33.3 C
Dhaka
Saturday, February 21, 2026
Google search engine
Homeব্যবসাঅর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী শেয়ারবাজার ও বিনিয়োগে ব্যাপক পরিকল্পনা ঘোষণা

অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী শেয়ারবাজার ও বিনিয়োগে ব্যাপক পরিকল্পনা ঘোষণা

অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী গতকাল চট্টগ্রাম মহানগরের কাট্টলী এলাকায় নিজের বাড়িতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপের সময় শেয়ারবাজার ও বিনিয়োগে ব্যাপক পরিকল্পনা ঘোষণা করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে সরকার শেয়ারবাজারে একটি বড় পরিবর্তন আনার জন্য প্রস্তুত।

এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে শেয়ারবাজারে উল্লেখযোগ্য রূপান্তর ঘটবে এবং তা দেশের সমগ্র ব্যবসাবাণিজ্য ও শিল্পে বিশাল বিনিয়োগের প্রবাহ সৃষ্টি করবে বলে তিনি বলেন। ফলে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাবে, রপ্তানি ও উৎপাদন বাড়বে এবং পণ্যের দামের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত হবে।

স্বাধীনতার পর চট্টগ্রাম থেকে প্রথমবারের মতো অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিযুক্ত হওয়া চৌধুরী, চট্টগ্রাম‑১১ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য এবং পূর্বে বাণিজ্যমন্ত্রী ছিলেন। মন্ত্রিত্ব গ্রহণের পর তিনি তৎক্ষণাৎ চট্টগ্রাম সফরে যান এবং বিমানবন্দরে বিপুল সংখ্যক বিএনপি নেতা‑কর্মীর স্বাগত পান। এছাড়া কাট্টলী ও মেহেদীবাগে তার বাড়িতে উপস্থিত নেতাদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যান।

বিমানবন্দরে উপস্থিত নেতাদের সংখ্যা শত শত, যারা চৌধুরীর নতুন দায়িত্ব গ্রহণের শুভেচ্ছা জানাতে একত্রিত হয়েছিলেন। এই সমাবেশে তিনি দেশের অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন।

মন্ত্রীর মতে, বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি অত্যন্ত দুর্বল। দারিদ্র্যের হার বাড়ছে, বিনিয়োগের প্রবাহ কমছে, কর্মসংস্থান হ্রাস পাচ্ছে এবং বেসরকারি খাতের মূলধনি আমদানি হ্রাসের ফলে ঋণ গ্রহণের পরিমাণও কমে গেছে।

মুদ্রাস্ফীতি, বেকারত্বের হার এবং বিদেশি সরাসরি বিনিয়োগের প্রবাহের হ্রাসই প্রধান উদ্বেগের বিষয় হিসেবে উল্লেখ করা হয়। এসব সূচক একত্রে দেশের অর্থনীতিকে কঠিন অবস্থায় নিয়ে এসেছে।

অর্থনৈতিক উন্নতির জন্য সরকার পূর্বে নির্ধারিত প্রোগ্রামের অধীনে বৃহৎ পদক্ষেপ গ্রহণের পরিকল্পনা করেছে। এই পদক্ষেপগুলো অর্থনীতিকে মুক্ত করে জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য রাখে।

শেয়ারবাজারে সাম্প্রতিক কিছু বৃদ্ধি ইতিবাচক সঙ্কেত হলেও তা বাজারকে সম্পূর্ণ পুনরুজ্জীবিত করতে যথেষ্ট নয়। সম্পূর্ণ পরিবর্তনের জন্য আইন ও বিধিমালার সংস্কার, স্বচ্ছ নিয়ন্ত্রক পরিবেশ গঠন এবং সাধারণ মানুষকে বিনিয়োগে উৎসাহিত করার ব্যবস্থা প্রয়োজন। প্রস্তাবিত সংস্কারগুলোর মধ্যে শেয়ারহোল্ডার অধিকার সুরক্ষা, লেনদেনের স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং তালিকাভুক্ত কোম্পানির আর্থিক প্রকাশনা মানদণ্ডের উন্নতি অন্তর্ভুক্ত।

বাজেট সংক্রান্ত দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কে চৌধুরী উল্লেখ করেন যে তিনি প্রচলিত বাজেটের পরিবর্তে এমন একটি বাজেট তৈরি করতে চান যেখানে জনগণ অর্থনীতিতে সরাসরি অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে। বাজেটের মূল লক্ষ্য হবে সমতাপূর্ণ স্তর তৈরি করা এবং উন্নয়নের সুফল সর্বজনীনভাবে পৌঁছানো। এছাড়া তিনি পৃষ্ঠপোষকতার রাজনীতি বন্ধের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।

শেয়ারবাজার ও বাজেটের এই নীতি পরিবর্তনগুলো বেসরকারি খাতের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে পারে এবং দেশীয় ও বিদেশি মূলধনের প্রবাহে উত্সাহ যোগাতে পারে। নতুন বিনিয়োগের সম্ভাবনা শিল্পখাতে উৎপাদন বাড়াবে, রপ্তানি বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে এবং মূল্য স্থিতিশীলতা বজায় রাখবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন।

বিশেষ করে রপ্তানি-নির্ভর গার্মেন্টস, টেক্সটাইল এবং জ্বালানি খাতে নতুন মূলধন প্রবেশের সম্ভাবনা বেশি, যা কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সরাসরি প্রভাব ফেলবে।

তবে সংস্কার বাস্তবায়নের জন্য আইনগত পরিবর্তন ও নিয়ন্ত্রক কাঠামোর পুনর্গঠন প্রয়োজন, যা সময়সাপেক্ষ হতে পারে। বাজারের প্রতিক্রিয়া অনিশ্চিত থাকায় বিনিয়োগকারীদের সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি।

সারসংক্ষেপে, বাংলাদেশ সরকার শেয়ারবাজার ও বাজেটের মাধ্যমে অর্থনৈতিক উন্নয়নের নতুন দিক নির্ধারণের সংকল্প প্রকাশ করেছে। এই উদ্যোগের সাফল্য নির্ভর করবে বাস্তবায়নের গতি ও স্বচ্ছতার ওপর, যা দেশের ব্যবসা ও বাজারের ভবিষ্যৎ গঠন করবে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
ব্যবসা প্রতিবেদক
ব্যবসা প্রতিবেদক
AI-powered ব্যবসা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments