চট্টগ্রাম বিভাগের কর্ণফুলী উপজেলায় গত রাত ৯:৩০ টার পরে ইস্লামি ছাত্র শিবির ও বিএনপি সংযুক্ত সমিতির সক্রিয় সদস্যদের মধ্যে সংঘর্ষে কমপক্ষে সাতজন আহত হয়েছেন। ঘটনাস্থলটি বারৌথান এলাকার কাছাকাছি অবস্থিত এবং আহতদের মধ্যে চারজনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (সিএমসিএইচ) তে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশের জানামতে, অবশিষ্ট দুইজনকে উপজেলায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্থানান্তর করা হয়েছে।
আহতদের মধ্যে রয়েছে কর্ণফুলী উপজেলার যুবদল সদস্য মোঃ শাহেদ আলম তিতু, বারৌথান ইউনিয়নের কৃষক দল যৌথ সমন্বয়ক মোঃ মনজুর, বারৌথান ইউনিয়নের যুবদল নেতা মোঃ ইমন এবং বারৌথান ইউনিয়নের শ্রমিক দল যৌথ সমন্বয়ক মোঃ ফারুক। এ ছাড়া দুজনের নাম প্রকাশ না করা হলেও তারা সংশ্লিষ্ট সমিতির সক্রিয় সদস্য হিসেবে চিহ্নিত। সকল আহতের অবস্থার ভিত্তিতে চিকিৎসা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
পুলিশের মতে, এই সংঘর্ষের মূল কারণ ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে দুই দলের মধ্যে উদ্ভূত মতবিরোধ। নির্বাচনের দিনই দুই দল ডিগির পার সরকারী প্রাইমারি স্কুল ভোটিং সেন্টারে মুখোমুখি হয়। উভয় পক্ষের মধ্যে তীব্র তর্কের পর সামরিক ও পুলিশ বাহিনীর হস্তক্ষেপে উভয় দলকে বিচ্ছিন্ন করা হয়।
সেই ঘটনার পরেও উত্তেজনা অব্যাহত থাকায়, রাত ৯:৩০ টার পরে বারৌথান এলাকায় আবার সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। উভয় দলের সদস্যদের মধ্যে তীব্র কথোপকথনের পর শারীরিক দাঙ্গা শুরু হয়। এইবার দাঙ্গা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং কিছু অংশে অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে বলে জানা যায়।
কর্ণফুলী জোনের সহকারী কমিশনার জামাল উদ্দিন চৌধুরী জানান, দুই দল একে অপরের ওপর আক্রমণ চালায় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ ও সেনা বাহিনীর সহায়তা প্রয়োজন হয়। তিনি উল্লেখ করেন, দাঙ্গার সময় উভয় পক্ষই গুলি চালায় না, তবে শারীরিক আঘাতের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য।
পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগে আহতদের দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও উপজেলায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হয় এবং গুরুতর অবস্থার রোগীদের ভর্তি করা হয়। আহতদের অবস্থা স্থিতিশীল থাকায় এখনো কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।
দাঙ্গা থামানোর পর পুলিশ একজন সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করে এবং তার বিরুদ্ধে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ চালায়। গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির পরিচয় প্রকাশ না করা হলেও তিনি উভয় দলের মধ্যে সংঘর্ষে ভূমিকা রাখার অভিযোগে আটক করা হয়েছে।
এই মুহূর্তে ঘটনাটির উপর কোনো আইনি মামলা দায়ের করা হয়নি, তবে তদন্ত চলমান রয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, সব প্রমাণ সংগ্রহের পর প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় প্রশাসন এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলি পরিস্থিতি শান্ত করার জন্য অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের রাজনৈতিক সংঘর্ষের পুনরাবৃত্তি রোধে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
এই ঘটনায় প্রভাবিত পরিবারগুলোকে সহায়তা প্রদান এবং আহতদের দ্রুত সঠিক চিকিৎসা নিশ্চিত করার জন্য স্থানীয় স্বাস্থ্য ও সামাজিক সেবা সংস্থাগুলি সমন্বিতভাবে কাজ করছে। শেষ পর্যন্ত, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য সকল সংশ্লিষ্ট পক্ষকে শান্তিপূর্ণ সমাধানের দিকে মনোনিবেশ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।



