ব্রাজিলের ফুটবলের শীর্ষ তারকা নেইমার, ৩৪ বছর বয়সে অবসরের কথা ভাবছেন এবং বর্তমান মৌসুমের শেষে তার চুক্তি শেষের সঙ্গে সঙ্গে পদত্যাগের সম্ভাবনা প্রকাশ করেছেন। তিনি সান্তোসে ফিরে এসে আবার মাঠে নামার পর, নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা প্রকাশ করেছেন।
সান্তোসে তার পেশাদার যাত্রা ২০০৯ সালে, মাত্র ১৭ বছর বয়সে শুরু হয়। তখনই তিনি ক্লাবের ফরোয়ার্ড হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন এবং দশকের বেশি সময় ধরে দলের মূল খেলোয়াড় হিসেবে কাজ করেছেন। এখন ৩৪ বছর বয়সে, তিনি জানিয়েছেন যে বছরের শেষের দিকে অবসর নেওয়া তার জন্য সম্ভব হতে পারে।
কেজ টিভি-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্টভাবে বলেছিলেন, “ডিসেম্বর এলে অবসর নিতে চাইব” এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে অনিশ্চয়তা স্বীকার করেছেন। তিনি যোগ করেন, “আমি এখনো জানি না আগামী বছর কী হবে, তবে আমার মন কী সিদ্ধান্ত নেবে তা দেখব”। এই মন্তব্যগুলো তার ক্যারিয়ার শেষের দিকে থাকা মানসিক অবস্থাকে প্রকাশ করে।
গত বছর জানুয়ারিতে, সৌদি আরবের আল হিলাল ক্লাব থেকে তিনি সান্তোসে ফিরে আসেন, যেখানে তিনি শৈশবের ক্লাবের সঙ্গে পুনরায় যুক্ত হন। ক্লাবের সঙ্গে তার চুক্তি এই বছরের শেষ পর্যন্ত নবায়ন করা হয়েছে, যা তাকে আরেকটি মৌসুমের জন্য দলকে সমর্থন করার সুযোগ দেয়।
নেইমার সান্তোসের শীর্ষ লিগে টিকিয়ে রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তবে ডিসেম্বরে তার ডান হাঁটুতে অস্ত্রোপচার হওয়ায় ব্রাজিলিয়ান মৌসুমের শুরুতে তিনি মাঠে উপস্থিত হতে পারেননি। দীর্ঘ পুনরুদ্ধার সময়ের পর, তিনি গত সপ্তাহে আবার মাঠে ফিরে আসেন।
চোট ও অস্ত্রোপচারের পর তার শারীরিক অবস্থা তাকে অবসরের কথা ভাবতে বাধ্য করেছে। বিশ্বকাপে অংশ নিতে তিনি ইচ্ছুক, তবে তার শারীরিক অবস্থার অনিশ্চয়তা তাকে এই লক্ষ্য থেকে দূরে সরিয়ে দেয়। তিনি স্বীকার করেছেন, “বিশ্বকাপের জন্য আমার প্রস্তুতি এখনো নিশ্চিত নয়”।
সাক্ষাৎকারে তিনি অবসরের বিষয়ে আরও স্পষ্টভাবে বলেছিলেন, “ডিসেম্বর এলে অবসর নিতে চাইব। এখন আমি বছর ধরে এগোচ্ছি, কিন্তু শেষের দিকে আমার মন কী বলে তা দেখব”। এই কথাগুলো তার ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্তের উপর হৃদয়ের অনুভূতির প্রভাবকে তুলে ধরে।
১৬ ফেব্রুয়ারি সান্তোসের কোপা লিবার্টাডোরার ম্যাচে, তিনি ভেলো ক্লাবের বিরুদ্ধে ৬-০ জয়ের গেমে মাঠে ফিরে আসেন। যদিও তিনি গোল করেননি, তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা দিয়ে দলকে কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছাতে সাহায্য করেন। এই পারফরম্যান্সটি তার দীর্ঘ সময়ের অনুপস্থিতির পর ফিরে আসার একটি ইতিবাচক সূচক।
নেইমার উল্লেখ করেন, “দলকে সর্বোচ্চভাবে সাহায্য করতে আমি ফিরতে চেয়েছি, তবে শতভাগ ফিট হয়ে ফিরতে নিজেকে কিছুটা সংযত রাখতে হয়েছে”। তিনি পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়ায় নিজের শারীরিক সীমাবদ্ধতা মেনে চলার গুরুত্বের ওপর জোর দেন।
ব্রাজিলের নতুন মৌসুমের শুরু থেকে, তিনি মোট ১০টি ম্যাচ মাঠের বাইরে ছিলেন, যা তার শারীরিক সমস্যার কারণে হয়েছে। এই সময়ে সান্তোসের অন্যান্য খেলোয়াড়দের ওপর অতিরিক্ত দায়িত্ব পড়ে, তবে তার অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্ব এখনও দলের জন্য অপরিহার্য।
নেইমার শেষ পর্যন্ত তার অবসরের সিদ্ধান্ত নিজের হৃদয়ের ইচ্ছার ওপর নির্ভর করবে বলে প্রকাশ করেছেন। তিনি বলছেন, “বছরের শেষের দিকে আমার মন যা বলবে, সেটির ওপরই সব নির্ভর করবে”। তাই তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এখনো অনিশ্চিত, তবে তিনি মাঠে ফিরে এসে দলের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।



