একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দ্বারা তৈরি ভিডিও সম্প্রতি টিকটক ও ইনস্টাগ্রাম রিলসে লক্ষ লক্ষ ভিউ অর্জন করেছে। ভিডিওতে কালো ত্বকের তরুণ পুরুষদের একটি দল ব্যালাক্লাভা ও প্যাডেড জ্যাকেট পরে পানির স্লাইডে নামছে, যার শেষ গন্তব্য একটি ময়লা সুইমিং পুল যেখানে ভাসছে আবর্জনা। ক্যাপশনটি এই দৃশ্যকে ক্রয়ডনের করদাতা-অর্থায়িত জল পার্ক হিসেবে উপস্থাপন করেছে।
এই ভিডিওটি একাধিক অনুরূপ কৃত্রিম ভিডিওর ধারার অংশ, যেগুলো প্রায়ই দক্ষিণ লন্ডনের একই পাড়া‑বিভাগে ঘটছে বলে দাবি করে। একই ধরনের দৃশ্যাবলি বিভিন্ন অনলাইন অ্যাকাউন্টে পুনরায় তৈরি হয়ে টিকটক ও ইনস্টাগ্রাম রিলসে মিলিয়ন ভিউ সংগ্রহ করেছে। এই কন্টেন্টগুলোতে নগর অবনতি, অপরাধ এবং অভিবাসী প্রবাহের অতিরঞ্জিত চিত্র তুলে ধরা হয়।
বিশেষজ্ঞরা এই প্রবণতাকে “ডিক্লাইন পর্ন” বলে অভিহিত করেছেন, যেখানে পশ্চিমা শহরগুলোকে অবনতি ও অশান্তির চিত্রে উপস্থাপন করা হয়। যদিও কিছু ভিডিও স্পষ্টভাবে ব্যঙ্গাত্মক, অন্যগুলো বাস্তবের মতো দেখায় এবং কিছু দর্শকের মধ্যে রাগ ও বর্ণবাদী প্রতিক্রিয়া উস্কে দেয়। এই ধরনের কন্টেন্টের বিস্তার সামাজিক বিভাজন বাড়াতে পারে।
বিবিসি এই ভিডিওগুলোর উৎপত্তি অনুসন্ধান করে “টপ কমেন্ট” নামের পডকাস্টে বিষয়টি বিশ্লেষণ করেছে। তদন্তে প্রকাশ পেয়েছে যে ভিডিওটির স্রষ্টা অনলাইন হ্যান্ডেল “RadialB” ব্যবহার করেন। তিনি ২০-এর দশকের একজন তরুণ, উত্তর‑পশ্চিম ইংল্যান্ডের বাসিন্দা এবং কখনো ক্রয়ডনে যাননি।
RadialB জানান তিনি মূলত হাস্যকর কন্টেন্ট তৈরি করার উদ্দেশ্যে এই ভিডিওটি তৈরি করেছেন, তবে একই সঙ্গে দর্শকদের এটিকে বাস্তব বলে বিশ্বাস করাতে চেয়েছেন যাতে বেশি মনোযোগ ও শেয়ার পাওয়া যায়। তিনি উল্লেখ করেন, “যদি মানুষ সঙ্গে সঙ্গে বুঝতে পারে যে এটি নকল, তবে তারা স্ক্রল করে চলে যাবে। জেনারেটিভ AI মডেলের বিক্রয় পয়েন্টই হল বাস্তবের মতো দেখানো।”
স্রষ্টা তার প্রকৃত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক, তবে তিনি স্বীকার করেছেন যে তার কাজের ফলে অন্যান্য় ব্যবহারকারী অনুকরণকারী অ্যাকাউন্ট তৈরি করেছে। এই কপি‑ক্যাট অ্যাকাউন্টগুলো একই ধরনের দৃশ্য তৈরি করে এবং একই প্ল্যাটফর্মে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দিচ্ছে।
এই ঘটনার মাধ্যমে দেখা যায় যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে তৈরি করা ভিজ্যুয়াল কন্টেন্ট দ্রুতই বৃহৎ দর্শকের কাছে পৌঁছাতে পারে, বিশেষ করে টিকটকের মতো স্বল্প সময়ে প্রচুর ভিউ অর্জনকারী প্ল্যাটফর্মে। তবে একই সঙ্গে এই প্রযুক্তি কীভাবে রাজনৈতিক বা সামাজিক উদ্দেশ্যে বিকৃত হতে পারে তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করছেন, ডিজিটাল মিডিয়ায় AI‑নির্মিত কন্টেন্টের সঠিক যাচাই ও ব্যবহারকারীর সচেতনতা বৃদ্ধি করা জরুরি। সামাজিক নেটওয়ার্কে দ্রুত শেয়ার হওয়া ভিডিওগুলোকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সত্য হিসেবে গ্রহণ না করে, বিষয়বস্তুর উৎস ও উদ্দেশ্য বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।
সামগ্রিকভাবে, ক্রয়ডনের এই নকল ভিডিও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির সৃজনশীল সম্ভাবনা ও অপব্যবহারের ঝুঁকি উভয়ই প্রকাশ করে। ভবিষ্যতে এ ধরনের কন্টেন্টের প্রভাব কমাতে মিডিয়া সাক্ষরতা ও প্রযুক্তিগত যাচাই প্রক্রিয়া শক্তিশালী করা অপরিহার্য।



