ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি আয়োজিত পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান, দেশের বর্তমান অবস্থা ও যুব সমাজের ভূমিকা নিয়ে বিশদ বক্তব্য রাখেন। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের বহু প্রতিষ্ঠান ধ্বংসের পথে অগ্রসর হয়েছে এবং এই অবস্থা অতিক্রম না করা পর্যন্ত অগ্রগতি সম্ভব নয়।
বক্তব্যে তিনি বলেন, ভালো চাওয়া স্বাভাবিক, তবে বাস্তবতা বিবেচনা করে যা সম্ভব তা অর্জনের জন্য সমন্বিত প্রচেষ্টা দরকার। একা কোনো কাজের দায়িত্ব নেওয়া সম্ভব নয়; সহযোগিতা ছাড়া কোনো প্রকল্প সফল হতে পারে না।
নাজারুল ইসলাম খান দেশের বিভিন্ন সংস্থার অবনতির কারণ হিসেবে দলীয়করণ, আত্মীয়করণ, দুর্নীতি এবং অযোগ্য ব্যক্তিদের দায়িত্ব প্রদানকে উল্লেখ করেন। তিনি যুক্তি দেন, এই সব উপাদান একত্রে দেশের সামগ্রিক নাশের দিকে নিয়ে যাচ্ছে এবং এই ধ্বংসাবশেষ থেকে বেরিয়ে আসা একমাত্র পথ হল সংহতি ও সঠিক নীতি অনুসরণ।
যুব সমাজের হতাশা নিয়ে তিনি বলেন, অনেক তরুণের মনে গভীর কষ্টের অনুভূতি রয়েছে। এই কষ্ট দূর করতে হলে একক প্রচেষ্টা যথেষ্ট নয়; সমষ্টিগত উদ্যোগের মাধ্যমে তাদের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করা দরকার, নতুবা তাদের স্বপ্নই অসম্পূর্ণ রয়ে যাবে।
নিজের রাজনৈতিক যাত্রা সম্পর্কে তিনি স্বীকার করেন, তিনি শ্রমিক আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং দীর্ঘ সময় কষ্ট সহ্য করেছেন। তিনি বলেন, দেশের, সহকর্মীদের এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সফলতা তার জন্য সর্বোচ্চ অর্জন, যদিও তা একদিনের কাজ নয়, তবে অনিবার্য।
বক্তব্যে তিনি বাংলাদেশের বিশাল যুব জনসংখ্যাকে দেশের সর্ববৃহৎ শক্তি হিসেবে তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, বিশ্বের বেশিরভাগ দেশে এমন বিশাল তরুণ জনসংখ্যা নেই, এবং যদি তাদের দক্ষতা, নৈতিকতা ও চিন্তাধারা সমন্বিতভাবে কাজে লাগানো যায়, তবে দেশটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করবে।
জনসংখ্যাকে সমস্যার বদলে সম্পদে রূপান্তর করার গুরুত্ব তিনি জোর দিয়ে বলেন। জনসংখ্যা বৃদ্ধি যদি সঠিকভাবে পরিচালিত না হয়, তবে তা ব্যয়বহুল সমস্যায় পরিণত হতে পারে, তবে পরিকল্পিত নীতি ও প্রশিক্ষণ দিয়ে এটি জাতীয় সম্পদে রূপান্তরিত করা সম্ভব।
পানি ব্যবস্থাপনা নিয়ে তিনি একটি উদাহরণ দেন: কিছু অঞ্চলে পানির ঘাটতি, অন্যদিকে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের ফলে বন্যা দেখা যায়। তিনি বলেন, অতিরিক্ত পানিকে সংরক্ষণ এবং কম পানিকে সঠিকভাবে ব্যবহার করলে এই সমস্যাগুলি সমাধানযোগ্য। পরিকল্পিত উদ্যোগের মাধ্যমে জলসম্পদকে সুষমভাবে ব্যবহার করা যায়।
তরুণদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, শুধুমাত্র স্বপ্ন দেখা যথেষ্ট নয়; তা বাস্তবায়নের জন্য সক্রিয় পদক্ষেপ নিতে হবে। তিনি আহ্বান জানান, খালি অভিযোগ নয়, বরং যৌথ প্রচেষ্টার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় লক্ষ্য অর্জন করা উচিত।
বিতর্ক ও আলোচনার মাধ্যমে পথনির্দেশের গুরুত্ব তিনি উল্লেখ করেন, যাতে যুব সমাজের কণ্ঠস্বর নীতিনির্ধারণে প্রভাব ফেলতে পারে। তিনি বলেন, সমালোচনা ও গঠনমূলক আলোচনা দেশের উন্নয়নের জন্য অপরিহার্য।
জাতীয় পর্যায়ে বিতর্ক প্রতিযোগিতা আয়োজনের বিষয়ে তিনি উল্লেখ করেন যে, এই ধরনের উদ্যোগগুলো তরুণদের চিন্তাশক্তি ও যুক্তি বিকাশে সহায়ক। তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া (বিএনপি চেয়ারপার্সন) এর সঙ্গে এই ধরনের কার্যক্রমের সমন্বয় দেশের ঐক্যবদ্ধতা বাড়াতে পারে।
বক্তব্যের শেষে তিনি পুনরায় জোর দিয়ে বলেন, যুব শক্তি যদি সঠিকভাবে ব্যবহার করা হয়, তবে বাংলাদেশ তার উন্নয়নের লক্ষ্য দ্রুত অর্জন করতে পারবে। তিনি সকলকে আহ্বান করেন, স্বপ্নকে বাস্তবে রূপান্তরিত করতে একসাথে কাজ করতে।
এই বক্তব্যের মাধ্যমে নজরুল ইসলাম খান দেশের বর্তমান চ্যালেঞ্জ ও যুব সমাজের সম্ভাবনা উভয়ই তুলে ধরেছেন, এবং সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে উন্নয়নের পথ সুগম করার আহ্বান জানিয়েছেন।



