ইরান ও মার্কিন সরকার গালফ অঞ্চলে সামরিক সংঘাতের ঝুঁকি বাড়ছে, কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা হ্রাস পেয়েছে এবং উভয় পক্ষের সামরিক প্রস্তুতি তীব্রতর হয়েছে। তেহেরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা এখন সরাসরি যুদ্ধের সম্ভাবনা হিসেবে প্রকাশ পাচ্ছে। এই পরিস্থিতি আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও তেল বাজারের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
মার্কিন সরকার গালফে ২০০৩ সালের ইরাক আক্রমণের পর সর্ববৃহৎ সামরিক মোতায়েন চালু করেছে। এ মোতায়েনে বিমানবাহিনী, নৌবাহিনী ও ভূ-সামরিক শক্তি অন্তর্ভুক্ত, যা ইরানের পারমাণবিক সুবিধা লক্ষ্য করে সম্ভাব্য আক্রমণের প্রস্তুতি নির্দেশ করে। এই পদক্ষেপকে ইরান ও তার মিত্ররা আক্রমণাত্মক সংকেত হিসেবে ব্যাখ্যা করছে।
ইজরায়েলি সরকার তেহেরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে মার্কিন সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে সম্ভাব্য যৌথ সামরিক পদক্ষেপের পরিকল্পনা করছে। যদিও এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি, তবে প্রস্তুতি পর্যায়ে ইতিমধ্যে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু নেতৃত্বাধীন ইজরায়েলি সরকার এই সম্ভাব্য অপারেশনকে নিরাপত্তা হুমকি হিসেবে বিবেচনা করছে।
গত জুন মাসে মার্কিন ও ইজরায়েলি বিমানবাহিনী তেহেরানের সামরিক ও পারমাণবিক সুবিধায় আক্রমণ চালায়, যা এক বছরের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো সরাসরি আঘাত হানার উদাহরণ। সেই আক্রমণকে ইরানীয় কর্তৃপক্ষের পারমাণবিক উন্নয়নকে থামানোর জন্য জরুরি পদক্ষেপ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। এখন উভয় দেশই একই ধরনের পদক্ষেপ পুনরায় নেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।
গালফের তেল উৎপাদনকারী দেশগুলো সম্ভাব্য সামরিক সংঘাতের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতার ভয় প্রকাশ করেছে। তারা উল্লেখ করেছে যে কোনো বড় আঘাত মধ্যপ্রাচ্যের অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা কাঠামোকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। এই দেশগুলো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছ থেকে দ্রুত কূটনৈতিক হস্তক্ষেপের আহ্বান জানাচ্ছে।
ইজরায়েলি কর্মকর্তারা যুক্তরাষ্ট্র ও তেহেরানের মধ্যে পারস্পরিক অবিশ্বাস অতিক্রম করা কঠিন বলে মন্তব্য করেছেন এবং নিকট ভবিষ্যতে সামরিক উত্তেজনা বাড়ার সম্ভাবনা উল্লেখ করেছেন। তারা জোর দিয়ে বলেছেন যে বর্তমান পরিস্থিতিতে কূটনৈতিক সমঝোতা অর্জন করা চ্যালেঞ্জিং। এই দৃষ্টিভঙ্গি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার অগ্রগতি না থাকলে সংঘাতের ঝুঁকি বাড়বে বলে ইঙ্গিত দেয়।
আঞ্চলিক বিশ্লেষকরা তেহেরানকে অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসী বলে সমালোচনা করছেন, কারণ সে আন্তর্জাতিক সমঝোতার জন্য অপেক্ষা করে পারমাণবিক ক্ষমতা বজায় রাখতে চায়। ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামরিক শক্তি বৃদ্ধি তাকে চিত্রহীন অবস্থায় ফেলেছে, কারণ তিনি এই শক্তি হ্রাস করলে রাজনৈতিক মর্যাদা হারানোর ঝুঁকিতে আছেন। তাই বর্তমান কৌশলগত অবস্থান উভয় পক্ষকে সামরিক পথে অগ্রসর হতে বাধ্য করছে।
“উভয় পক্ষ তাদের অবস্থান কঠোরভাবে বজায় রাখছে; কোনো সমঝোতা না হলে সংঘাতের ঝুঁকি বাড়বে,” একজন বিশ্লেষক মন্তব্য করেছেন। তিনি যোগ করেন যে রেডলাইন থেকে সরে না গেলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠবে।
যদি সামরিক সংঘাতের দিকে অগ্রসর হয়, তবে গালফের তেল সরবরাহে বিঘ্ন, শিপিং রুটের নিরাপত্তা হ্রাস এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের উত্থান প্রত্যাশিত। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক সমতা নষ্ট হয়ে আরও বিস্তৃত সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এই সম্ভাব্য পরিণতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে দ্রুত কূটনৈতিক পদক্ষেপ নিতে উদ্বুদ্ধ করছে।
বর্তমানে কোনো সরাসরি কূটনৈতিক সমঝোতার চিহ্ন দেখা যাচ্ছে না, এবং উভয় পক্ষের সামরিক প্রস্তুতি অব্যাহত রয়েছে। ভবিষ্যতে কোনো আলোচনার সূচনা বা নতুন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গৃহীত না হলে, গালফ অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনা বাড়তে পারে।



