29.7 C
Dhaka
Saturday, February 21, 2026
Google search engine
Homeশিক্ষাঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ভাষা চর্চার সীমাবদ্ধতা ও উন্নতির কথা জানান

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ভাষা চর্চার সীমাবদ্ধতা ও উন্নতির কথা জানান

শহীদ মিনারের প্রভাতফেরিতে অংশ নেওয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিয়াজ আহমেদ খান আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও শহীদ দিবসের সমন্বয়ে ভাষা আন্দোলনের শিকারের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে মন্তব্য করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে বাংলা ভাষা সর্বজনীনভাবে প্রচার করা এখনও সম্পূর্ণ সফল হয়নি, তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কিছু অগ্রগতি লক্ষ্য করা গেছে।

উপাচার্য বলেন, ভাষা চর্চা শুধু শিক্ষার বিষয় নয়, এটি সমাজের প্রতিটি স্তরে ধারণ এবং ব্যবহারকে অন্তর্ভুক্ত করে। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে বহু উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যার ফলে পরিস্থিতি কিছুটা উন্নত হয়েছে, তবে এখনো পূর্ণাঙ্গ বিস্তার অর্জন করা বাকি।

ইভেন্টের সময় তিনি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে ১৯৫২ সালের ভাষা শিকারের স্মরণে বিনম্র শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। তিনি অতিরিক্তভাবে ১৯৬৮, ১৯৬৯, ১৯৭১, ১৯৯০ এবং ২০২৪ সালে দেশের জন্য সর্বোচ্চ আত্মত্যাগকারী ব্যক্তিদের প্রতি সম্মান প্রকাশ করেছেন।

উপাচার্য উল্লেখ করেন, মাতৃভাষা সংরক্ষণে সকল জাতিগত গোষ্ঠীর ছোট-বড় ভাষা অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি, কারণ ভাষা মানবজাতির সাংস্কৃতিক সমৃদ্ধির ভিত্তি। তিনি বলেন, বাংলা ভাষার জন্য যারা জীবন ঝুঁকিতে রেখে সংগ্রাম করেছেন, তাদের ত্যাগের ফলে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জিত হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের উপলক্ষে প্রতিটি মাতৃভাষার সংরক্ষণে সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন, যাতে সব ভাষা সমানভাবে সম্মানিত হয়। ভাষা সংরক্ষণকে মানবজাতির সার্বিক কল্যাণের সঙ্গে যুক্ত করে তিনি সকলকে সক্রিয় অংশগ্রহণের আহ্বান জানান।

উপাচার্য উল্লেখ করেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের মধ্যে বাংলা ভাষার ব্যবহার ও গবেষণাকে উৎসাহিত করতে বিভিন্ন কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। এসব উদ্যোগের মধ্যে ভাষা কর্মশালা, গবেষণা প্রকল্প এবং প্রকাশনা সমর্থন অন্তর্ভুক্ত।

তিনি বলেন, এই কর্মসূচিগুলো শিক্ষার্থীদের ভাষা দক্ষতা বাড়াতে এবং বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির প্রতি গভীর বোঝাপড়া গড়ে তুলতে সহায়ক। তদুপরি, বিশ্ববিদ্যালয় স্থানীয় সম্প্রদায়ের সঙ্গে সহযোগিতা করে ভাষা সচেতনতা বৃদ্ধি করার পরিকল্পনা করছে।

উল্লেখযোগ্য যে, উপাচার্য ভাষা চর্চার ক্ষেত্রে প্রযুক্তির ভূমিকা তুলে ধরেছেন। তিনি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, অনলাইন কোর্স এবং সামাজিক মিডিয়া ব্যবহার করে বাংলা ভাষার প্রচারকে ত্বরান্বিত করার সম্ভাবনা উল্লেখ করেন।

ইভেন্টের শেষে তিনি শিক্ষার্থী ও শিক্ষক উভয়ের প্রতি আহ্বান জানান, যাতে তারা ভাষা সংরক্ষণে সক্রিয় ভূমিকা গ্রহণ করে এবং বাংলা ভাষার ব্যবহারকে দৈনন্দিন জীবনে অন্তর্ভুক্ত করে। তিনি বলেন, এই ধরনের সমষ্টিগত প্রচেষ্টা ভাষার ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করবে।

উপাচার্য আরও উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের বার্তা কেবল স্মরণ নয়, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ভাষা সংরক্ষণে দায়িত্বশীল করে তোলার আহ্বান। তিনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকার ও নাগরিক সমাজকে একত্রে কাজ করার পরামর্শ দেন।

শেষে তিনি শিক্ষার্থীদের জন্য একটি ব্যবহারিক পরামর্শ দেন: দৈনন্দিন জীবনে বাংলা শব্দের ব্যবহার বাড়াতে ছোট লক্ষ্য নির্ধারণ করুন, যেমন প্রতিদিন কমপক্ষে একটি বাংলা প্রবন্ধ পড়া বা সামাজিক মিডিয়ায় বাংলা পোস্ট করা। এভাবে ভাষা চর্চা স্বাভাবিক রুটিনের অংশ হয়ে যাবে।

উপাচার্য নিয়াজ আহমেদ খান এই বক্তব্যের মাধ্যমে ভাষা আন্দোলনের ঐতিহাসিক গুরুত্বকে পুনরায় জোর দিয়ে, বাংলা ভাষার সর্বজনীন প্রচারের জন্য বাস্তবিক পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন। তার আহ্বান শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজের সকল স্তরে ভাষা সংরক্ষণে সক্রিয় অংশগ্রহণের দিকে ইঙ্গিত করে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: Banglastream
শিক্ষা প্রতিবেদক
শিক্ষা প্রতিবেদক
AI-powered শিক্ষা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments