রাজশাহী শহরে আজ রাত্রি ১২:০১ টায় নতুন শহীদ মিনার উদ্বোধন করা হয়। মিজানুর রহমান মিনু এবং রাজশাহী বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা শোকস্মরণে ফুল অর্পণ করেন। এই অনুষ্ঠান আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে অনুষ্ঠিত হয়, এবং শহরের বাসিন্দাদের জন্য একত্রে স্মরণ করার সুযোগ তৈরি করে।
মিনারটি রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে নির্মিত, মোট খরচ প্রায় ৭.৮ কোটি টাকা এবং প্রায় এক একর জমিতে স্থাপিত। নকশা দিক থেকে ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের অনুকরণে তৈরি, ফলে ঐতিহাসিক চেহারা বজায় থাকে। নির্মাণ কাজ জেলা পরিষদের তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন হয়েছে।
উদ্বোধনের পর সাধারণ জনগণকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়, যা শহরের বাসিন্দাদের জন্য প্রথমবারের মতো একক স্থানে সমবেতভাবে শোক প্রকাশের সুযোগ দেয়। পূর্বে বাসিন্দারা ভুবনমোহন পার্ক, রাজশাহী কলেজ এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পৃথক শহীদ মিনারে আলাদাভাবে ফুল অর্পণ করতেন। একত্রে এক স্থানে সমাবেশের মাধ্যমে স্মরণীয় মুহূর্ত তৈরি হয়েছে।
শহীদ মিনারের ভিত্তি শিলার কাজ ১৬ ডিসেম্বর ২০২০ তারিখে ভাষা আন্দোলনের প্রবীণ ও মুক্তিযোদ্ধা গোলাম আরিফ টিপু দ্বারা রাখা হয়। সেই সময় থেকে সিটি কর্পোরেশনের তত্ত্বাবধানে নির্মাণ কাজ ধীরে ধীরে অগ্রসর হয় এবং আজ সম্পূর্ণ রূপে উন্মুক্ত হয়েছে।
রাজশাহী কলেজের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র কামরুল ইসলাম জানান, পূর্বে তাদের ক্যাম্পাসের শহীদ মিনারে আলাদাভাবে স্মরণ করা হতো, তবে এখন একক শহীদ মিনার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মানুষকে একত্রে ফুল অর্পণ করার নতুন অর্থবহ সুযোগ প্রদান করে। তিনি উল্লেখ করেন, এই সমাবেশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ঐক্যবদ্ধতা বাড়াবে।
অন্য এক বাসিন্দা হাসান মেহদি তার পরিবারসহ শহীদ মিনার পরিদর্শনের কথা শেয়ার করেন। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে তারা পূর্বে বিভিন্ন শহীদ মিনারে গিয়ে স্মরণ করতেন, কিন্তু এখন এক স্থানে পরিবারসহ একত্রে আসা সহজ হয়েছে। এই পরিবর্তন তাদের জন্য বিশেষ আনন্দের বিষয়।
শহরের শিক্ষাব্যবস্থার জন্য এই নতুন শহীদ মিনার একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে। শিক্ষার্থীরা এখানে ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস সম্পর্কে সরাসরি জানার সুযোগ পাবে, যা তাদের জাতীয় গর্ব ও পরিচয়ের অনুভূতি জোরদার করবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোও এই স্থানকে ব্যবহার করে স্মরণিক অনুষ্ঠান ও আলোচনা সভা আয়োজন করতে পারবে।
ভাষা দিবসে শিক্ষার্থীরা শহীদ মিনার পরিদর্শন করে দলগতভাবে ভাষা আন্দোলনের মূল ঘটনা ও নায়কদের সম্পর্কে আলোচনা করতে পারে। এছাড়া শ্রেণিকক্ষে ছোট দল গঠন করে স্মরণিক কার্যক্রম পরিকল্পনা করা একটি কার্যকর পদ্ধতি হতে পারে।
আপনার মতামত কী, একক শহীদ মিনার কি শিক্ষার পরিবেশে নতুন প্রেরণা যোগাবে? এই প্রশ্নের উত্তর দিয়ে আপনার অভিজ্ঞতা শেয়ার করুন।



