ইমিন আলপারের পরিচালিত ও স্ক্রিনরাইট করা ‘সালভেশন’ (কুর্তুলুশ) ১ ঘণ্টা ৫৯ মিনিটের দৈর্ঘ্যের তুর্কি চলচ্চিত্র, বার্লিন চলচ্চিত্র উৎসবে প্রতিযোগিতামূলক বিভাগে প্রদর্শিত হয়েছে। গল্পটি তুর্কি পর্বতমালার এক দূরবর্তী গ্রামকে পটভূমি করে, যেখানে জমি ও পরিচয়ের জন্য দুই গোষ্ঠীর মধ্যে তীব্র সংঘর্ষ গড়ে ওঠে।
হেজারান গোষ্ঠী দীর্ঘদিন টেরর আক্রমণ থেকে গ্রাম রক্ষা করে, আর বেজারি উপজাতি শহরে নিরাপত্তা খুঁজে ফিরে এসে আবার গ্রামেই ফিরে আসে। উভয়ের মধ্যে জমি নিয়ে বিরোধ তীব্র হয়, কারণ বেজারিরা পূর্বে উপত্যকার উর্বর ভূমি দখল করে হেজারানদের শ্রমিক হিসেবে ব্যবহার করেছিল।
চলচ্চিত্রে এক সাধারণ মানুষের স্বপ্ন ও ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি কীভাবে সামাজিক অশান্তি বাড়ায় তা দেখানো হয়েছে। প্রধান চরিত্র হেজারান গোষ্ঠীর একজন সদস্য রাতারাতি স্বপ্নে অতিপ্রাকৃত দৃষ্টান্ত পেয়ে নিজেকে আধ্যাত্মিক নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে।
তার স্বপ্নের ব্যাখ্যা গ্রামবাসীদের মধ্যে ভয় ও সন্দেহের বীজ বপন করে, যা দ্রুতই গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে শত্রুতা বাড়ায়। এই প্রক্রিয়ায় ব্যক্তিগত স্বার্থ ও জাতীয়তাবাদী রেটোরিক্স মিশে যায়, যা বৃহত্তর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে শক্তিশালী শাসকদের সমালোচনা হিসেবে কাজ করে।
চলচ্চিত্রের দৃশ্যাবলী ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে, ফলে দর্শককে চরিত্র ও ভূগোলের জটিলতা বুঝতে সময় লাগে। তবে একবার গল্পের মূল সুত্র স্পষ্ট হলে, স্বপ্ন ও অন্ধবিশ্বাসের মিশ্রণে গড়ে ওঠা উত্তেজনা তীব্রভাবে প্রকাশ পায়।
প্রধান অভিনেতা ক্যানার সিন্দোরুক, বারকায় আতেস, ফেয়াজ দুমান, নাজ গোকটান, ওজলেম তাশ, এরেন দেমির, সেলিম আকগুল, হিচি দেমি এবং নাজমি করামান চলচ্চিত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তাদের পারফরম্যান্স গল্পের আবেগময় স্তরকে সমৃদ্ধ করে।
ইমিন আলপার, যিনি স্ক্রিনরাইটার হিসেবেও কাজ করেছেন, এই চলচ্চিত্রে সামাজিক বিভাজন ও মানবিক দুর্বলতার গভীর বিশ্লেষণ উপস্থাপন করেছেন। তার পূর্বের কাজের তুলনায় এই চলচ্চিত্রে অতিপ্রাকৃত উপাদান ও লোককাহিনীর মিশ্রণ বেশি দেখা যায়।
বার্লিন চলচ্চিত্র উৎসবে এই কাজটি প্রতিযোগিতামূলক বিভাগে অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় আন্তর্জাতিক মনোযোগ পেয়েছে। উৎসবের দর্শক ও সমালোচকরা চলচ্চিত্রের ধীর গতি ও জটিল চরিত্র গঠনকে চ্যালেঞ্জিং বলে উল্লেখ করেছেন, তবে এর থিম্যাটিক গভীরতা প্রশংসা করা হয়েছে।
গল্পের মূল সংঘাত হেজারান ও বেজারির মধ্যে জমি ও পরিচয়ের লড়াই, যা শেষ পর্যন্ত একটি বৃহত্তর মানবিক ট্র্যাজেডিতে রূপান্তরিত হয়। চলচ্চিত্রে দেখানো হয়েছে কীভাবে একক ব্যক্তির স্বপ্ন ও ভয় বৃহৎ সামাজিক অশান্তির সূত্রপাত করতে পারে।
চলচ্চিত্রের শিরোনাম “সালভেশন” (কুর্তুলুশ) নিজেই দ্ব্যর্থক অর্থ বহন করে; এক পক্ষের জন্য এটি বেঁচে থাকার প্রচেষ্টা, অন্য পক্ষের জন্য তা শত্রুকে নির্মূল করার সংকেত। এই দ্বৈততা চলচ্চিত্রের মূল বার্তা—সত্যিকারের রক্ষা ও ধ্বংসের সীমা কতটা ম্লান হতে পারে—কে তুলে ধরে।
দৃশ্যাবলীতে তুর্কি গ্রাম্য পরিবেশ, পাহাড়ি পথ ও ঐতিহ্যবাহী গৃহের চিত্রাবলি রয়েছে, যা দর্শকের কাছে স্থানীয় সংস্কৃতির স্বাদ এনে দেয়। পাশাপাশি স্বপ্নের দৃশ্যগুলোতে অতিপ্রাকৃত রঙ ও আলো ব্যবহার করে মানসিক অশান্তি প্রকাশ করা হয়েছে।
সামগ্রিকভাবে, ইমিন আলপারের “সালভেশন” একটি ধীরগতি, গভীর বিশ্লেষণমূলক কাজ, যা সামাজিক বিভাজন, ধর্মীয় ভয় এবং রাজনৈতিক রেটোরিক্সের সংযোগকে চিত্রিত করে। চলচ্চিত্রটি দর্শকদেরকে মানবিক দুর্বলতা ও ক্ষমতার দৃষ্টান্ত নিয়ে চিন্তা করতে উদ্বুদ্ধ করে।
সমালোচকরা উল্লেখ করেছেন যে চলচ্চিত্রের অন্ধবিশ্বাস ও জাতীয়তাবাদী রেটোরিক্সের সমালোচনা বর্তমান বিশ্বে স্বৈরাচারী শাসকদের প্রতি সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করে। বিশেষ করে ইউরোপীয় দর্শকরা তুর্কি গ্রাম্য সংঘাতকে বিশ্বব্যাপী ক্ষমতার লড়াইয়ের প্রতিচ্ছবি হিসেবে দেখেছেন।
চলচ্চিত্রের সাউন্ডট্র্যাক ও সঙ্গীতও স্থানীয় লোকসঙ্গীতের উপাদান ব্যবহার করে, যা গল্পের পরিবেশকে আরও বাস্তবিক করে তুলেছে। সাউন্ড ডিজাইন স্বপ্নের দৃশ্যগুলোতে অতিপ্রাকৃত অনুভূতি জোরদার করে, ফলে দর্শকের মানসিক অভিজ্ঞতা সমৃদ্ধ হয়।



