33.3 C
Dhaka
Saturday, February 21, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিকেরানীগঞ্জে ভাষা শহিদদের স্মরণে ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের প্রতিশ্রুতি

কেরানীগঞ্জে ভাষা শহিদদের স্মরণে ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের প্রতিশ্রুতি

শুক্রবার সকাল ১১টায় কেরানীগঞ্জ উপজেলার কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে ভাষা শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন অনুষ্ঠানের পর ঢাকা‑২ আসনের সংসদ সদস্য আমানউল্লাহ আমান ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের গুরুত্ব তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন। তিনি উল্লেখ করেন, ২১ ফেব্রুয়ারি শুধুই শোকের দিন নয়, তা প্রতিবাদ, আত্মমর্যাদা ও গণঅধিকারের প্রতীক।

বক্তা বলেন, ভাষা আন্দোলনের শহিদরা মাতৃভাষার মর্যাদা ও বাঙালির আত্মপরিচয়ের প্রশ্নে জীবন উৎসর্গ করে একটি বৈষম্যহীন সমাজের স্বপ্ন দেখেছিলেন। তাদের আত্মত্যাগের মূল লক্ষ্য ছিল এমন একটি রাষ্ট্র গঠন যেখানে কোনো ধর্ম, বর্ণ বা ভাষার ভিত্তিতে বৈষম্য না থাকে।

আমানউল্লাহ আমান জোর দিয়ে বলেন, ভাষা শহিদদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের একমাত্র উপায় হল বৈষম্যহীন, মানবিক ও গণতান্ত্রিক কাঠামো গড়ে তোলা। তিনি যুক্তি দেন, ২১ ফেব্রুয়ারির চেতনা আমাদেরকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে সক্রিয়ভাবে সাড়া দিতে এবং জনগণের অধিকার রক্ষায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে অনুপ্রাণিত করে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকার, অর্থাৎ বাংলাদেশ সরকার, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে এই আদর্শকে বাস্তবায়ন করার জন্য নতুন পরিকল্পনা চালু করেছে। সরকার মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষা, সংস্কৃতির বিকাশ এবং দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার ইরফান ইবনে আমান, পাশাপাশি স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন পেশার মানুষ। তারা ভাষা শহিদদের প্রতি সম্মান জানিয়ে সরকারের নীতি বাস্তবায়নে ত্বরান্বিত পদক্ষেপের আহ্বান জানায়।

বিএনপি প্রতিনিধিরা উল্লেখ করেন, ভাষা শহিদদের স্মরণে করা এই ধরনের অনুষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ, তবে রূপকথা নয়, বাস্তব নীতি ও কার্যকরী পরিকল্পনা দরকার। তারা শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও সংখ্যালঘু অধিকার সংক্রান্ত প্রতিশ্রুতি দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি তুলে ধরে, যা শহিদদের সমতা ও ন্যায়ের স্বপ্নের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

অনুষ্ঠানের পর সাংবাদিক ও স্থানীয় বাসিন্দারা শহিদ মিনারের সামনে গৃহীত শোকস্মরণীয় অনুষ্ঠান ও আমানউল্লাহ আমানের বক্তব্য পর্যবেক্ষণ করেন। উপস্থিতরা লক্ষ্য করেন, বক্তার ভাষা সরকারী নীতি ও জাতীয় ঐতিহ্যের সংযোগ স্থাপন করার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা যায়।

বিশ্লেষকরা মন্তব্য করেন, ভাষা আন্দোলনের ঐতিহাসিক গুরুত্বকে রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যবহার করা বর্তমান সরকারের জন্য একটি কৌশলগত পদক্ষেপ। ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের প্রতিশ্রুতি ভবিষ্যতে আইনসভার আলোচনায় বৈষম্যবিরোধী আইন ও সাংস্কৃতিক সংরক্ষণ সংক্রান্ত বিধানকে প্রভাবিত করতে পারে।

বিএনপি নেতারা তদুপরি উল্লেখ করেন, সরকারকে ভাষা শহিদদের আদর্শকে কেবল বক্তৃতায় নয়, বাস্তব নীতিতে রূপান্তর করতে হবে; তা না হলে জনগণের আস্থা ক্ষয় হতে পারে। তারা সমতা, সামাজিক ন্যায় ও অর্থনৈতিক সুযোগের ক্ষেত্রে স্পষ্ট পদক্ষেপের দাবি পুনরায় তুলে ধরেন।

এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিভিন্ন সামাজিক গোষ্ঠী ও পেশাজীবীও ভাষা শহিদদের ত্যাগের প্রতি সম্মান জানিয়ে দেশের উন্নয়নে সক্রিয় অংশগ্রহণের ইচ্ছা প্রকাশ করেন। তারা একসাথে কাজ করার মাধ্যমে ন্যায়সঙ্গত সমাজ গঠনের সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদী হন।

সামগ্রিকভাবে, কেরানীগঞ্জে অনুষ্ঠিত এই স্মরণীয় অনুষ্ঠান সরকারী ও বিরোধী উভয় পক্ষকে ভাষা আন্দোলনের ঐতিহ্যকে আধুনিক রাজনৈতিক কাঠামোর সঙ্গে সংযুক্ত করার সুযোগ প্রদান করেছে। ভবিষ্যতে ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যকে বাস্তবায়ন করতে কী ধরনের আইন ও নীতি গৃহীত হবে, তা দেশের রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments