পরিবর্তন নির্দেশ করে।

ইরাক, সিরিয়া, কুয়েত, সৌদি আরব, জর্ডান এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে মার্কিন সেনা এখনও মোতায়েন রয়েছে। এই দেশগুলোতে চলমান প্রশিক্ষণ, পরামর্শ ও নিরাপত্তা সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়েছে।

প্রত্যাহারের পেছনে ইরানের ওপর সম্ভাব্য মার্কিন আক্রমণের আশঙ্কা উল্লেখ করা হয়েছে। বিশ্লেষকরা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেয়, তবে তেহরান দ্রুতই পার্শ্ববর্তী ঘাঁটি ও স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করে প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে।

ইরানীয় কর্তৃপক্ষের মতে, কোনো আক্রমণ ঘটলে তারা অঞ্চলে মোতায়েন থাকা মার্কিন বাহিনীর সব ঘাঁটি, সরঞ্জাম এবং সম্পদকে বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে গণ্য করবে। এই সতর্কতা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পরিবেশে উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলতে পারে।

জাতিসংঘের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে ইরানি মিশনের প্রধান স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন, যদি ইরানকে আক্রমণ করা হয়, তবে শত্রু বাহিনীর সকল ঘাঁটি ও সম্পদকে বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে ধরা হবে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে সম্ভাব্য অনিচ্ছাকৃত পরিণতির জন্য সম্পূর্ণ দায়িত্ব নিতে সতর্ক করেছেন।

বিশেষজ্ঞরা যুক্তি দেন, এই পদক্ষেপটি কেবলমাত্র সতর্কতামূলক নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক কৌশলের অংশ, যা ইরানের সঙ্গে সরাসরি সংঘাত এড়াতে চায়। একই সঙ্গে, এটি পার্শ্ববর্তী মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখতে একটি ভারসাম্যপূর্ণ বার্তা পাঠায়।

আল উদেইদ ঘাঁটি, যা মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সর্ববৃহৎ সামরিক ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত, তার গুরুত্বের কারণে এই প্রত্যাহার আন্তর্জাতিক নজর কেড়েছে। ঘাঁটি সাধারণত দশ হাজার সৈন্যের সমর্থন পায় এবং এয়ার ফোর্সের দীর্ঘ দূরত্বের আক্রমণ পরিকল্পনার কেন্দ্রবিন্দু।

পূর্বে যুক্তরাষ্ট্রের এই অঞ্চলে বিস্তৃত উপস্থিতি ছিল, তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কূটনৈতিক চাপ ও আঞ্চলিক অস্থিরতার ফলে ধীরে ধীরে পুনর্বিন্যাস দেখা গেছে। কাতার ও বাহরাইনের থেকে সৈন্য প্রত্যাহার এই প্রবণতার নতুন দিক নির্দেশ করে।

অঞ্চলীয় দেশগুলো এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে, যদিও কিছু দেশ এখনও যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা সহায়তার ওপর নির্ভরশীল। কূটনীতিকরা আশা প্রকাশ করেছেন যে, এই ধরনের সামরিক সমন্বয় ভবিষ্যতে কূটনৈতিক সমাধানের পথ প্রশস্ত করবে।

পরবর্তী সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক দল ইরান ও অন্যান্য মধ্যপ্রাচ্যীয় দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি স্থিতিশীল করার চেষ্টা করবে। বিশ্লেষকরা পূর্বাভাস দিচ্ছেন, যদি উত্তেজনা কমে, তবে পুনরায় কিছু ঘাঁটি সক্রিয় করা হতে পারে, তবে তা নির্ভর করবে ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক অগ্রগতির ওপর।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
AI-powered আন্তর্জাতিক content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments